Alexa
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২

সেকশন

epaper
 

জলবায়ু পরিবর্তন

নদীভাঙনে বদলে যাচ্ছে মোরেলগঞ্জের মানচিত্র

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩:২৮

নদীভাঙনে বদলে যাচ্ছে মোরেলগঞ্জের মানচিত্র বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে উপকূলীয় এলাকার মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। অনাবৃষ্টি, খরা, নদীভাঙন ও লবণাক্ততা দিন দিন বাড়ছে। ফলে ফসলহানি, সুপেয় পানির সংকট ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাচ্ছে। নদীভাঙনে বদলে যাচ্ছে উপজেলার মানচিত্র। অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে স্বাস্থ্যসেবাও রয়েছে ঝুঁকির মধ্যে।

জানা গেছে, মোরেলগঞ্জ উপজেলা ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। ৫ লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। আশির দশক থেকে নদীতীরবর্তী দুই পারের মোরেলগঞ্জ সদর ইউনিয়ন, বারইখালী, খাউলিয়া, হোগলাবুনিয়া, বলইবুনিয়া, পুটিখালী, পঞ্চকরণ, তেলিগাতি, বিশেষ করে বহরবুনিয়া ইউনিয়নসহ ৯টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামের হাজারো পরিবার প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের সঙ্গে যুদ্ধ করে বসবাস করছে।

প্রতিবছর পানগুছি নদীর অব্যাহত ভাঙনে ৫০০ হেক্টর জমির রোপা আমন বিনষ্ট হয়েছে। বসতবাড়ি হারিয়ে অনেকেই এলাকা ছেড়ে গেছে। কর্মসংস্থানের তাগিদে শহরমুখী হয়েছে কয়েক হাজার পরিবার।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে এবারে প্রাকৃতিক বিপর্যায়ে রোপা আমন রোপণে একটু দেরি হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের করণীয় বিষয়ে প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে নীতিনির্ধারকদের গবেষণার মাধ্যমে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

এদিকে এই উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ২০১৭ সাল থেকে পানি স্যানিটেশন, রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং সোলার পিএসএফের মাধ্যমে খাওয়ার পানির সংকট দূর করতে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সুপেয় পানি ব্যবহারে ভূ-তলদেশ থেকে পানি উত্তোলন না করে বৃষ্টির পানি ধরে রাখতে প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ইতিমধ্যে একনেকে পাস হয়েছে। উপকূলীয় ১০টি জেলায় ২২২টি ইউনিয়নে ১ লাখ আর ডব্লিউ এইচ পানির ট্যাংক সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, এই উপকূলীয় অঞ্চলের প্রতিটি গ্রামে নিরাপদ পানি ব্যবহারের জন্য সরকারি বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি করে জলাধার স্থাপন করতে পারলে স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা পাবে উপকূলীয় বাসিন্দারা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আকাশ বৈরাগী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব কাটিয়ে উঠতে হলে এলাকাভিত্তিক বন্যা, খরা ও লবণসহিষ্ণু জাত ব্যবহার করতে হবে। পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়া খালগুলো পুনর্খনন, পর্যাপ্ত স্লুইসগেট নির্মাণ, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, রবি ফসলের জন্য ক্ষুদ্র পুকুর খনন, বৃক্ষ রোপণ ও বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে রাস্তার দুই ধারে পর্যাপ্ত তালগাছ রোপণ করতে হবে। এ ছাড়া নালা পদ্ধতিতে উঁচু জমিতে চাষাবাদ বৃদ্ধি করতে হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে ইতিমধ্যে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে লজিক প্রকল্পের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদ কাজ করছে। ঘষিয়াখালী থেকে মোরেলগঞ্জ শহর হয়ে সন্ন্যাসী পর্যন্ত বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্প একনেকে পাস হয়েছে।’

জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, ‘বেড়িবাঁধ হলে লবণাক্ততা দূর হবে এবং ফসল উৎপাদন বাড়বে। এতে এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে পরিবর্তন আসবে। আর বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে কাবিটা প্রকল্পের মাধ্যমে রাস্তার দুই পাশে তালগাছের চারা রোপণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    খেতের ৬ টাকার ফুলকপি বাজারে বিক্রি ৩০ টাকায়

    বিভিন্ন স্থানে জয়িতা সম্মাননা

    উপহারের ১৬ ঘরে বসত নেই, বারান্দায় বিচালি

    ‘জনসচেতনতা ছাড়া আইন করে দুর্নীতি বন্ধ হবে না’

    চায়না কমলালেবু চাষ করে বাজিমাত শিক্ষক দম্পতির

    নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার যন্ত্রপাতি

    ফোন চেক করে ‘ছাত্রদল বলে’ ৫ জনকে মেরে থানায় দিল ছাত্রলীগ 

    খেতের ৬ টাকার ফুলকপি বাজারে বিক্রি ৩০ টাকায়

    বিভিন্ন স্থানে জয়িতা সম্মাননা

    পল্টনে মোড়ে মোড়ে পুলিশের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা–কর্মীরা 

    উপহারের ১৬ ঘরে বসত নেই, বারান্দায় বিচালি

    ‘জনসচেতনতা ছাড়া আইন করে দুর্নীতি বন্ধ হবে না’