Alexa
মঙ্গলবার, ১৬ আগস্ট ২০২২

সেকশন

epaper
 

আত্মবিশ্বাসী রাশিয়ার সামনে দুই কুল রক্ষার লড়াইয়ে ইউক্রেন

ইউক্রেনের লুহানস্ক অঞ্চলকে পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে রাশিয়া ও দেশটির মিত্র বিদ্রোহী যোদ্ধারা। লুহানস্কের সর্বশেষ শহর হিসেবে লিসিশানস্কের নিয়ন্ত্রণও ইউক্রেনের হাতছাড়া হয়ে গেছে। লুহানস্ক জয় পুতিনের জন্য বড় একটি অর্জন বলেই ধরা হচ্ছে। রাশিয়ার এই জয় জন্ম দিয়েছে নতুন সমীকরণের। সেই সমীকরণ নিয়েই আলোকপাত করা হয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক নিবন্ধে। আজকের পত্রিকার পাঠকদের জন্য নিবন্ধটি ভাষান্তর করেছেন আব্দুর রহমান

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২২, ০০:১৮

দনবাসের লুহানস্কের নিয়ন্ত্রণ এখন রাশিয়ার দখলে। ছবি: রয়টার্স  রুশ সৈন্য ও মিত্র যোদ্ধারা গত শনিবার লিসিশানস্ক দখলে নেয়। বিশ্লেষকেরা লুহানস্কের যুদ্ধকে ইউরোপের যুদ্ধের ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ বলছেন। এর মধ্য দিয়ে ইউক্রেন থেকে একাংশের বিচ্ছিন্ন হতে চাওয়া লুহানস্ক সম্পূর্ণভাবে রাশিয়া এবং তার মিত্র বিদ্রোহীদের দখলে চলে গেছে। 

রুশ সৈন্যদের এই অর্জনে উচ্ছ্বসিত ভ্লাদিমির পুতিন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগুর সঙ্গে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বৈঠকে পুতিন রুশ সৈন্যদের এই অর্জনে অভিনন্দন জানিয়েছেন। পুতিন বলেছেন, ‘যারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে তাদের এখন বিশ্রাম নিয়ে পরবর্তী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হওয়া উচিত। এখন অন্য ইউনিটগুলো লড়াই চালিয়ে যাবে।’ 

সমর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়ার এই অগ্রগতি রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক–বদল। কেবল কৌশলগত গুরুত্বের জন্যই নয় বরং এই যুদ্ধে যেসব শহর ধ্বংস হয়েছে, দুই পক্ষেরই সক্ষমতার যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার কারণেও এই যুদ্ধ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

রাশিয়ার এবারের লক্ষ্য দোনেৎস্ক। ছবি: রয়টার্স  লন্ডনভিত্তিক প্রতিরক্ষা থিংক ট্যাংক রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিস ইনস্টিটিউটের গবেষক নীল মেলভিন লুহানস্ক অঞ্চলে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার যুদ্ধকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়কার চিত্রের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এই জয় বিশাল মূল্য চুকিয়ে রাশিয়ার পাওয়া একটি কৌশলগত বিজয়।’ 

নীল মেলভিন আরও বলেন, ‘এই জয়ের জন্য ৬০ দিন সময় লেগেছে যা খুবই ধীর অগ্রগতি নির্দেশ করে। আমি মনে করি, রাশিয়া এ ক্ষেত্রে হয়তো নিজেদের বিজয়ী বলে ঘোষণা করতে পারে কিন্তু মূল যুদ্ধ এখনো আসেনি।’ তবে মস্কোর আশা, এই জয় রাশিয়ার সৈন্যদের যুদ্ধক্ষেত্রে আরও বেশি মনোবল জোগাবে। দোনেৎস্ক জয়ে আরও বেশি উৎসাহী করবে। 

লুহানস্কের ইউক্রেনীয় গভর্নর সেরহি গাইদাইও স্বীকার করছেন, এই জয় রাশিয়াকে সমগ্র দনবাসের নিয়ন্ত্রণ দখলে আরও অনেকখানি এগিয়ে নেবে। তিনি বলেন, ‘এই জয়ের মধ্য দিয়ে এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ কার্যকরভাবে রাশিয়ার হাতে চলে গেছে।’ তবে ইউক্রেন লুহানস্কের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েও হতাশ নয় জানিয়ে গাইদাই বলেছেন, ‘কেবল লিসিশানস্ক জয় করাই নয়, আমাদের পুরো যুদ্ধটাই জিততে হবে। আমাদের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হলেও আমরা এখনো হেরে যাইনি।’ 
 
