Alexa
রোববার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

সেকশন

epaper
 

চকবাজারের আগুন: প্রবাস নয়, স্বপন গেলেন পরলোকে 

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২২, ২০:৩২

স্বপন সরকার। ছবি: সংগৃহীত হবিগঞ্জ জেলার লাখাই থানার বামই গ্রামের রাকেশ সরকারের ছেলে স্বপন সরকার। বয়স মাত্র ১৮ বছর। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট। পেশায় রুটি তৈরির কারিগর। কাজ করেছেন পুরান ঢাকার বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁয়। এরই ফাঁকে ফাঁকে চলছিল শ্রমিক হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে যাওয়ার প্রস্তুতি। বাকি ছিল শুধু মেডিকেল পরীক্ষার আনুষ্ঠানিকতা। কিন্তু ভিসা পেতে দেরি হওয়ায় বসে থাকেননি স্বপন। আবারও যোগ দেন কাজে। ২০ দিন আগে কাজ নেন চকবাজারের পুরান ঢাকার কামালবাগ লেনের বরিশাল হোটেলে। উদ্দেশ্য ছিল মেডিকেল পরীক্ষার টাকার সংস্থান করা। 

প্রতিদিনের মতো গত রোববার (১৪ আগস্ট) রাতভর কাজ করেছেন স্বপন। ইচ্ছে ছিল পরের দিন রাতে গ্রামের বাড়ি ফিরবেন। আর এরপরের দিন করাবেন মেডিকেল পরীক্ষা। কিন্তু সেই দিনই তার মেডিকেল পরীক্ষা হলো তবে তা বিদেশে যাওয়ার জন্য নয়, চির বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতার জন্য সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের মর্গে। আর তাতেই তার সহকর্মী-স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। এর ঘন্টাখানেক পরেই শুরু হয় স্বপনের মরদেহের ময়নাতদন্ত। তা শেষ হলেই বাড়ি ফিরবেন স্বপন। 

মিটফোর্ড হাসপাতালের হিমাগারের সামনে দেখা হয় তাঁর বড় ভাই সজল সরকারের সঙ্গে। ভাইকে হারিয়ে বিলাপ করে কাঁদছিলেন তিনি। ফোনে কার সঙ্গে যেনো কথা বলছিলেন তিনি। ফোনের এ পাশ থেকে তাঁর আহাজারি, মা’রে কি জবাব দেব? ভাইয়ের তো মেডিকেল করার ডেট ছিল। আমরা শেষ হইয়া গেলাম। কথা বলতে বলতে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন সজল। পরে তাকে সান্ত্বনা দেন দুই যুবক। 

জানতে চাইলে সজল বলেন, ভাইয়ের ওমান যাওয়ার কথা ছিল। সব কাগজপত্র হয়েছিল। ভাই আমাকে বলছিল কাল-পরশু মেডিকেল করাবে। শুধু মেডিকেল করা বাকি। কিন্তু সেটা আর করা হলো না। বিদেশ যেতে ব্যাগসহ প্রয়োজনীয় সবকিছুই তৈরি ছিল তার। মেডিকেল শেষে ভিসা পেলেই বিমানে চরার কথা ছিল আমার ভাইয়ের। 

সজল আরও জানান, রোববার রাতে কাজ শেষে সকাল ৮টার দিকে ঘুমাতে যায় স্বপন। তার আগে কথা হয়েছে। ঘুম থেকে উঠেই বাড়ি ফেরার কথা ছিল তার। ঘুমালেও আর জাগতে পারেননি। সেই ঘুম তাকে নিয়ে গেল পরপারে। 

সজলের পাশে থাকা সেই দুই যুবক জানালেন, স্বপনের গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার লাখাই থানার বামই গ্রামে। মাত্র ২০ দিন আগে সেই হোটেলে কাজ নেন স্বপন। এরই ফাঁকে সে ওমান যাওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। কিন্তু সব প্রস্তুতি থামিয়ে দিল বরিশাল হোটেলের আগুন। কাজ শেষে ক্লান্ত শরীরে ঘুমিয়ে থাকা স্বপনসহ তার আরও পাঁচ সহকর্মীর প্রাণ যায় এই আগুনে।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    পঠিতসর্বশেষ

    এলাকার খবর

     
     

    দুর্গাপূজায় কোনো অঘটন চায় না সম্প্রীতি বাংলাদেশ 

    মরদের রাস্তায় এনে গ্রামবাসীর মানববন্ধন, আসামি গ্রেপ্তারের হুঁশিয়ারি

    মরিয়ম মান্নানকে অনলাইনে ‘হেনস্তাকারীরা’ সিআইডির নজরে

    হাসপাতালে চিকিৎসকের অপেক্ষায় থেকে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ, চিকিৎসকসহ আটক ২ 

    স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওয়ার্ড বয়ের বিরুদ্ধে রোগীকে ধর্ষণের অভিযোগ

    সেনাবাহিনীতে যুক্ত হলো নতুন সামরিক বিমান

    দুর্গাপূজায় কোনো অঘটন চায় না সম্প্রীতি বাংলাদেশ 

    ইভিএম বিরোধিতা রাজনৈতিক কৌশল, অন্তরে ঠিকই বিশ্বাস করে: ইসি আলমগীর

    মরদের রাস্তায় এনে গ্রামবাসীর মানববন্ধন, আসামি গ্রেপ্তারের হুঁশিয়ারি

    মরিয়ম মান্নানকে অনলাইনে ‘হেনস্তাকারীরা’ সিআইডির নজরে

    হাসপাতালে চিকিৎসকের অপেক্ষায় থেকে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ, চিকিৎসকসহ আটক ২ 

    মেয়ের জিম্মায় বাড়ি ফিরলেন রহিমা বেগম