Alexa
শনিবার, ১৩ আগস্ট ২০২২

সেকশন

epaper
 

সিলেটে ব্লগার অনন্ত হত্যা: বেঙ্গালুরুতে গ্রেপ্তার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ফয়সাল

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২২, ১০:০৪

গ্রেপ্তার হওয়া ফয়সাল আহমদ। ছবি: সংগৃহীত সিলেটের বিজ্ঞান লেখক ও ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ফয়সাল আহমদকে ভারতের বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। ফয়সালের গ্রেপ্তারের বিষয়টি বাংলাদেশ পুলিশ জেনেছে বলে আজকের পত্রিকাকে জানিয়েছেন পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. কামরুল আহসান। 

কলকাতা পুলিশের বরাতে আজ বুধবার ভারতের দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে জানানো হয়েছে, গত ১ জুলাই বেঙ্গালুরুর বোম্মনাহাল্লি থেকে ফয়সালকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ৩ জুলাই তাঁকে কলকাতায় আনা হয়। 

জুনের শুরুতে ভারতে ফয়সালের অবস্থানের তথ্য পায় বাংলাদেশের গোয়েন্দারা। এরপর তাঁর মোবাইল নম্বর কলকাতা পুলিশকে দেওয়া হয়। মোবাইল ট্র্যাক করে বেঙ্গালুরু থেকে ফয়সালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 

কলকাতা পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার আরও জানিয়েছে, ফয়সালকে শিগগিরই বাংলাদেশ পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের প্রধান মো. কামরুল আহসান বলেন, ‘আমরা খবরটি পেয়েছি। অফিশিয়ালি নয়। আমাদের চেষ্টা থাকবে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার। তবে বিষয়টি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।’ 

গত ৩০ মার্চ সিলেটের সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালে অনন্ত বিজয় হত্যা মামলার রায়ে ফয়সালসহ ৪ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডিত চারজন হলেন—সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার আবুল হোসেন, খালপাড় তালবাড়ির ফয়সাল আহমদ, সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বিরেন্দ্রনগরের (বাগলী) মামুনুর রশীদ ওরফে হারুন অর রশিদ ও কানাইঘাটের ফালজুর গ্রামের আবুল খায়ের রশীদ আহমদ। চারজনের মধ্যে আবুল হোসেন, ফয়সাল আহমদ ও মামুনুর রশীদ পলাতক ছিলেন। এর মধ্যে ফয়সাল ভারতে গ্রেপ্তার হলেন। এ মামলায় সিলেট নগরীর রিকাবীবাজার এলাকায় বসবাসকারী সাফিউর রহমান ওরফে ফারাবী সাফিউর রহমানকে খালাস দেওয়া হয়। 

আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তারের সময় ফয়সালের কাছে কলকাতা পুলিশ যে পাসপোর্ট পায়, তাতে রয়েছে কাছাড়ঘেঁষা মিজোরামের ঠিকানা। ড্রাইভিং লাইসেন্স জোগাড় করেন বেঙ্গালুরু থেকে। ভোটার কার্ড শিলচরের। সেখানে তাঁর পরিচয় শাহিদ মজুমদার। 

পুলিশ জানায়, জিহাদি কার্যকলাপের অভিযোগ স্বীকার করে ফয়সাল জানিয়েছেন, ২০১৫ সালেই তিনি শিলচরে পালিয়ে যান। তবে ব্লগার হত্যায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। 

অনন্ত হত্যা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১২ মে সিলেট নগরীর সুবিদবাজারে নুরানি আবাসিক এলাকায় নিজ বাসার সামনে খুন হন অনন্ত। পেশায় ব্যাংকার অনন্ত বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখির পাশাপাশি ‘যুক্তি’ নামে বিজ্ঞানবিষয়ক একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। এ ছাড়া বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। হত্যার পর অনন্তের বড় ভাই রত্নেশ্বর দাশ সিলেট বিমানবন্দর থানায় অজ্ঞাত চারজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। এতে বিজ্ঞান বিষয়ে লেখালেখির কারণে অনন্তকে ‘উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠী’ পরিকল্পিতভাবে খুন করেছে বলে অভিযোগ করা হয়। 

মামলাটি পুলিশের কাছ থেকে অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) স্থানান্তর করা হয়। সিআইডির পরিদর্শক আরমান আলী তদন্ত করে ২০১৭ সালের ৯ মে সম্পূরক অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন। এতে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক ১০ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়। মামলায় ২৯ সাক্ষীর মধ্যে ২৪ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। 

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    পঠিতসর্বশেষ

    এলাকার খবর

     
     

    অপরাধ প্রমাণিত হলে কূটনীতিক আনারকলির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা 

    ইউজিসির ‘টেবিল মেইড’ প্রতিবেদন নিয়ে ক্ষুব্ধ সংসদীয় কমিটি

    জুলাইয়ে বেড়েছে খুন, গণপিটুনি বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে

    আষাঢ়ে নয়

    সরব প্রতিবাদের দিন শেষ

    মানবতাবিরোধী অপরাধ: খুলনার ৬ আসামির মৃত্যুদণ্ড

    ডিবির জন্য আসছে নতুন পোশাক, নকল করা অসম্ভব

    ধর্ষণের অভিযোগে খুবি শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

    প্রথম দক্ষিণ এশীয় হিসেবে ‘মিলেনিয়াম লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন স্থপতি মেরিনা

    মাদারগঞ্জে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতা

    আর্জেন্টিনায় উগ্র সমর্থকদের ক্ষোভের আগুনে পুড়ে ছাই ফুটবলারদের গাড়ি

    দেশে-বিদেশে সর্বত্রই ধিক্কৃত হচ্ছে সরকার: মির্জা ফখরুল

    ভেড়ামারায় ফিলিং স্টেশনে অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২