Alexa
রোববার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

সেকশন

epaper
 

বিসিএস মৌখিক পরীক্ষার পরামর্শ: দুঃখিত স্যার, বিষয়টি আমার জানা নেই

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২২, ১১:০৮

মো. রাকিবুর রহমান বিসিএস পরীক্ষায় তিনটি ধাপের মধ্যে প্রথম পছন্দের ক্যাডার পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা)। লিখিত পরীক্ষায় ভালো নম্বর, ক্যাডার বা ননক্যাডার জব পেতে যথেষ্ট হলেও প্রথম পছন্দের ক্যাডার পেতে হলে পরীক্ষার্থীকে ভালো করে লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষা দিতে হয়। ভালো করে ভাইভা পরীক্ষা দেওয়া মানে সবগুলো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারা নয়, বরং আমাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ধরন ও অভিব্যক্তি কতটা উন্নত, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ, বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে পরিস্থিতিটাকে কত স্বাভাবিক রাখা যায়, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। অভিজ্ঞতার আলোকে বিসিএস মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) প্রস্তুতিসংক্রান্ত পরামর্শ দিয়েছেন ৪০তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডার সুপারিশপ্রাপ্ত মো. রাকিবুর রহমান। 

প্রত্যেক মানুষের শক্তিশালী ও দুর্বল দিক আলাদা এবং প্রত্যেকের পড়াশোনার কৌশল আলাদা। প্রত্যেকে যাঁর যাঁর আলাদা সক্ষমতা ও কৌশল কাজে লাগিয়ে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছাতে পারেন। মৌখিক পরীক্ষায় ভালো করার জন্য আমি যেসব কৌশল অবলম্বন করেছিলাম এবং যেসব বই পড়েছিলাম, তা অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করা জরুরি না, তবে আপনি অনুসরণ করলে আপনার প্রথম পছন্দের ক্যাডার পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা সহায়ক হবে। ৪০তম বিসিএস ছিল আমার প্রথম চাকরির পরীক্ষা, তাই আমার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার পরিধি খুবই ছোট। আমার মনে হয় ভাইভা পরীক্ষায় ভালো করার জন্য দুটি কাজ করা উচিত। প্রথমত, To know thyself is the beginning of wisdom (Socrates)। প্রথমে একজন ভাইভা প্রার্থীর উচিত নিজেকে জানা, নিজেকে নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনা করা। নিজেকে জানার অনেকগুলো ধাপ হতে পারে। যেমন

  • একজন প্রার্থীর নিজ নাম, নামের অর্থ, এই নামে বিখ্যাত ব্যক্তি, জন্ম তারিখ, জন্ম সাল ও দিনে বিখ্যাত ঘটনা, পিতা-মাতার নামের অর্থ ও তাঁদের জন্ম সাল, নিজ স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কিত তথ্য, প্রিয় শিক্ষক, প্রিয় গায়ক, প্রিয় ব্যক্তি, প্রিয় বই, শখসহ যাবতীয় ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে মনোযোগী হওয়া উচিত। ধরুন, ভাইভা বোর্ডে একজন প্রার্থীকে জিজ্ঞেস করা হলো তাঁর শখ কী বা প্রিয় লেখক কে। এ রকম সহজ প্রশ্নেও প্রার্থী হতবিহ্বল হয়ে পড়তে পারে। তাই একজন প্রার্থীকে ভাইভা পরীক্ষায় উপস্থিত হওয়ার আগে তাঁর নিজ সম্পর্কিত প্রতিটি বিষয়ে চিন্তাভাবনা করে রাখা উচিত। নিজের সবল ও দুর্বল দিকগুলো শনাক্ত করা উচিত। সবল দিকগুলোর ওপর অধিকতর আস্থা অর্জন ও জীবনের প্রতি ক্ষেত্রে সবল দিকগুলো কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব, দুর্বল দিকগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা। যেমন—যদি একজন প্রার্থী কোনো একটি বিষয়ের ওপর বাংলা কিংবা ইংরেজিতে গুছিয়ে কথা বলতে না পারে, তবে রেগুলার আয়নার সামনে বসে বা পরিচিত কারও সামনে কোনো একটি টপিক নিয়ে নিজে নিজে জোরে জোরে কথা বলার অভ্যাস করা উচিত। আমি প্রায় রেগুলার আয়নার সামনে বসে এই কাজটি করতাম, যা ভাইভা বোর্ডে দারুণ কাজে দেয়। আমার মনে হয়েছিল আমি খুব আস্থার সঙ্গে আয়নার সামনে বসে সম্মানিত স্যারদের সঙ্গে কথা বলছিলাম।
  • পররাষ্ট্র/ পুলিশ/ এডমিন/ কাস্টমস/ সাধারণ শিক্ষা কেন আপনার প্রথম পছন্দ? এই প্রশ্নের উত্তর প্রস্তুত রাখুন। অবশ্যই বাজারের বই থেকে উত্তরটি প্রস্তুত করবেন না। আপনার পছন্দ ও অপছন্দকে বুঝতে শিখুন। একান্তই নিজের পছন্দ-অপছন্দকে বিশ্লেষণ করে এই প্রশ্নের উত্তর প্রস্তুত করুন। একজন প্রার্থী যত ব্যবহারিক উত্তর করবে, বোর্ড তাঁকে তত পজেটিভলি নেবে।
  • ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলুন, মানুষের সঙ্গে বিনয়ী আচরণ করুন। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা হিসেবে আপনার কী করণীয় ও বর্জনীয়, তা বুঝতে শিখুন এবং আজ থেকেই ব্যক্তিগত জীবনে তা অনুশীলন করুন। ধরুন, একজন প্রার্থীর কাউকে সালাম দেওয়ার অভ্যাস নেই; কিন্তু তিনি ঠিক করলেন ভাইভা বোর্ডে ঢুকতে ও বের হতে প্রত্যেক সম্মানিত স্যারকে কয়েকবার করে সালাম দেবেন। আমি নিশ্চিত, সেই প্রার্থী একবার সালাম দিতেই ভুলে যাবেন। তাই আমার পরামর্শ হলো, যা কিছুই ভালো ও সুন্দর, তা আজ থেকেই ব্যক্তিগত জীবনে অনুশীলন করুন। আপনি ব্যক্তিগত জীবনে যে রকম, ভাইভা বোর্ডে নিজের অজান্তেই আপনার ব্যক্তিত্ব ও বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠবে।
  • মক ভাইভা অথবা কারও সঙ্গে কোনো বিষয়ে যুক্তিতর্ক করার সময় একজন প্রার্থীকে তর্কে জেতার জন্য অযথা, যুক্তিহীন তর্ক করা উচিত নয়। কোনো বিষয়ে আপনার জানা কম থাকলে বা ভুল জানা থাকলে সেটা স্বীকার করুন। একজন প্রার্থীর কোনো বিষয়ে কম জানা বা অজ্ঞতাকে স্বীকার করার অভ্যাস না থাকলে তিনি ভাইভা বোর্ডে তর্কে জড়িয়ে পড়তে পারেন। সব প্রশ্নের উত্তর পারতেই হবে, এ রকম কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কোনো প্রশ্নের উত্তর জানা না থাকলে বা বিষয়টি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা না থাকলে, আপনি বিনয়ের সঙ্গে বলতে পারেন ‘দুঃখিত স্যার, বিষয়টি আমার জানা নেই/মনে করতে পারছি না। আমার বিষয়টি সম্পর্কে জানা উচিত ছিল।’ 

