Alexa
বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২

সেকশন

epaper
 

বিভিন্ন উপজেলা শহরে দিনে ৫-৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২২, ১২:২৫

লোডশেডিংয়ের কারণে হিজলার মাউলতলা স মিলে কাজ বন্ধ। ছবিটি গতকাল তোলা। আজকের পত্রিকা বরিশালের উপজেলা শহরগুলোতে তীব্র লোডশেডিংয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে। দিনে ৫-৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎনির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসা যেমন স মিল, রাইস মিল, ওয়ার্কশপ, তথ্যপ্রযুক্তির দোকানিরা লোকসানে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন বরিশালের বিভিন্ন উপজেলার গ্রামগঞ্জে অসহনীয় এ লোডশেডিং পরিস্থিতির দিন দিন অবনতি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যুৎ বিভাগ তাদের ঘাটতি না থাকার দাবি করলেও কেন এত লোডশেডিং এর জবাব দিতে পারেনি। জানা গেছে, বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ও ২-এর আওতাধীন ছয় লক্ষাধিক গ্রাহক সাম্প্রতিক সময়ে এ বিদ্যুৎবিভ্রাটে ভুগছেন।

হিজলা উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের মাউলতলার ব্যবসায়ী মনির হোসেন গতকাল বৃহস্পতিবার জানান, সকাল থেকে কোনো বিদ্যুৎ পাননি তাঁরা। এখানে বিদ্যুৎ যায়, আসে না। তিনি হতাশ কণ্ঠে বলেন, তাঁরা হয়তো কোনো রকম চলছেন। কিন্তু যাঁদের ব্যবসা বিদ্যুৎনির্ভর, তাঁরা পথে বসে যাচ্ছেন। অনেকের ফ্রিজ, ফ্যান ও অন্যান্য ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি বিকল হচ্ছে।

সকাল থেকে লোডশেডিংয়ের কারণে এ উপজেলার মাউলতলার পাশাপাশি দুটি স মিলের কাজ বন্ধ। স মিলমালিক মেহেদী হাসান এবং আলাউদ্দিন মোল্লা বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে মালামাল দিতে পারছেন না গ্রাহককে। চলতি মাস থেকে এ অবস্থা এতটা প্রকট যে, কর্মচারীদের মজুরি দিয়ে লাভ মিলছে না।

একই অবস্থা মেহেন্দীগঞ্জ ও মুলাদী উপজেলার। মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার কাজীরহাট থানার কম্পিউটার দোকানি মো. দিপু বলেন, সারা দিনে ৫-৬ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকে না। যে কারণে তাঁরা ছোট ব্যবসায়ীরা কোনো কাজই করতে পারেন না।

এদিকে জেলার উজিরপুরের ধামুরা সানুহার সড়কের সরদার ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের স্বত্বাধিকারী মো. রিপন সরদার গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বলেন, দেড় ঘণ্টা হলো বিদ্যুৎ নেই। সকালে আরও তিনবার গেছে। এই যাওয়া-আসা সারা দিনে পাঁচ-ছয়বার চলে। এমনটা চললে ব্যবসা কী করে চলবে? তিনি হতাশ কণ্ঠে বলেন, আগে দিনে অন্তত বিদ্যুৎ সরবরাহ ভালো ছিল, এখন অবস্থা একেবারেই নাজুক।

ধামুরা বন্দরের রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী আবুল বাশার বলেন, চার দিন ধরে বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার মধ্যেই আছে। ধামুরা বন্দরের স মিলমিস্ত্রি কমল বাড়ৈ বলেন, গাছ চিরতে পারলে পয়সা আসে। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হলে কাজ কী করে করবেন।

এ প্রসঙ্গে পল্লী বিদ্যুতের উজিরপুর জোনের ডিজিএম এনামুল হক বলেন, ‘আমাদের কোনো বিদ্যুতের ঘাটতি নেই, ঝোড়ো বাতাসের কারণে বা ফেইজ পড়ে যাওয়ার কারণে বিদ্যুৎবিভ্রাট হতে পারে। গোটা বরিশালে আমাদের বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই।’

বাকেরগঞ্জ উপজেলার একজন মিল ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আগে তেমন লোডশেডিং হতো না এখানে। কিন্তু ইদানীং দিনে-রাতে লোডশেডিংয়ের কারণে কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। ঝড়-বৃষ্টি থাকলে বিদ্যুতের আর দেখা মেলে না। একই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে, জেলার বানারীপাড়া, বাবুগঞ্জ উপজেলা থেকে।

এ বিষয়ে বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর মহাব্যবস্থাপক মৃদুল কান্তি চাকমা সাংবাদিকদের জানান, তাঁদের আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ২ ঘণ্টা লোডশেডিং করা হচ্ছে। লাইনে ত্রুটি হলে বিদ্যুৎবিভ্রাট দেখা দিতে পারে।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    অর্ধকোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা ‘সোনালী’

    জনসংখ্যা ১৬ কোটি, নিবন্ধন ২০ কোটি

    ধান ছেড়ে টমেটো চাষ

    সিসিকের ভান্ডার থেকে গায়েব ৫৩৫টি মিটার

    নদীর চর দখল করে ধান চাষ

    রাস্তা বন্ধ করল প্রতিবেশী ১২ পরিবার অবরুদ্ধ

    অর্ধকোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা ‘সোনালী’

    জনসংখ্যা ১৬ কোটি, নিবন্ধন ২০ কোটি

    ধান ছেড়ে টমেটো চাষ

    সিসিকের ভান্ডার থেকে গায়েব ৫৩৫টি মিটার

    নদীর চর দখল করে ধান চাষ

    রাস্তা বন্ধ করল প্রতিবেশী ১২ পরিবার অবরুদ্ধ