তবে রাশিয়া এই জয়কে বড় অর্জন হিসেবে বিবেচনা করলেও ইউক্রেনের পশ্চিমা মিত্ররা সেরহি গাইদাইয়ের সুরেই কথা বলছে। তাঁরাও বলছেন, রাশিয়া লুহানস্কের যুদ্ধ জিতলেও আগামী দিনে আরও কঠিন পরিস্থিতি পাড়ি দিতে হবে। চূড়ান্ত বিজয় আরও বহুদূর। 

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংক ট্যাংক ফরেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষক রব লি বলছেন, ‘এই জয়ের ফলে পুতিন হয়তো দাবি করতে পারেন তিনি একটা কিছু অর্জন করেছেন। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, ইউক্রেন খুব দ্রুত হার মানবে।’ 

তবে রাশিয়ার নিরাপত্তা কাউন্সিলের উপপ্রধান ও দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ ইউক্রেন যুদ্ধে রক্তপাতের জন্য পশ্চিমাদের দায়ী করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মেদভেদেভ বলেছেন, ইউক্রেন ‘মাথা খারাপ’ পশ্চিমা নেতাদের—যাদের চোখে অন্যের রক্তপাত ধরা পড়ে না—কথায় উৎসাহিত হয়ে যুদ্ধ চালিয়ে নিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনের নেতারা ‘কোকেনের নেশায় বুঁদ’ হয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন!

রাশিয়া লুহানস্ক জিতলেও তা পুনরুদ্ধারসহ যুদ্ধ জিততে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ইউক্রেনের সেনাবাহিনী। ছবি: রয়টার্স  তবে যুদ্ধ কোন দিকে, কোন পথে যাবে, কীভাবে নিষ্পত্তি হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। দনবাসেই আরও দীর্ঘ লড়াই অপেক্ষা করছে। নীল মেলভিন বলছেন, আগামী দিনের লড়াই পূর্বাঞ্চলে নয়— যেখানে রাশিয়া এখন আক্রমণ চালাচ্ছে। মূল যুদ্ধ হবে দক্ষিণে যা এরই মধ্যে রাশিয়া জয় করে এসেছে এবং সেখানে ইউক্রেনীয় সেনারা নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার জন্য পাল্টা লড়াই শুরু করেছে। এরই মধ্যে খেরসনের আশপাশে কিছুটা অগ্রসর হয়েছে। যুদ্ধটা আরও তীব্র হতে পারে কারণ, ইউক্রেন নিশ্চয়ই তার হারানো ভূখণ্ড উদ্ধার করতে চাইবে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিও একই আশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, ইউক্রেন অবশ্যই তার হারানো ভূমি ফিরিয়ে নেবে। 

তবে রাশিয়ার দখলে থাক, বা ইউক্রেন নিয়ন্ত্রণ পুনর্দখল করুক—এই যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হবে। লুহানস্ক জয়ে যেমন রাশিয়ার সময় লেগেছে, পুনরুদ্ধার করতে গেলে ইউক্রেনেরও সময় লাগবে এবং তা মোটেও সহজ হবে না। অপরদিকে, রাশিয়া দোনেৎস্ক দখলে অগ্রসর হলে সেখানেও শক্ত বাধা পেতে হবে। ফলে, রাশিয়ার জন্য লুহানস্ক ধরে রাখা ও ইউক্রেনের জন্য ফিরে পাওয়া দুটোর বিনিময়েই প্রচুর মূল্য চুকাতে হবে। একই কথা প্রযোজ্য দোনেৎস্কের ক্ষেত্রেও।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    ভারত-পাকিস্তান সংকটের ৭৫ বছর

    নতুন পর্বের প্রস্তুতি রাশিয়ার

    ঘরের শত্রু বিভীষণে বেকায়দায় পেলোসি

    চীন কি তাইওয়ান আক্রমণ করবে

    পেলোসির তাইওয়ান সফর যে কারণে এত ভয়ংকর

    আগের মতো অপ্রীতিকর কিছু ছাড়াই চীন-তাইওয়ান সংকটের সমাধান হবে কি

    সিআরবিতে হাসপাতাল না করার অনুরোধ চট্টগ্রামের শীর্ষ নেতাদের

    পানিসহ পেট্রল বিক্রির অপরাধে ৪৮ হাজার টাকা জরিমানা

    টেকনাফে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্রসহ ২ রোহিঙ্গা গ্রেপ্তার

    নাটোরে হত্যাসহ ৪ মামলায় বিএনপি নেতা কারাগারে

    ৮০ রানেই গুটিয়ে গেলেন সৌম্য-সাব্বিররা

    রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে আওয়ামী লীগ নেতাকে ছুরিকাঘাতে খুন