Alexa
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২

সেকশন

epaper
 

‘প্রকল্প যায় প্রকল্প আসে পানির সমস্যা থাকেই’

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:১৪

পানি শুনানিতে বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন নিয়ে নারী, শিশু ও কৃষকেরা অংশ নেন। ছবি: আজকের পত্রিকা সুপেয় পানির সমস্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুণ্ডুমালা পৌরসভা এবং এর আশপাশের কয়েকটি এলাকায়। কোথাও কোথাও ভূগর্ভের ১ হাজার ১০০ ফুট নিচেও মিলছে না পানির অস্তিত্ব। এ অবস্থায় নানামুখী সংকটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, বারবার আশ্বাস দিয়েও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে ব্যর্থ হচ্ছেন।

জলবায়ু পরিবর্তন ও খরার কারণে পানির সংকট দেখা দেওয়া এলাকার মানুষের জবানবন্দি থেকে এসব তথ্য নেওয়া হয়। বিশ্ব জলবায়ু কর্ম সপ্তাহ উদ্‌যাপন উপলক্ষে বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এই পানি শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মুণ্ডুমালা পৌরসভার আদিবাসী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এই শুনানির আয়োজন করে বেসরকারি উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক ও বরেন্দ্র অঞ্চল যুব সংগঠন ফোরাম। পানি শুনানিতে বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন নিয়ে নারী, শিশু ও কৃষকেরা অংশ নেন।

শুনানিতে মুণ্ডুমালা মাহালীপাড়ার বাসিন্দা ক্রিস্টিনা হেমব্রম (৪৫) বলেন, `এক কিলোমিটারের বেশি দূরে গিয়ে মাত্র এক কলস পানি সংগ্রহ করি। একদিন আমার কোমর ভেঙে যায়। আর্থিক অনটনে ভালোভাবে চিকিৎসা করাতে পারিনি।’

পিরনপুকুর গ্রামের আঙ্গুরী বেগম (৩৮) বলেন, ‘তীব্র খরা এবং পানির অভাবে আমার একমাত্র সম্বল তিনটি ছাগল মারা গেছে।’ মিশনপাড়ার সুজল্লা মার্ডি (৪০) বলেন, ‘দাবদাহের কারণে আমার একটি গরু মারা গেছে।’ দিনমজুর আলবিকুস হেমব্রম (৪৮) জানান, একে তো পানির সংকট, তার ওপরে অনাবৃষ্টি। এতে মানুষের রোগবালাইও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

স্থানীয়রা বলেন, `মিথ্যে আশ্বাস আমাদের আর বিশ্বাস হয় না। জনপ্রতিনিধিরা শুধুই কথা বলেন। এই প্রকল্প আসে, সেই প্রকল্প আসে। কিন্তু আমাদের পানির সমস্যা সমাধান হয় না। আমরা চাই, পানির সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।’

শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন মুণ্ডুমালা পৌরসভার মেয়র সাইদুর রহমানও। তিনি বলেন, ‘কয়েক বছরে পৌর এলাকায় ২৫০টি সাবমার্সিবল পাম্প বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন সেগুলো অকেজো হয়ে পড়ছে পানির স্তর আরও নিচে নেমে যাওয়ার কারণে। এখন নতুন করে পাম্প বসাতে গেলে এক হাজার ফুট নিচে গিয়েও পানি মিলছে না। অন্য এলাকা থেকে কীভাবে পানি এনে সমস্যার সমাধান করা যায় সে বিষয়ে আমরা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করছি। কার্যকর প্রকল্প পেতে দেনদরবার করে যাচ্ছি।’

শুনানিতে গবেষক পাভেল পার্থ বলেন, `জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে বরেন্দ্র অঞ্চলে অনাবৃষ্টি, তীব্র দাবদাহসহ কিছু কিছু এলাকায় পানির সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য আমরা মোটেও দায়ী নই। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য আমাদের যে লস এবং ড্যামেজ হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ পাওয়া আমাদের ন্যায়সংগত অধিকার।’

শুনানিতে কৃষি খাতে পানিসংকটের চিত্র তুলে ধরেন বরেন্দ্র অঞ্চল জনসংগঠন ফোরামের সভাপতি ও জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত কৃষক নূর মোহাম্মদ। আরও বক্তব্য দেন বারসিকের সমন্বয়কারী জাহাঙ্গীর আলম, বরেন্দ্র যুব সংগঠন ফোরামের আহবায়ক রুবেল হোসেন মিন্টু প্রমুখ। শুনানি পরিচালনা করেন বারসিকের বরেন্দ্র অঞ্চল সমন্বয়কারী ও গবেষক শহিদুল ইসলাম।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    গজারিয়া বাজারের নৌকার কদর, জোগায় জীবিকা

    ‘অজানা আতঙ্কে’ যাত্রী নেই

    ‘নিজ নিজ জায়গা থেকে দুর্নীতিকে না বলতে হবে’

    ৪৪টি করাতকলের ৩৯টি অবৈধ, হুমকিতে পরিবেশ

    ফুলকপির গ্রাম জয়নগর

    স্বাস্থ্য খাতে নানামুখী সংকট, বঞ্চিত নিম্ন আয়ের মানুষ

    গজারিয়া বাজারের নৌকার কদর, জোগায় জীবিকা

    স্যামন মাছ ভাজা

    ‘অজানা আতঙ্কে’ যাত্রী নেই

    ‘নিজ নিজ জায়গা থেকে দুর্নীতিকে না বলতে হবে’

    শীতে বাড়ে বাত ব্যথার প্রকোপ

    ৪৪টি করাতকলের ৩৯টি অবৈধ, হুমকিতে পরিবেশ