Alexa
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২

সেকশন

epaper
 

ইডেন কলেজ সমাচার

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:৩১

ইডেন কলেজ সমাচার মারপিট করে খবরের জন্ম দেওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। যে কলেজটিতে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, সেটি ক্ষমতার দাপট দেখানোর এক ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। যখন যে রাজনৈতিকদল রাষ্ট্রের ক্ষমতায় থাকে, তখন সেই দলের ছাত্রনেতারা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে যে কাণ্ড-কীর্তি করতে থাকেন, তা নিয়ে এক মহাকাব্য 
লেখা সম্ভব।

ক্ষমতা এক দারুণ ব্যাপার। তার লিঙ্গভেদ নেই। ক্ষমতাই ঠিক করে দেয়, কে কাকে মারবে আর কে মার খাবে। দলের মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা না থাকলে পেশিশক্তি নানা রকম ম্যাজিক দেখায়। ম্যাজিক রিয়ালিজম নিয়ে যে সাহিত্যিক বা শিল্পীরা বহুদিন ধরে নানা ধরনের সৃষ্টির সঙ্গে আমাদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন, তাঁরা অবলীলায় ইডেন কলেজে এসে নতুন অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারেন। ক্ষমতা হাতে থাকলে এখানে ম্যাজিকের মতোই নানা ঘটনা ঘটতে থাকে। শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করা যেন কোনো ঘটনাই নয়। হল দখল, চাঁদাবাজি, ওয়াই-ফাইয়ের অবৈধ সংযোগ বিষয়ে মারপিট নিয়ে ইডেন কলেজের ছাত্র-নেতৃত্ব যতটা উদ্গ্রীব, পড়াশোনা নিয়ে ততটা আগ্রহ থাকলে কলেজটি অনেক সুনামের মালিক হতো। কিন্তু ঘটনাগুলোর কোনোটিই পড়াশোনাকেন্দ্রিক নয়। সবকিছুতেই রয়েছে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার প্রবণতা।

ইডেন কলেজের হলগুলোয় সিট বরাদ্দ করার ‘অধিকার’ কবে যে কলেজ কর্তৃপক্ষের হাতে ছিল, তা কে জানে। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনই মূলত কে কোথায় থাকবেন, কে সিট পাবেন, কে পাবেন না—এসব ব্যাপারে মোড়লি করে থাকে। মূলত বিরোধীপক্ষের শিক্ষার্থীরাই নিগৃহীত হন। কিন্তু ক্ষমতা এমন এক জিনিস, যা আপন-পর মানে না। ক্ষমতার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী উঠে আসছে মনে করা হলে বিনা কারণেই দলের ভেতরে বা বাইরে অন্যকে দমন করার প্রবণতাও গড়ে ওঠে। ইডেন কলেজেও তাই ছাত্রলীগেরই দুই পক্ষের মধ্যে লেগে গেল মারপিট!

লজ্জা, ঘৃণা একসঙ্গে অস্তিত্বকে গ্রাস করে, যখন শোনা যায় কোনো অভিযোগে কোনো ছাত্রীকে বিবস্ত্র করে সেই ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হবে সবখানে—এ রকম হুমকিও দেয় ছাত্র-নেতৃত্ব। ইডেন কলেজে যখন কাউকে বিবস্ত্র করে ছবি তোলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তখন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতারা সে বিষয়টি কী চোখে দেখছেন, সেটা জানতে ইচ্ছে করে। তাঁদের তৈরি করে দেওয়া তদন্ত কমিটি তাঁদেরই কর্মীরা কেন মানতে চাইছেন না, সেটাও বোঝা দরকার।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তৈরি হয়েছে জ্ঞানচর্চা ও জ্ঞান সৃষ্টির জন্য। সবকিছু দেখে মনে হয় এই দুটি বিষয় ছাড়া আর সব বিষয়েই দক্ষ হওয়ার প্রবণতায় মেতেছে ছাত্র-নেতৃত্ব। বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে শিক্ষকেরা কতটা অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে পারেন আর কতটা ছাত্র-নেতৃত্বের কর্তৃত্ব মেনে নিয়ে কাজ করতে বাধ্য হন, সে প্রশ্নটির মীমাংসা এখনো হয়নি। ছাত্ররাই যদি ছড়ি ঘোরান, তাহলে সেই প্রশ্নের মীমাংসা হবে কী করে?

ইডেন কলেজ মারপিটের পীঠস্থান হয়ে উঠেছে। বহুদিন ধরেই তারা মারপিটে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের প্রতিযোগিতায় টিকে আছে। মারপিটকেই যদি কলেজের ‘আদর্শ’ বানিয়ে ফেলা হয়, তাহলে মুক্তি কোথায়?

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    বাঙালি ইপিআর সদস্যদের কুঠিবাড়ি বিদ্রোহ

    শহীদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন

    মতভেদ কমিয়ে মুক্তিযুদ্ধে গতি আনার সম্মেলন

    ৪৫০ টাকার চেক

    ধৈর্য ধরুন, সংযত হোন

    একাত্তরের বিজয়ের মাস ও ২০২২-এর বাস্তবতা

    শীতে বাড়ে বাত ব্যথার প্রকোপ

    ৪৪টি করাতকলের ৩৯টি অবৈধ, হুমকিতে পরিবেশ

    ফুলকপির গ্রাম জয়নগর

    রাস্তাঘাট বন্ধ করে সমাবেশ করা সংবিধানের কোথাও লেখা নেই: আইনমন্ত্রী 

    ব্রাজিল-ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচের পর ছুরিকাঘাতে যুবককে হত্যা

    বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে চলছে নেতা-কর্মীদের জন্য খিচুড়ি রান্না