Alexa
মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট ২০২২

সেকশন

epaper
 

রসেবসে

রিটায়ার্ড জীবন ও ফিউজ বাল্ব

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২২, ০৯:১০

রিটায়ার্ড জীবন ও ফিউজ বাল্ব এটি একটি পুরোনো গল্প। আগেও হয়তো পড়ে বা শুনে থাকবেন। এক ভদ্রলোক নিজের আভিজাত্য, বড়লোকি ফলানোর জন্য কাজের লোকদের কিছু নির্দেশনা দিয়ে রেখেছিলেন। যেমন বাইরে থেকে কোনো অতিথি এলে বসার যেসব চেয়ার আছে, তার বাইরে আরও একটি নতুন চেয়ার দেওয়ার কথা বলবেন গৃহকর্তা। গৃহকর্মী সঙ্গে সঙ্গে বলবে, কোন দেশ থেকে আনা চেয়ার দেব স্যার, ভারত না সিঙ্গাপুর?

চা দিতে বললে বলবে, কোন দেশের চা? দার্জিলিং না চায়নিজ?

এ রকম আরকি!

একদিন এক অতিথি এসে ভদ্রলোকের বাবার সঙ্গে দেখা করতে চাইলেন। ভদ্রলোক গৃহকর্মীকে নির্দেশ দিলেন, বাবাকে ডেকে আনো।

গৃহকর্মী হাত কচলে বলল, স্যার, আপনার কোন দেশি বাবাকে ডাকব? আমেরিকান, না ফরাসি?

খ. এটাও এক দাপুটে সরকারি কর্মকর্তার গল্প। তবে তিনি সদ্য অবসরে গেছেন। ধরা যাক, গল্পের মূল চরিত্র আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের। ইন্দোর শহরের বিজয়নগরের এক আবাসিক কমপ্লেক্সে এসেছেন অবসরজীবন কাটাতে। তিনি তাঁর সমস্ত কর্মজীবন অতিবাহিত করেছেন বড় পদে চাকরি করে। রিটায়ার্ড এই বড় অফিসার রোজ বিকেলে হাউসিং কমপ্লেক্সের পাশের পার্কে হাঁটতে আসেন আর পার্কে উপস্থিত সবাইকে দেখেন অবজ্ঞার চোখে। পার্কে উপস্থিত কারও সঙ্গেই তিনি কোনো কথা বলতেন না অহংকারে।

পার্কে হাঁটা শেষ করে ক্লান্তি নিবারণের জন্য পার্কের বেঞ্চে এক বৃদ্ধের পাশে বসতেন এবং সেই সূত্রেই তাঁদের মধ্যে টুকটাক বাক্যবিনিময়ও শুরু হয়। তবে রিটায়ার্ড অফিসারের কথার বিষয়বস্তু ছিল এক—‘আমি ভোপালে এত বড় আইএএস অফিসার ছিলাম যে আপনি ভাবতেই পারবেন না। আমি ভোপালে খুবই মজে গিয়েছিলাম, নইলে আমার ইচ্ছে ছিল দিল্লিতে জয়েন করার।’

বৃদ্ধ লোকটি রোজ শান্তভাবে লোকটার কথা শুনতেন। কিন্তু একদিন বিরক্ত হয়ে রিটায়ার্ড আইএএস অফিসারকে বললেন, ‘আপনি কি কোনো দিন ফিউজ বাল্ব দেখেছেন? বাল্ব ফিউজ হয়ে যাওয়ার পর কেউ কি দেখে ওটা কোন কোম্পানির ছিল? ওটা কত ওয়াটের ছিল? ওটার আলো কেমন ছিল? একটা বাল্ব ফিউজ হয়ে যাওয়ার পর এসবের কোনো মূল্য ও গুরুত্ব থাকে না। ফিউজ বাল্ব মানুষ রাস্তার ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে আসে কি না বলুন?’

যখন সেই রিটায়ার্ড অফিসার বৃদ্ধের কথার সমর্থনে মাথা নাড়লেন, তখন বৃদ্ধ বললেন, ‘অবসর গ্রহণের পর আমাদের সবার স্থিতি ফিউজ বাল্বের মতো হয়ে যায়। আমরা কোথায় কাজ করতাম, আমাদের পদ কত বড় বা ছোট ছিল, আমাদের কী ক্ষমতা ছিল, অবসর গ্রহণের পর এসবের কোনো মূল্যই থাকে না। আমি এই হাউসিং সোসাইটিতে অনেক বছর থেকে বাস করছি, অথচ আজ পর্যন্ত এই সোসাইটির কেউ জানে না যে একসময় আমি একজন মেম্বার অব পার্লামেন্ট ছিলাম। ওই সামনের বেঞ্চে বসে আছেন শর্মাজি, তিনি একসময় রেল বিভাগের চিফ ম্যানেজার ছিলেন। ওই যে এই দিকে হেঁটে আসছেন যোশী সাহেব, তিনি সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার ছিলেন। ওই যে যিনি পার্কের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন, তিনি হলেন ড. পাঠক, তিনি আইএসআরও চিফ ছিলেন। তাঁরা কোনো দিন নিজের মুখে এসব কাউকে বলেননি। কেন জানেন? চন্দন কাঠ কখনো কাউকে বলে না যে আমি চন্দন, সৌরভই মানুষকে তার কাছে নিয়ে আসে। তাঁরা কেউই তাঁদের বিগত দিনের উচ্চপদের কথা আমাকে বলেননি, তবে আমি সেটা জেনেছি নিজের আগ্রহে, তাঁদের অতি সাধারণ জীবনযাত্রা দেখে। আমি জানি সব ফিউজ বাল্বের মূল্য সমান। হতে পারে এই ফিউজ বাল্ব কোনোটা জিরো ওয়াটের, কোনোটা ৫০ বা ১০০ ওয়াটের। কিন্তু তাঁদের কারোরই আজ আলো দেওয়ার সাধ্য নেই, কাজেই তাদের কোনো উপযোগিতা নেই। মানুষ উদিত সূর্যের উদ্দেশ্যে জল অর্পণ করে সূর্যদেবের পূজা করে। কিন্তু অস্তাচলগামী সূর্যের পূজা কেউ করে না।’

অবসরপ্রাপ্ত বড় অফিসার নীরবে স্থান ত্যাগ করলেন।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    পঠিতসর্বশেষ

    এলাকার খবর

     
     

    সময়টা অনুধাবন করে সহনশীল হতে হবে

    কারাগারে না পাঠিয়ে সংশোধনের সুযোগ অপরাধীদের

    বাসে বাড়তি ভাড়ায় বিপাকে যাত্রী, বাধছে তর্কবিতর্ক

    ভোগান্তির আরেক নাম ফতেপুর বেইলি সেতু

    এখনো বই পায়নি সুনামগঞ্জে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীরা

    শিশুর চুল থাকুক খুশকিমুক্ত

    অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড হাতিয়ে উপবৃত্তির টাকা হাপিস

    ঢামেক হাসপাতালে অন্তঃসত্ত্বার মৃতদেহ রেখে পালিয়েছে ২ নারী

    পুরোনো কথা মনে করে আমিরের চোখে জল

    ৬০০ টি-টোয়েন্টি খেলা প্রথম ক্রিকেটার পোলার্ড

    সৎ মেয়েকে নিয়ে পালানো যুবক গ্রেপ্তার, প্রকাশ্যে ফাঁসির দাবি স্ত্রীর