Alexa
বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

সেকশন

epaper
 

বদলে যাওয়া বিশ্বে আসছে নতুন কোয়াড ‘আইটুইউটু’

রাশিয়া ওই ইউক্রেনের মধ্যে চলমান সংকটের কারণে বিশ্বের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গেছে। বিশ্বের জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা অনেকটাই হুমকির মুখে। নতুন সমীকরণ দেখা দিয়েছে দেশগুলোর মধ্যকার সম্পর্কে। এমন অবস্থায় নতুন জোট গঠন স্বাভাবিকভাবেই আরও একটি নতুন সমীকরণের জন্ম দেবে। সেই নতুন সমীকরণ নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে আল-জাজিরার এক নিবন্ধে। আল-জাজিরার নিবন্ধটি সংক্ষেপে আজকের পত্রিকার পাঠকদের জন্য অনুবাদ করেছেন আব্দুর রহমান

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২২, ১৯:২৩

চার দেশের নতুন এই জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ছবি: রয়টার্স এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের চার দেশের জোট কোয়াড গঠনের রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয়েছে নতুন আরেক চার দেশীয় জোটের পরিকল্পনা। কোয়াডভুক্ত দুই দেশ ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র এই নতুন কোয়াডেও সদস্য হিসেবে থাকছে। জোটের বাকি দুই দেশ—ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন কোয়াডের উদ্দ্যেশ্য হলো—জ্বালানি সংরক্ষণাগার তৈরি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে কাজ করা এবং একটি বিকল্প খাদ্য করিডর তৈরি। 

ভারত, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউএইর নামের আদ্যক্ষর নিয়ে এই জোট পরিচিতি পেয়েছে আইটুইউটু নামে। ইসরায়েলের স্থানীয় সময় আজ বৃহস্পতিবার এই চার দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানেরা এক বৈঠকে মিলিত হওয়ার কথা। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পরিবর্তিত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই জোট গঠনকে বিশ্লেষকেরা গুরুত্বের সঙ্গেই দেখছেন। 

পশ্চিম এশিয়ার দুই দেশের সঙ্গে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের জোট প্রসঙ্গে ভারতের সাবেক কূটনীতিক তালমিজ আহমেদ আল-জাজিরাকে বলেছেন, ‘নতুন এই অস্থির পরিস্থিতিতে কেউই জানে না আসলে কী হতে যাচ্ছে। তাই দেশগুলো নিজেদের এগিয়ে নিতেই বিভিন্ন জোটে যাচ্ছে, জোটে গঠন করছে। তারা ভাবছে, হয়তো এই জোট তাদের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে।’ 

বর্ষীয়ান কূটনীতিক তালমিজ আহমেদ সৌদি আরব, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করেছেন। নতুন এই জোটকে বেশ কৌতূহলোদ্দীপক বলে মনে করছেন তিনি। 

ভারত সরকার এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, আইটুইউটু সব মিলিয়ে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ছয়টি খাতে কাজ করতে পারে। খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে—জ্বালানি, পরিবহন, মহাকাশ, স্বাস্থ্য এবং খাদ্য নিরাপত্তা। এ ছাড়া বেসামরিক খাতের বিনিয়োগ সক্ষমতা বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে আরও বিনিয়োগ, গণস্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন এবং জোটভুক্ত দেশগুলোর পারস্পরিক বাণিজ্য এবং শ্রমশক্তি বিনিময় বাড়াতেও এ জোট কাজ করতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে ওই বিজ্ঞপ্তিতে। 

এর আগে গত মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইস এই জোটের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক এজেন্ডার ব্যাপারে আলোকপাত করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘এই জোটের চারটি দেশই একেকটি প্রযুক্তিগত হাব ও বড় বাজার। আবার এটি একই সঙ্গে একটি ভোক্তা বাজারও।’ 

এই জোটের প্রথম সম্মেলন থেকে কী আশা করা হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন দিল্লিভিত্তিক থিংকট্যাংক অনন্ত আসপেন সেন্টারের ফেলো প্রমিত পাল চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘এই সম্মেলনে জোটের একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দাঁড় করানো হতে পারে, যা সরকার-সরকার (জিটুজি) ও ব্যবসায়ী-ব্যবসায়ী মিথস্ক্রিয়ার নতুন সুযোগ তৈরি করবে।’ উদাহরণ হিসেবে, তিনি বলেছেন—এই দেশগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে নতুনভাবে কাজ করতে পারে। 

