Alexa
মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট ২০২২

সেকশন

epaper
 

বৃদ্ধের পায়ুপথ এবং যুবলীগ নেতার টর্চ

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২২, ১০:৪০

প্রতীকী ছবি বিরোধটা আসলে মসজিদ নির্মাণ নিয়ে। আরও পরিষ্কার করে বললে, মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে অথচ স্থানীয় যুবলীগের সভাপতি শাহনেওয়াজকে চাঁদা দেওয়া হবে না, সেটা কি হতে পারে? নোয়াখালীর সুবর্ণচরের চর ওয়াপদায় তাই নিজের ক্ষমতা প্রদর্শন করেছেন যুবলীগের এই নেতা। শেখ নাসিরউদ্দিন মাইজভান্ডারীকে মারধর করে তাঁর পায়ুপথে টর্চ ঢুকিয়ে নির্যাতন চালানো হয়েছে। হাসপাতালে দীর্ঘ অপারেশনের পর টর্চটি বের করা গেছে বটে, তবে চাইলেই বিষয়টি যে নির্যাতনের নতুন তরিকা হিসেবে স্থান পেয়ে যাবে গিনেজ বুকে, সে সম্পর্কে না বললেও চলে।

পায়ুপথ নিয়ে আলোচনা করা খুব উপাদেয় নয়। তবে আমরা আলোচনা করতে চাই বা না চাই, এ কথা তো ঠিক, পায়ুপথ শরীরের একটি খুবই জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ পথ। এই পথেই খাদ্যবর্জ্যগুলো এসে জমা হয় এবং এই বিষাক্ত বর্জ্যগুলো যদি শরীর থেকে বের করে দেওয়া না হতো, তবে সেই বিষেই মরে যেত প্রাণিকুল। পায়ুপথ বর্জ্য নিষ্কাশনের মাধ্যমে বাঁচিয়ে দেয় মানুষকে।

মসজিদ-সংক্রান্ত চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে পায়ুপথকেই কেন বেছে নিলেন যুবলীগ নেতা? তাঁর এই অনন্য কীর্তিকে অমরত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কি না, সেটা এখনো জানা যায়নি। কেন পায়ুপথে টর্চ ঢুকিয়ে দেওয়া হলো, তা নিয়ে পরবর্তীকালে বিশেষজ্ঞরা কী ভাববেন, তা নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে আমরাই বোঝার চেষ্টা করতে পারি, আসলে যুবলীগ নেতার উদ্দেশ্য কী ছিল। তিনি হয়তো ভেবে থাকতে পারেন, যেকোনো বড় নির্মাণকাজে হাত দিলে স্থানীয় পাতি নেতাদের যে বখরা দিতে হয়, সে কথা এই লোক জানবেন না কেন? তাহলে কি তাঁর মস্তিষ্ক ও শরীরে কোনো জটিলতা আছে? মস্তিষ্ক ও শরীরে পৌঁছানোর জন্য তিনি কোনো পথ খুঁজছিলেন। কিন্তু কোন পথে সহজে পৌঁছানো যাবে, তা ভেবে কূল-কিনারা পাচ্ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত তিনি হয়তো পায়ুপথটিকে বেছে নিয়েছেন। চর্ট জ্বেলে সম্ভবত তিনি শরীর আর মস্তিষ্কের ভেতরটা পরীক্ষা করছিলেন। কিন্তু এই পরিশ্রমলব্ধ পরীক্ষাকে সফল হতে দেননি পায়ুপথের মালিক। তিনি অজ্ঞান হয়ে গেলে যুবলীগ নেতা দলবলসহ চলে যেতে বাধ্য হন। আফসোস, এই পরীক্ষা সফল হলে জগৎ নতুন এক সত্য জানতে পারত। জানতে পারত চাঁদাদানের সঙ্গে টর্চলাইট ও পায়ুপথের নিবিড় সম্পর্কের কথা। আমাদের দেশে বহু বেরসিক কারণে বড় বড় সম্ভাবনাময় ঘটনা শুরুতেই ভূপাতিত হয়। টর্চের পায়ুপথ পরিক্রমণ হয়তো তারই সর্বশেষ নজির হিসেবে কিছুকাল থাকবে।

আমাদের সৌভাগ্য, এমন এক যুগে আমরা জন্মেছি, যখন রাজনীতির মাঠে বিচিত্র ধরনের মানুষের সমাগম ঘটেছে। ধাতস্থ হওয়ার আগেই তাঁরা বারবার বিস্ময়ে আমাদের মাথা এমনভাবে ঘুরিয়ে দিচ্ছেন যে ‘এগিয়ে চলেছে দেশ’ বলতে কী বোঝায়, তা বেমালুম বুঝে নিচ্ছি আমরা। শুধু জানতে ইচ্ছে করছে, এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে গিয়ে কোন কোন নিরীক্ষার জন্য প্রত্যেকের পায়ুপথকে টর্চের আওতায় আনার জন্য অপেক্ষা করতে হবে?

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    পঠিতসর্বশেষ

    এলাকার খবর

     
     

    সময়টা অনুধাবন করে সহনশীল হতে হবে

    কারাগারে না পাঠিয়ে সংশোধনের সুযোগ অপরাধীদের

    বাসে বাড়তি ভাড়ায় বিপাকে যাত্রী, বাধছে তর্কবিতর্ক

    ভোগান্তির আরেক নাম ফতেপুর বেইলি সেতু

    এখনো বই পায়নি সুনামগঞ্জে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীরা

    শিশুর চুল থাকুক খুশকিমুক্ত

    ৬০০ টি-টোয়েন্টি খেলা প্রথম ক্রিকেটার পোলার্ড

    সৎ মেয়েকে নিয়ে পালানো যুবক গ্রেপ্তার, প্রকাশ্যে ফাঁসির দাবি স্ত্রীর

    সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন র‍্যাব কর্মকর্তার মৃত্যু

    শেষ হলো তাজিয়া মিছিল

    কচুখেতে মিলল স্কুলছাত্রের মরদেহ

    অধ্যক্ষের পর এবার মারা গেলেন উপাধ্যক্ষও