Alexa
মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট ২০২২

সেকশন

epaper
 

গ্রামীণ টেলিকম অফিসে গুজব রটান শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি-সম্পাদক: ডিবি

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২২, ১৯:৪৭

গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি কামরুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। ছবি: আজকের পত্রিকা পজিশন: ৩ নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর রমনা থেকে সভাপতি কামরুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, বাংলাদেশের পরিস্থিতি শ্রীলঙ্কার মতো হবে। সরকার পতন হলে ড. ইউনূস প্রধানমন্ত্রী হবেন। তখন শ্রমিকেরা কোনো টাকা পাবেন না; বরং জেলে যেতে হবে। গ্রামীণ টেলিকমের অফিসে এমন গুজব রটান গ্রেপ্তার হওয়া দুই নেতা ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।

শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষায় নির্বাচিত দুই শ্রমিক নেতাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানিয়েছেন, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরের যুগ্ম কমিশনার মো. হারুন অর রশিদ। তিনি বলেন, গ্রামীণ টেলিকম কর্তৃপক্ষ এবং আইনজীবী ও টেলিকম সিবিএ নেতাদের যোগসাজশে তড়িঘড়ি করে শতাধিক মামলা থেকে গ্রামীণ টেলিকমকে ইনডেমনিটি দেওয়ার জন্য বিশ্বাস ভঙ্গ, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় গ্রামীণ টেলিকম কর্মচারী ইউনিয়নের দুজন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

৪ জুলাই গ্রামীণ টেলিকম কর্মচারী এবং টেলিকম ইউনিয়নের অর্থসম্পাদক মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান মিরপুর মডেল থানায় এ-সংক্রান্তে একটি মামলা দায়ের করেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ডিবির গুলশান বিভাগ মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায়। 

মামলার বাদী আকতারুজ্জামান অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার কারণে ২০২০ সালের ২৫ অক্টোবর বেআইনিভাবে ৯৯ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করে গ্রামীণ টেলিকম। শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের স্থায়ীকরণ ও লভ্যাংশ পাওনা, বেআইনিভাবে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের পরে কোম্পানিতে পুনর্বহাল, কোর্টের আদেশ অনুযায়ী পুনর্বহালের পরেও দায়িত্ব না দিলে কনটেম্পট অব কোর্ট (আদালত অবমাননা), কোম্পানির অবসায়ন দাবিসহ অন্যান্য দাবিতে শ্রমিকেরা এবং শ্রমিক ইউনিয়ন গ্রামীণ টেলিকমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় শ্রম আদালত এবং হাইকোর্টে প্রায় ১৯০টি মামলা ও রিট পিটিশন দায়ের করেন। তড়িঘড়ি করে অনেকটা গোপনে এসব মামলা উত্তোলন, শ্রমিকদের অর্থ দেওয়া এবং প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি বুঝতে পারেন শ্রমিকেরা। 

মো. হারুন জানান, গ্রামীণ টেলিকম এবং গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের মধ্যে একটি চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী গত মে মাসের ১০ তারিখ ঢাকা ব্যাংক গুলশান শাখায় একটি সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। ২০১০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর কোম্পানির মোট লাভের ৫ শতাংশ হারে কোম্পানি থেকে এই সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্টে প্রায় ৪৩৭ কোটি টাকা প্রদান করা হয়। অ্যাকাউন্টটি থেকে অর্থ উত্তোলনের জন্য গ্রামীণ টেলিকমের এমডিকে বাধ্যতামূলক সিগনেটরি এবং ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অন্য দুই সিগনেটরি হিসেবে রাখা হয়। শ্রমিকদের সব পাওনাদি এই অ্যাকাউন্ট থেকে পরিচালিত হওয়ার কথা। চুক্তি অনুযায়ী সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্ট থেকে শ্রমিকদের পাওনা এবং ৫ শতাংশ অগ্রিম কর ব্যতীত অন্য কোনো অর্থ ছাড় করার সুযোগ না থাকলেও বিধিবহির্ভূতভাবে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং গ্রেপ্তার দুই সিবিএ কর্মচারীসহ ইউনিয়নের কতিপয় নেতার যোগসাজশে উক্ত অ্যাকাউন্টের অনুমান ৪৩৭ কোটি টাকা হতে চেকের মাধ্যমে গত মে মাসের ১৭ তারিখ থেকে মে মাসের ২৫ তারিখে ২৬ কোটি ২২ লাখ টাকা গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক ইউনিয়নের ডাচ্–বাংলা ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে নিয়ে আসা হয়। 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে যুগ্ম কমিশনার জানান, লভ্যাংশ পাওনা পরিশোধ, অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার প্রলোভনের পাশাপাশি গ্রামীণ টেলিকম অফিস ক্যাম্পাসে কর্তৃপক্ষ মেসেজ ছড়িয়ে দেয় যে বাংলাদেশের পরিস্থিতি শ্রীলঙ্কার মতো হবে এবং ক্ষমতার পটপরিবর্তনে প্রধানমন্ত্রী হবেন গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান ডক্টর ইউনূস; তখন শ্রমিকদের এসব মামলা কোনো কাজে আসবে না। শ্রমিকেরা কোনো ক্ষতিপূরণও পাবেন না। বিপরীতে তাঁদের চাকরি হারানো, জেল খাটাসহ অন্যান্য নির্যাতনের মুখে পড়তে হবে। মূলত এই ভয়ে এবং কিছুই না পাওয়ার অনিশ্চয়তার বিপরীতে টেলিকম কর্তৃপক্ষের ৪৩৭ কোটি টাকার প্রলোভনে আইনজীবীর পরামর্শে তারা অতি দ্রুততার সঙ্গে অর্থ তুলে নেয়। টেলিকম ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও আইনজীবী একাধিকবার এই সমঝোতার বিষয়টি গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে বলেন। গ্রেপ্তারকৃতদের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত বলে জানান এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা। 

এদিকে গ্রামীণ টেলিকমের চাকরিচ্যুতদের কাছ থেকে ১২ কোটি টাকার বেশি ফি নেওয়ার অভিযোগের তদন্ত চেয়ে রিট দায়ের করা হয়েছে। আজ বুধবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম এই রিট করেন। এতে আইনসচিব, বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, বার কাউন্সিল সচিব ও আইনজীবী ইউসুফ আলীকে বিবাদী করা হয়েছে। আজ আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানান এই কর্মকর্তা। 

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    পঠিতসর্বশেষ

    এলাকার খবর

     
     

    কাউখালীতে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৩

    পার্বত্য চট্টগ্রামে সামরিক শাসন চলছে: সন্তু লারমা

    ঢামেক হাসপাতালে অন্তঃসত্ত্বার মৃতদেহ রেখে পালিয়েছে ২ নারী

    সৎ মেয়েকে নিয়ে পালানো যুবক গ্রেপ্তার, প্রকাশ্যে ফাঁসির দাবি স্ত্রীর

    শেষ হলো তাজিয়া মিছিল

    শোকের আবহে এগিয়ে চলছে তাজিয়া মিছিল

    ধীর লয়ের সেই তর্জনী আর উঠবে না কোনো দিন

    সবুজ আপেল

    হাতিয়ায় বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবি: জীবিত উদ্ধার ৪, নিখোঁজ ১৩ জেলে

    উধুনিয়া বিলে নৌকায় মিনি ক্যাসিনো, আটক ৪

    কাউখালীতে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৩

    ‘এত কারেন গেলে–আইলে কি কোনো কাম করন যায়’