অনেক বিশ্লেষকের ধারণা আগের কোয়াডের মতো এই কোয়াডও চীন ঠেকাও নীতিরই ফসল। ছবি: রয়টার্স  জ্বালানির বাইরেও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়েও কাজ করতে পারে জোটটি। এই সম্মেলনে ইউএই ও ভারতের মধ্যে একটি নতুন খাদ্য করিডর স্থাপনের ঘোষণা আসতে পারে। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই খাদ্য করিডরের আওতায় ইউএইর বিনিয়োগকারীরা ভারতে মেগা ফুড পার্ক স্থাপনে ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে পারে। এই বিনিয়োগ থেকে দুই দেশই উপকৃত হবে বলে অনুমান বিশ্লেষকদের। ভারতের সাবেক কৃষি সচিব সিরাজ হোসাইন বলেছেন, ‘ভারত ও আরব আমিরাতের মধ্যকার এই খাদ্য করিডর উভয় দেশের জন্যই সুফল বয়ে আনবে।’ 

তবে এই নতুন কোয়াড নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। অনেকেই বলেছেন, এই জোট আসলে যুক্তি বিবর্জিত এবং এর কৌশলগত কোনো গুরুত্ব নেই। তবে, জোটের দেশগুলোর আশাবাদ অন্যরকম। ভারতের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে—এই জোট কথার চেয়ে কাজকে বেশি প্রাধান্য দেবে। 

এর আগে গত বছরে ১৮ অক্টোবর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর ইসরায়েল সফরকালে ইসরায়েলের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ার লাপিদের সঙ্গে জোটের বিষয়ে আলোচনা করেন। ইউএইর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল্লাহ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন ওই আলোচনায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। সে সময় ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতি জানিয়েছিল, এই চার দেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি আন্তর্জাতিক ফোরাম প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই সিদ্ধান্তেরই ফলাফল আজকের আইটুইউটু।

অনেক বিশ্লেষকের ধারণা, এই জোট ইসরায়েল ও ইউএইর সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত আব্রাহাম অ্যাকর্ডেরই বর্ধিত ফলাফল। তবে এই জোটও পূর্বতন কোয়াডের মতো চীনকে আটকানোর কোনো লক্ষ্য রাখে কি না, সে বিষয়ে জোটের তরফ থেকে কিছু না বলা হলেও এই জোটও অনেকটা আগের কোয়াডের মতোই। দিল্লিভিত্তিক থিংকট্যাংক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষক অক্ষোভ গিরিধরদাস বলেছেন, ‘নতুন এই পশ্চিম এশীয় কোয়াড বাইডেন প্রশাসনের চীন ঠেকাও নীতির তৎপরতার ফসল।’ 

তবে শেষ বিচারে এই জোট কী, এর কৌশলগত গুরুত্ব কতটা এবং জোটটি ঘোষিত বিষয়ের বাইরে আরও কী কী হাসিল করতে চায় এবং চীনসহ এই জোটের সম্ভাব্য বিরোধীরা এই জোটের বিষয়ে কী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে, তা-ই এখন দেখার বিষয়।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    পঠিতসর্বশেষ

    এলাকার খবর

     
     

    গণতন্ত্র–অসমতা সূচকে পেছাচ্ছে বিশ্ব, ‘উন্নয়নশীল দেশের’ কাতারে যুক্তরাষ্ট্র

    গান্ধী পরিবারের বাইরে কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে শশী-গেহলট

    আপন বলয়ে অগ্নিপরীক্ষায় রাশিয়া

    ট্রাম্প হয়েই উঠছেন বলসোনারো?

    সোনিয়া গান্ধীই কি কংগ্রেসের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট

    চীন-ভারত-রাশিয়াকে কাছে আনছে ইউক্রেন সংকট

    এসএসসি পরীক্ষার্থীর শ্রুতলেখক অনার্সের শিক্ষার্থী, পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার

    ৮০০ এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট চালুর মাইলফলক অর্জন করল ব্র্যাক ব্যাংক

    প্রথম চাকরিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথেই প্রাণ গেল যুবকের

    ভূয়া আইডি দিয়ে তরুণীদের সঙ্গে প্রেম, আপত্তিকর ছবি হাতিয়ে ব্ল্যাকমেল

    অ্যাডম্যান অ্যাওয়ার্ড গোল্ড পুরস্কার পেল কনকা অ্যান্ড্রয়েড ভয়েস কন্ট্রোল টেলিভিশন

    শিনজো আবে হত্যাকাণ্ড: রাজনীতিতে ধর্মীয় কাল্টের প্রভাবের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের উদাহরণ!