Alexa
বৃহস্পতিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

সেকশন

epaper
 

করোনা-যুদ্ধ বাড়িয়েছে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার, বাড়ছে তাপমাত্রা

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২২, ১৪:৫৭

 চলতি বছর কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসারণ হয়েছে ৪ হাজার ৬০ কোটি টন। ছবি: এএফপি  প্রায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে করোনাভাইরাস মহামারি ভুগিয়েছে বিশ্বকে। তীব্র ঝাঁকুনি খেয়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। সেই ঝাঁকুনি আরও কঠিন করে তুলেছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এ দুই সংকটের কারণে বিশ্বজুড়ে জীবাশ্ম জ্বালানি তথা তেল-গ্যাস-কয়লার ব্যবহার বেড়েছে যথেষ্ট। অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে তুলতে বিশ্বের দেশগুলো যেই জ্বালানি তেলের ওপর ঝুঁকেছিল, ঠিক তখনই শুরু হয় রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট। এই সংকট বিশ্বের দেশগুলোকে জ্বালানির পুরোনো উৎস কয়লা ও গ্যাসের ওপর নির্ভর করে তুলেছে। আর এসব জীবাশ্ম জ্বালানি বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। 

এ বছর এখন পর্যন্ত কার্বন ডাইঅক্সাইডের নিঃসারণ হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৬০ কোটি টন। যার মধ্যে কেবল জীবাশ্ম জ্বালানি থেকেই নিঃসৃত হয়েছে ৩ হাজার ৬৭০ কোটি টন। বাকি কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসারণ হয়েছে ভূমিভিত্তিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে। গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসারণ নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল কার্বন প্রজেক্টের প্রতিবেদন গ্লোবাল কার্বন বাজেট থেকে এ তথ্য জানা গেছে। 

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিসরে চলমান জাতিসংঘ আয়োজিত বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৭-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মূল কারণ কার্বন ডাইঅক্সাইডের নিঃসারণ ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এ বছর ধারণ করা হচ্ছে, গত বছর থেকে অন্তত ১ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে, যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। 

আজ শুক্রবার প্রকাশিত গ্লোবাল কার্বন বাজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর বিশ্বের বিভিন্ন উৎস থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসারণের পরিমাণ ৪ হাজার ৬০ কোটি টন। তবে এটি এখনো সর্বোচ্চ নয়। এর আগে, ২০১৯ সালে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসারণ হয়েছিল। সে বছর ৪ হাজার ৯০ কোটি টন কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসৃত হয়েছিল। তবে এ বছর এখনো আরও ৫০ দিন থাকায় ২০১৯ সালের চেয়েও বেশি পরিমাণ কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গবেষকেরা। 

এ বছর কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসারণের ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করেছে জ্বালানি তেল ও গ্যাস। জীবাশ্ম জ্বালানি উপজাতগুলো থেকে এ বছর সবচেয়ে বেশি নিঃসৃত হয়েছে। 

এ বিষয়ে সিসেরো ক্লাইমেট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষণা পরিচালক গ্লেন পিটার্স বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ‘কোভিড বিপর্যয়ের পর অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে জ্বালানি তেলের ব্যবহার হয়েছে বেশি এবং ইউক্রেন সংকটের কারণে কয়লা ও গ্যাসের ব্যবহার বেড়েছে বেশি।’ 

শতাধিক গবেষকের গবেষণার পরিপ্রেক্ষিতে প্রকাশিত গ্লোবাল কার্বন বাজেট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর বিশ্বের মোট কার্বন নিঃসারণের ৯০ শতাংশ হয়েছে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে। পিটার্স বলেছেন, এ তথ্য আমাদের জানাচ্ছে যে, নিঃসারণ বৃদ্ধির এই ধারাবাহিকতা গভীরভাবে উদ্বেগজনক। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যখন প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে ঐকমত্যে পৌঁছেছিলাম তখনকার চেয়ে এখন অন্তত ৫ শতাংশ বেশি কার্বন ডাইঅক্সাইড বেশি নিঃসৃত হয়েছে।’ 

গবেষকেরা বলছেন, এ তথ্যই নির্দেশ করে যে বর্তমান বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমিয়ে প্রাকশিল্পযুগ সময়ের তাপমাত্রায় নিয়ে যাওয়া কতটা কঠিন।  

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    জলবায়ু পরিবর্তন: ঝুঁকিতে দেশের ২ কোটি শিশু

    স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে ওজোন স্তর: গবেষণা 

    কপ ২৭: ক্ষতিপূরণে রাজি ধনী দেশ, জলবায়ু রক্ষায় দ্বিধা

    উন্নত বিশ্বের জলবায়ু সহায়তায় শুভংকরের ফাঁকি: তথ্যমন্ত্রী

    দাবির চেয়ে ৩ গুণ বেশি নিঃসরণ হয় গ্রিন হাউস গ্যাস

    জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর বছরে প্রয়োজন ২ ট্রিলিয়ন ডলার 

    ঢাকায় বিএনপির পদযাত্রা স্থগিত

    ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে অন্তঃসত্ত্বা ‘প্রেমিকার’ ধর্ষণ মামলা

    রিংকুসহ ২২ বাংলাদেশিকে আঙ্কারায় আনা হচ্ছে: কনসাল জেনারেল

    পা দিয়ে লিখে এইচএসসি পাস, হতে চান বিসিএস কর্মকর্তা

    ভূমিকম্প: তুরস্কে তীব্র ঠান্ডায় উদ্ধার ব্যাহত, বাড়ছে ক্ষোভ

    না.গঞ্জে রেস্তোরাঁয় ঢুকে গুলির ঘটনায় মালিকদের বিক্ষোভ