Alexa
রোববার, ২২ মে ২০২২

সেকশন

epaper
 

এভাবে মৃত্যুর দায় নেবে কে?

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২১, ২৩:৩৫

ছবি: সংগৃহীত ওরা কি আমার বাবাকে ফিরিয়ে দিতে পারবে? কার কারণে আমার বাবা আজ নালায় ডুবে প্রাণ হারাল? এটা কি অব্যবস্থাপনা নয়? এভাবে কেন নালা খোলা পড়ে থাকবে? মানুষ পড়ে ডুবে মরবে? এসব কথা বলছিলেন মুরাদপুরে নালায় পানিতে ডুবে নিখোঁজ হওয়া সালেহ আহমদের সন্তান মো. মাহিম। আজ বৃহস্পতিবার নগরীর খতিবের হাট এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সঙ্গে বাবাকে খুঁজছিলেন তিনি। একদিন আগে বুধবার সকালে মুরাদপুর মোড়ে খোলা নালায় পানিতে পড়ে নিখোঁজ হন সালেহ আহমেদ। তিনি চকবাজার এলাকার সবজি বিক্রেতা। 

শুধু সালেহ আহমেদ নয় গত দুই মাসে নগরীতে জলাবদ্ধতার কারণে খাল ও নালায় পড়ে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত তিনজন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। গত ৩০ জুন নগরীর চশমা খালে যাত্রীভর্তি সিএনজি পড়ে যায়, মারা যান এক নারী ও সিএনজি চালক। 

জুন মাসে নগরীর চাঁন্দগাও এলাকায় রিকশায় সন্তানসহ খোলা নালায় পড়ে ডুবে যান এক মধ্যবয়স্ক নারী, একই ঘটনা ঘটে নগরীর দুই নম্বর গেট সংলগ্ন সিঅ্যান্ডবি এলাকায়ও। জুন মাসের মাঝামাঝিতে ফুটপাত থেকে হঠাৎ নালায় পড়ে যান এক পথচারী এভাবে বৃষ্টিতে প্রতিনিয়ত নগরী তলিয়ে গেলেই ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। 

নগরী পানিতে তলিয়ে গেলে কোথায় ফুটপাত, কোথায় নালা আর কোথায় সড়ক তা বোঝার উপায় থাকে না। অনেক খাল এবং নালার ওপর স্ল্যাব নেই, নেই কোনো বিপদসূচক চিহ্ন, জলাবদ্ধতা প্রকল্পের কাজের কারণে প্রায় সব খালের পাড় অরক্ষিত, খালের পাশে ওয়াল বা লোহার বেষ্টনী কিছুই নেই। জলাবদ্ধতা হলে পথচারীরা বুঝতেই পারছে না কোথায় খাল, কোথায় নালা। ফলে হঠাৎ পড়ে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন তারা। 

মুরাদপুর এলাকার ব্যবসায়ী আজমীর হোসেন বলেন, এখানে দুই নম্বর গেট থেকে বহদ্দারহাট পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার খালের পাড় দুই বছর ধরে বেহাল অবস্থা। জলাবদ্ধতা প্রকল্পের কাজ দেড় বছর ধরে বন্ধ, এটা কেন জানি না? খালের পাড়ে বড় বড় লোহার পাত গেঁড়ে রাখা হয়েছে, লোহার বড় মাথা বের করে আছে। সব সরঞ্জাম রাস্তার পাশে পড়ে আছে। কী কাজ হচ্ছে বুঝে আসছে না? আর পুরো নালা খোলা, কেউ পড়লে বাঁচার মতো অবস্থা নেই। নালার ওপর স্ল্যাব না বসালে আরও মানুষ মরবে। 

জলাবদ্ধতা প্রকল্পের পরিচালক লে. কর্নেল শাহ আলী আজকের পত্রিকাকে বলেন, এভাবে মৃত্যু খুবই দু: দুঃখজনক। এ অংশে নালার কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। ভূমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় আমরা অর্ধেক কাজ করে ফেলে রেখেছি। আমরা সিডিএ কে বলেছি ভূমি অধিগ্রহণ যত দ্রুত সম্ভব করে দিতে। না হয় কাজ শুরু করতে পারছি না। আমরা যেসব খালে কাজ করছি, তার দুই পাশে লোহার বেষ্টনী দেব। রিটেইনিং ওয়ালও হবে। যাতে এ ধরনের দুর্ঘটনা না হয়। 

তিনি বলেন, চশমা খালের দুর্ঘটনা হয়েছে সিটি করপোরেশনের দায়িত্বহীনতার কারণে। সেখানে সড়কের ওপর সিঁড়িতে ধাক্কা খেয়ে সিএনজি খালে পড়েছে। সড়কে সিঁড়ি আসল কীভাবে? তা ছাড়া চশমা খালে আমরা কাজ করছি না এটা তাদের দায়িত্ব। 

পাল্টা জবাবে সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল আলম বলেন, নগরীর সব নালা খালে সিডিএ জলাবদ্ধতা প্রকল্পের কাজ করছে। তারা এসব কাজ শেষ করে আমাদের বুঝিয়ে দিলে আমরা দায়িত্ব নেব। এখন সব দায় দায়িত্ব তাদের। 


নগর পরিকল্পনাবিদ আশিক ইমরান বলেন, দুই সংস্থার অবহেলায় নগরবাসী প্রাণ হারাবে এটা মেনে নেওয়া যায় না। এসব প্রাণহানি অপরিকল্পিত কাজের দায়ে হচ্ছে। নালায় অন্তত বিপদ সূচক লাল পতাকা চিহ্ন বা বেষ্টনীতে থাকা উচিত? যারাই কাজ করুক, নগরীতে এ দুটি সংস্থাকেই এসব কাজ করতে হবে। এভাবে দায় এড়াতে পারে না তারা। আর যাতে কোনো প্রাণহানি না হয় অবিলম্বে সে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। 

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    টাউট-বাটপারে ছেয়ে গেছে আদালত প্রাঙ্গণ: কক্সবাজার জেলা জজ

    আকাশে মেঘ হলেই চলে যায় বিদ্যুৎ

    এক সড়কেই দেড় শ বাঁক, প্রতিদিন দুর্ঘটনা

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রবাসীকে হত্যার অভিযোগ 

    পুকুর থেকে যুবতীর মরদেহ মরদেহ উদ্ধার

    ভুয়া বিচারপতি পরিচয়দানকারী বিপ্লব সাজাপ্রাপ্ত আসামি

    বাঁধ ভেঙে ডুবল পাকা ধান

    ধানের সংকটে বন্ধ হচ্ছে চট্টগ্রামের অনেক চালকল

    রিয়ালকে নিরাশ করে পিএসজিতেই থেকে গেলেন এমবাপ্পে

    দাম বেড়েছে কীটনাশকেরও

    স্বামীকে ভিডিও কল দিয়ে স্ত্রীর ‘আত্মহত্যা’

    জম্মু-কাশ্মীরে টানেল ধসে ১০ জনের মৃত্যু