Alexa
রোববার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

সেকশন

epaper
 

গার্ডার পড়ে নিহত রুবেলের মরদেহ নিতে মর্গে এসেছেন পাঁচ স্ত্রী

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২২, ১৮:৪৮

গার্ডার পরে নিহত রুবেলের মরদেহ নিতে মর্গে এসেছেন পাঁচ স্ত্রী। ছবি: আজকের পত্রিকা  রাজধানীর উত্তরার জসীমউদ্দিন সড়কে বিআরটি প্রকল্পের গার্ডার চাপায় নিহত রুবেল হাসানের (৬০) মরদেহের দাবি নিয়ে মর্গের এসেছেন পাঁচ নারী। তারা সবাই নিজেদের নিহতের স্ত্রী দাবি করছেন। মর্গের সামনে আসা কয়েকজন নারীর সঙ্গে রুবেলের সন্তানরাও রয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে রাজধানীর আগারগাঁও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে একে একে আসতে থাকেন এই নারীরা। তারা সবাই নিহত রুবেলের এত বিয়ের কথা জানেন না বলে জানিয়েছেন।

স্ত্রী দাবি করে মর্গের সামনে এসেছেন, নারগিস বেগম, রেহেনা বেগম, শাহিদা বেগম, সালমা আক্তার পুতুল ও তাসলিমা আক্তার লতা। টিপু নামের আরেক স্ত্রী সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা গেছেন। এ ছাড়া বাকি একজনের নাম জানা যায়নি।

গার্ডার পরে নিহত রুবেলের মরদেহ নিতে মর্গে এসেছেন পাঁচ স্ত্রী। ছবি: আজকের পত্রিকা  শাহিদার বাড়ি মানিকগঞ্জে। লতা গাজীপুরের। পুতুল মিরপুর ১০-এর। আর নারগিস ঢাকার দোহারের। শাহিদার দাবি তাঁর সন্তান আছে। সেই সন্তানের নাম সানজিদা আক্তার রত্না। সে বলছে, বাবার সম্পদের জন্য অনেকে স্ত্রী হিসেবে দাবি করছেন। এতগুলো স্ত্রী আমরা আগে জানতাম না। আজকে এসে জেনেছি। 

প্রথম স্ত্রী রেহানার বোন জামাই ও রুবেলের ভায়রা ভাই রহমত বলেন, ‘আমরা শরিয়তপুরে থাকি। আমাদের রুবেল বায়িং হাউসের ব্যবসা করতেন বলে জানতাম। আমরা তেমন একটা ঢাকায় আসতাম না। মৃত্যুর খবর শুনে আসলাম। শুনেছিলাম সে দ্বিতীয় আরেকটা বিয়ে করেছেন।’ 

অন্যদিকে, রুবেলের দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম জানা যায় শাহেদা। তাঁর ঘরে রত্না নামে ১৪ বছরের একটি মেয়ে আছে। তাঁর বাড়ি মানিকগঞ্জ সিঙ্গাইর এলাকায়। ঢাকায় উত্তরা থাকেন।

তবে, দ্বিতীয় স্ত্রী শাহেদা নিজেকে প্রথম স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে ১৯৯৯ সালে বিয়ে হয়েছে। আমিই প্রথম। আমাকে সে কখনো বলেনি তাঁর আরেকজন স্ত্রী আছে।’ 

গার্ডার পরে নিহত রুবেলের মরদেহ নিতে মর্গে এসেছেন পাঁচ স্ত্রী। ছবি: আজকের পত্রিকা  প্রথম স্ত্রীর আত্মীয় রহমত বলেন, ‘দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে তার একটি মেয়ে হয়েছে শুনেছিলাম। সেই স্ত্রীর আগে আরেকটি বিয়ে হয়েছিল। সেই ঘরের একটা ছেলেও আছে। ছেলেসহ রুবেলের সঙ্গে বিয়ে বসেন তিনি।’ 

রুবেলের তৃতীয় স্ত্রী দাবি করা আরেক নারীর নাম সালমা আক্তার পুতুল। মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় থাকেন তিনি। ঘরে বসে সেলাই মেশিনের কাজ করেন। ২০১৪ সালে রুবেলের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। রুবেলের সম্পর্কে তিনি জানতেন সে একজন ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসায়ী। তবে, রুবেলের সঙ্গে কোনো বিয়ের কোনো সনদ নেই তার। 

সনদ ছাড়া কীভাবে স্ত্রী দাবি করবেন জানতে চাইলে সালমা আক্তার পুতুল বলেন, আমাকে বিয়ে করেছে মিথ্যা কথা বলে। আমি জানতাম তাঁর স্ত্রী আছে মাত্র একজন। প্রথম ঘরের স্ত্রী অসুস্থ বলে আমাকে বিয়ে করেছে। কিন্তু বিয়ের পর দেখি আরও অনেকের সঙ্গেই তাঁর সম্পর্ক আছে। পাতা খন্দকার নামে তাঁর আরেক জন স্ত্রী আছে। তাঁর সঙ্গে কথা বললে আমাকে বলত মামাতো বোনের সঙ্গে কথা বলছি। পরে আমি প্রতারণার মামলা করি। মামলা আমার পক্ষেও আসে। এমনটাই দাবি তাঁর। 

