Alexa
সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

সেকশন

epaper
 

বীজ, সার ও উপকরণ পেলেন, টাকা কোথায়?

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২২, ১৪:৩১

বীজ, সার ও উপকরণ পেলেন, টাকা কোথায়? যশোরের শার্শায় গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ প্রণোদনা কার্যক্রমের এক প্রকল্প থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ-চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে দেওয়া লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হলেও তিন সপ্তাহেও প্রতিবেদন দেওয়া হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যশোরের শার্শা উপজেলায় গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষে দুটি পর্যায়ে ২৬০ জন কৃষককে প্রণোদনা দেওয়া হয়। এই চাষিদের প্রত্যেকের জন্য বরাদ্দ এক কেজি বীজ, দুই রকমের ৪০ কেজি রাসায়নিক সার, উপকরণ পলিথিন, বালাইনাশক, সুতলি বাবদ ২ হাজার ৪৯৫ টাকা এবং চাষ ও শ্রমিকের খরচ বাবদ অর্থ ২ হাজার ৮০০ টাকা।

সূত্র আরও জানায়, প্রথম পর্যায়ে ১৩০ জনকে প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টি নির্ধারিত হলেও ১১টি ইউনিয়নে ১০ জন করে ১১০ জনকে নির্বাচন করা হয়। কিন্তু খাতাকলমে সংখ্যাটি ১৩০ রয়ে গেছে। এই ১১০ জনকে শুধু বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। উপকরণ এবং চাষ-শ্রমিক বাবদ কোনো অর্থ দেওয়া হয়নি।

দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ১৩০ জন কৃষকের মধ্যে ১১৫ জনকে প্রণোদনার আওতায় আনা হয়েছে। এঁদের সার, বীজ এবং চার কেজি করে পলিথিন দেওয়া হয়েছে। প্রণোদনার কোনো ধরনের অর্থ তাঁরা পাননি। অথচ প্রকল্প শেষ করে টাকা পরিশোধের বিল-ভাউচার জমা দিয়ে বরাদ্দ উত্তোলনের প্রক্রিয়া চলছে। এভাবে দুই ধাপে প্রায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রক্রিয়া চলছে বলে অভিযোগে জানা গেছে।

গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উৎপাদন প্রণোদনার আওতায় থাকা কৃষক শার্শার গোকর্ণ গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান অভিযোগ করেন, তিনি শুধু সার, বীজ, পলিথিন আর সুতলি পেয়েছেন। তবে তিনি কোনো টাকা পাননি।

শার্শার কায়বা গ্রামের আব্দুর রউফ বলেন, বিষয়টি নিয়ে গত ১৬ অক্টোবর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন শার্শা ইউপি চেয়ারম্যান কবির উদ্দীন আহম্মদ। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, প্রণোদনার এই অর্থ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ কুমার মণ্ডল আত্মসাতের চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি তিনি উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুখেন্দু কুমার মণ্ডলের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের থেকে এমওপি সার নিয়ে কৃষকদের কাছে উচ্চমূল্যে বিক্রির অভিযোগও করেন। পরে ওই দিনই অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. একলাছ উদ্দিন অভিযোগ তদন্তের জন্য উপপরিচালক মঞ্জুরুল হককে পাঁচ কার্যদিবসের সময় দিয়ে একটি চিঠি দেন, কিন্তু সেই তদন্ত তিন সপ্তাহেও শেষ হয়নি।

এদিকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার ১০ দিন পর অতিরিক্ত পরিচালক মো. একলাছ উদ্দিন অবসরে চলে যান। এখন অতিরিক্ত পরিচালক পদেই চলতি দায়িত্বে রয়েছেন উপপরিচালক মঞ্জুরুল হক। অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত না করেই তিনি স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করছেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে শার্শা ইউপি চেয়ারম্যান কবির উদ্দীন আহম্মদ বলেন, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ প্রণোদনা কার্যক্রমসহ কয়েকটি বিষয় নিয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন অতিরিক্ত পরিচালক। কিন্তু এখন পর্যন্ত অভিযোগের ব্যাপারে কেউ তাঁর সঙ্গে কথা বলেননি।

এ প্রসঙ্গে শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ মণ্ডল দাবি করেন, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ প্রণোদনা কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। ভুয়া কাগজপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, টাকা পাওয়ার পর কৃষকদের টাকা দেওয়া হবে। আর অন্য যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলো সত্য নয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর অঞ্চলের উপপরিচালক মঞ্জুরুল হক বলেন, মোবাইল ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রণোদনার টাকা পরিশোধ করা হয়। তাই অনিয়মের সুযোগ নেই। ভুল-বোঝাবুঝির কারণে সম্ভবত চেয়ারম্যান কবির উদ্দীন আহম্মদ ওই অভিযোগ করেছিলেন। আলোচনার মাধ্যমে এই ভুল-বোঝাবুঝির অবসানের সুযোগ ছিল। তবে তদন্ত চলছে, দাপ্তরিক কাজের কারণে এখনো তদন্ত সম্পন্ন হয়নি।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    পঠিতসর্বশেষ

    এলাকার খবর

     
     

    আলহামদুলিল্লাহ বলার ফজিলত

    ‘সবকিছুর দাম বাড়লে গরিবের হইবেটা কী’

    মাঠে সক্রিয় হচ্ছেন আব্বাস

    রোহিঙ্গা নীতি-কৌশল আমূল পাল্টানো দরকার

    লোভের হাত থেকে ছাড় পেল না হজও

    সংস্কৃতকে হটিয়ে বাংলা সাহিত্য

    এক বছর ধরে হল প্রস্তুত, উদ্বোধন না হওয়ায় উঠতে পারছেন না ববির ছাত্রীরা

    বগুড়ায় ছেলের বন্ধুরা খুন করে সাবেক নারী ইউপি সদস্যকে: পুলিশ

    সাতক্ষীরায় দেড় কোটি টাকার সোনার বারসহ যুবক আটক

    ‘পদ বাণিজ্য’: বরগুনা বিএনপির ৪ নেতার বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ 

    গোপালপুরে মেয়রের গাড়িবহরে এমপির সমর্থকদের হামলার অভিযোগ

    হত্যা মামলার ৮ বছর পর একজনের মৃত্যুদণ্ড, ৪ জনের যাবজ্জীবন