Alexa
শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২

সেকশন

epaper
 

অসততা

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২২, ০৮:৪২

অসততা কেউ যদি আজকাল বাজারে যান, তাহলে অদ্ভুত কিছু ব্যাপারের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হবে। ধরুন, দুই কেজি ওজনের লাল আটা কিনলেন। দোকানি দাম রাখলেন ১৩০ টাকা এবং তিনি গর্বের সঙ্গে বললেন, ‘স্যার, আটার কিন্তু বাড়তি দাম ধরি নাই।’ যে কথাটি গোপন করলেন, সেটি হলো তিনি বাড়তি দামে এই আটা কেনেনওনি। তাঁর গুদামে এখনো থরে থরে সাজানো যে আটা আছে, সেটা পুরোনো দামেই কেনা। ক্রেতা কিন্তু খুশি হলেন। কারণ, দোকানি যদি যেকোনো একটা দাম ধরে নিয়ে বলতেন, জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন থেকে এই দামেই লাল আটা কিনতে হবে, তাহলে সেটাই মেনে নিতে হতো। কারণ, ইতিমধ্যে মানুষ জেনে গেছে, দাম বাড়ার সঙ্গে কার্যকারণ খোঁজাখুঁজির কোনো মানে নেই। বহু ব্যাপারেই বাংলাদেশে এখন যুক্তির ধার ধারা হয় না। বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহুদূর। তাই জীবনের সব প্রান্তে যুক্তি-তর্ক অসার হয়ে পড়ছে আর সেখানে অন্ধবিশ্বাস, পেশিশক্তি, অসততা, সিন্ডিকেট এসে জায়গা করে নিচ্ছে। ভাবনা এবং ভাবনা প্রকাশের ভাষাও আলাদা হয়ে যাচ্ছে। মুখে যেই লোক অসাম্প্রদায়িকতার বাণী ছড়াচ্ছেন, আদতে নিজ বাড়িতে তিনি চরম সাম্প্রদায়িক এবং রক্ষণশীল হয়ে জীবন পার করে দিচ্ছেন। এ এক আজব সময় এসে উপস্থিত হয়েছে, যখন সংঘবদ্ধ প্রতিবাদ দেখা যায় না। যাঁরা হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করে তফসিল এবং পুনঃ তফসিল করে চলেছেন, যে ব্যবসায়ীরা জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে চলেছেন ইচ্ছেমতো, যে ঠিকাদারেরা ভেজাল জিনিসের মিশ্রণে তৈরি করছেন রাস্তা, ভবন, তাঁদের জবাবদিহির ব্যবস্থাই নেই। লোকদেখানো মামলা হয়তো তাঁদের বিরুদ্ধে দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু ভেতরে-ভেতরে এই নষ্টামিটা থেকেই যায়। তালিকাটি অনেক দূর বিস্তৃত করা যায়, কিন্তু আলোচনার স্বার্থে এখানেই ইতি টানা যাক।

ফিরে আসি বাজারে। একটা মজার খবর প্রকাশিত হয়েছে আজকের পত্রিকায়। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর তরতর করে যখন জিনিসপত্রের দাম নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছিল, তখন চালের মিলগুলো চাল বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছিল আরও লাভের আশায়। দাম একটু স্থিতিশীল হলে তারা নিজেরাই ব্যবসায়ীদের ফোন করে চাল নিতে বলছে। এ বিষয়টিকেই বলা হয় অসততা।

সাধারণ ক্রেতাকে বাঁচাবে কে? নিত্যপণ্যের দাম যদি কৃত্রিমভাবে বাড়তে থাকে, তাহলে অসহায় মানুষ যাবে কোথায়?

অসাধুতার বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার রাজনীতিও আর চালু নেই। জনগণও বুঝে গেছে, রাজনীতিতে চটকদার ফাঁকা বুলি রাজনীতিবিদদের কাছে যতটা প্রয়োজন, জনগণের পাশে এসে দাঁড়ানো ততটা প্রিয় নয়। ফলে রাজনীতিতে ক্ষমতা বদলের সঙ্গে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের যে স্বপ্ন দেখত মানুষ, এখন আর সেই স্বপ্ন তারা দেখে না। তাহলে কি অসততা কিংবা অসাধুতা সামাজিক দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে? উদ্ভট মনে করা হলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রশ্নটিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    ভুয়া ও মৃত জেলেদের নামে চাল আত্মসাৎ চেয়ারম্যানের

    বালু উত্তোলন বন্ধই হচ্ছে না

    ভুয়া ও মৃত জেলেদের নামে চাল আত্মসাৎ চেয়ারম্যানের

    আটক ১৭ জেলেকে ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

    ঘরে ঘরে চোখ ওঠা রোগী সুযোগে বাড়ল ড্রপের দাম

    একুয়ানের ইতালি যাওয়া হলো না, লাশ হয়ে ফিরলেন বাড়ি

    বিমানবন্দরে ট্রেনের ধাক্কায় কলেজশিক্ষার্থীর মৃত্যু

    করোনায় একদিনে ৫ জনের মৃত্যু

    বিশ্বকাপে প্রদর্শন করা হবে ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ জার্সি

    উত্তরায় বাসচাপায় যুবক নিহত

    বাইরে থেকে শিকল লাগানো ঘরে মিলল মা ও ২ সন্তানের মরদেহ

    ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন কাল: আলভোরাদা প্রাসাদে উঠবেন কে