এরপর পাতা খন্দকার নামে আরেকজন নিজেকে রুবেলের স্ত্রী হিসেবে দাবি করেন। যাকে রুবেল বিয়ে করেন ২০২০ সালের দিকে। অন্যদিকে পাতা খন্দকার বলেন, আমার সঙ্গে বিয়ে হয়েছে অনেক দিন আগে। তবে কবে হয়েছে স্পষ্ট বলেননি তিনি। তাঁর দাবি তিনিই দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী অসুস্থ থাকায় বাসায় কাজ করতেন। তখন তাদের বিয়ে হয়েছে। 

পাতা খন্দকার দাবি করেন, তিনি এ পর্যন্ত রুবেলের পেছনে অনেক টাকা খরচ করেছেন। যে গাড়িটি চাপা পড়ে দুমড়েমুচড়ে গেছে, সেটিও কেনার সময় ৬ লাখ টাকা দিয়েছিলেন রুবেলকে। মারা যাওয়ার আগেও তাঁর বাসায় গিয়ে ছিলেন রুবেল। তাঁর সঙ্গে সবারই ভালো সম্পর্ক। প্রথম স্ত্রীর বাড়িতেও তিনি যাতায়াত করতেন বলে দাবি করেন তিনি। 

এ ছাড়া নারগিস বেগম নামে রুবেলের স্ত্রীর দাবিদার আরও একজনসহ মোট পাঁচজন মর্গের সামনে এসে মরদেহ দাবি করছেন। আরেকজনের নাম টিপু। তিনি মারা গেছেন। রুবেলের সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ছাড়া বাকি একজনের নাম জানা যায়নি। 

রুবেলের সাতজন স্ত্রী আছে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে প্রথম স্ত্রীর আত্মীয় রহমত বলেন, এখন অনেকেই অনেক কিছু বলতে আসবে। কিন্তু তাতে কাজ হবে না। আমরা তাদের চিনিও না। আমরা প্রথম ঘরের আত্মীয়। আমরা সবাই এসেছি। আমাদের ঘরের প্রথম ছেলে আছে। 

এদিকে প্রথম স্ত্রীর ছেলে সন্তান বেঁচে যাওয়া হৃদয় বলেন, তাঁর জন্ম ১৯৯৫ সালে। অন্যদিকে শাহেদার সঙ্গে বিয়ে হয় ১৯৯৯ সালে। কিন্তু শাহেদা আরেক স্ত্রী আছে জানতেন না বলেই নিজেকে প্রথম স্ত্রী দাবি করেন তিনি। 

সোমবার বিকেলে ক্রেন দিয়ে একটি গার্ডার ওপরে তোলার সময় নিচে পড়ে যায়। এতে চলমান একটি প্রাইভেটকার সঙ্গে সঙ্গে দুমড়ে-মুচড়ে চ্যাপ্টা হয়ে যায়। গাড়িটিতে মোট সাতজন ছিলেন। পাঁচজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান হৃদয় ও রিয়া দম্পতি। নিহতরা হলেন, হৃদয়ের বাবা রুবেল, হৃদয়ের শাশুড়ি ফাহিমা খাতুন (৪০), ফাহিমার বোন ঝরণা আক্তার (২৮) এবং ঝণার দুই সন্তান জান্নাত (৬) ও জাকারিয়া (২)।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    পঠিতসর্বশেষ

    এলাকার খবর

     
     

    স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওয়ার্ড বয়ের বিরুদ্ধে রোগীকে ধর্ষণের অভিযোগ

    সেনাবাহিনীতে যুক্ত হলো নতুন সামরিক বিমান

    ইডেন কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, সভাপতি রিভাসহ আহত ১০

    খাটের নিচ থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, স্বামী আটক

    জাপানি নাগরিক হত্যা: ইছাহাকের খালাস স্থগিত

    রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শ্রমিকের মৃত্যু

    টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, নেই তাসকিন

    স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওয়ার্ড বয়ের বিরুদ্ধে রোগীকে ধর্ষণের অভিযোগ

    ‘উপাত্ত সুরক্ষা আইন’ ঢেলে সাজানোর দাবি টিআইবির

    মরীচিকা পড়া সেতুর কাজ পুনরায় শুরু, অনিয়ম নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ 

    সেনাবাহিনীতে যুক্ত হলো নতুন সামরিক বিমান

    সরকারের সব লেনদেন ‘নগদে’ করার পরামর্শ সংসদীয় কমিটির