সব প্রশ্নের উত্তর পারতেই হবে, এ রকম কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কোনো প্রশ্নের উত্তর জানা না থাকলে বা বিষয়টি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা না থাকলে, আপনি বিনয়ের সঙ্গে বলতে পারেন ‘দুঃখিত স্যার, বিষয়টি আমার জানা নেই।

ইংরেজিতে কথা বলতে অনেকের দুর্বলতা থাকে। ভাইভা বোর্ডে প্রায়ই ইংরেজিতে প্রশ্ন করে। ইংরেজিতে প্রশ্ন করলে, ইংরেজিতেই উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবেন। ধরুন, একজন প্রার্থীকে তাঁর ‘নিজ পরিচিতি’ ইংরেজিতে বলতে বললেন। প্রার্থী এরকমভাবে উত্তর করবে না, যাতে মনে হয় তিনি উত্তরটি মুখস্থ করে এসেছেন। ইংরেজিতে কথা বলার অনুশীলন করুন। কথা বলার সময় সহজ ও প্রচলিত শব্দ ব্যবহার করুন। পরিচিত কারও সঙ্গে অনুশীলন করুন অথবা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে একা একা কথা বলুন অথবা ইংরেজিতে কথা বলার বিভিন্ন Apps (Buddy talk) ব্যবহার করতে পারেন, এতে আপনার ভয় কাটবে ও কথা বলতে অসুবিধা কম হবে। 

মো. রাকিবুর রহমান, ৪০তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত 

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    পঠিতসর্বশেষ

    এলাকার খবর

     
     

    বিএমবিএএর দশম সাধারণ সভায় নতুন নির্বাহী কমিটি গঠন

    যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা: হবার্ট অ্যান্ড উইলিয়াম স্মিথ কলেজে বৃত্তি

    প্রশ্নফাঁস: আরও দুই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বাতিল

    দিনাজপুর বোর্ডের স্থগিত এসএসসির ৪ পরীক্ষার সংশোধিত রুটিন প্রকাশ

    দিনাজপুর বোর্ডের স্থগিত এসএসসির ৪ পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ

    যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষা: গেটস-কেমব্রিজ স্কলারশিপ

    টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, নেই তাসকিন

    স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওয়ার্ড বয়ের বিরুদ্ধে রোগীকে ধর্ষণের অভিযোগ

    ‘উপাত্ত সুরক্ষা আইন’ ঢেলে সাজানোর দাবি টিআইবির

    মরীচিকা পড়া সেতুর কাজ পুনরায় শুরু, অনিয়ম নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ 

    সেনাবাহিনীতে যুক্ত হলো নতুন সামরিক বিমান

    সরকারের সব লেনদেন ‘নগদে’ করার পরামর্শ সংসদীয় কমিটির