Alexa
শনিবার, ১৩ আগস্ট ২০২২

সেকশন

epaper
 

সাভারে শিক্ষক হত্যা: সেই ছাত্রী বললেন জিতু তাঁর ‘ভাতিজা’

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২২, ২২:৪৮

শিক্ষক হত্যায় ২৯ জুন গাজীপুর থেকে অভিযুক্ত জিতুকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফাইল ছবি শিক্ষক উৎপল কুমার হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীর জবানবন্দির ভিত্তিতে একই প্রতিষ্ঠানের একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। ওই ছাত্রী অভিযুক্ত দশম শ্রেণির ছাত্র আশরাফুল ইসলাম জিতুর প্রেমিকা বলেও দাবি করা হচ্ছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব জানিয়েছিল, একজনকে ‘হিরোইজম’ দেখাতে গিয়েই শিক্ষকের ওপর হামলা করেন জিতু (১৯)। এতে ‘কথিত প্রেমিকার’ উসকানি ছিল বলে জিতু জবানবন্দিতে জানিয়েছেন বলেও দাবি করা হচ্ছে।

তবে সেই ছাত্রী বলছেন, জিতু সম্পর্কে তাঁর ‘ভাতিজা’। আজ রোববার বিকেলে আশুলিয়ায় সেই ছাত্রীর বাসায় গিয়ে তাঁর ও তাঁর বড় বোনের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়। বোন একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষিকা। অসুস্থতার কারণে কয়েক মাস ধরে ছুটিতে আছেন।

অভিযোগের ব্যাপারে ওই কলেজছাত্রী বলেন, ‘প্রায় ওরে (জিতু) বই দিতাম। আমাদের প্রতিবেশী, এখন আমার নামে একটা বদনাম উঠেছে। এলাকা থেকে বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন কথা বলতাছে। আসলে এগুলো কোনোটাই সত্যি না। জিতু আমার ভাইস্তা হয়। ওদের থেকে আমরা জায়গাটা কিনছি। তো স্কুলে আমাদের প্রায়ই কথা হতো। আমাকে বলত আমার এই গাইডটা বা ওই আছে। তো আমি ওইটা দিতাম। আমি কলেজে বিজ্ঞান শাখা ও জিতু স্কুলে বিজ্ঞান শাখার। ফলে আমার বিভিন্ন পুরোনো গাইড ও বই চাইত। এখন এলাকার মানুষ বা স্কুলের স্টুডেন্টরা যদি ভাইবা থাকে আমাদের সম্পর্ক আছে, তাহলে এটা তো ভুল। আর আমরা কথা বলছি। টিচাররা দেখছে। আমারে তো ডাক দিয়ে জিজ্ঞেস করবে। কিসের কথা বলো? সন্দেহ হইছে? কিন্তু আমাকে এইটা বলে নাই। আর বাসায় যে বলবে অভিযোগ দিবে, যে ওই ছেলের সাথে কথা বলে। আমার বাসায় এমন কোনো অভিযোগ আসে নাই। উৎপল স্যার আমাকে অনেক ভালো জানত। প্রায় জিজ্ঞেস করত আমার বোনের কী অবস্থা? কিন্তু কখনো জিতুর ব্যাপারে কিছু বলে নাই। কিন্তু স্কুল থেকেই শুনছি আমাকে নাকি অনেকবার শাসাইছে। এই কথা একদম মিথ্যা।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সাময়িক বহিষ্কারের পর থেকে গণমাধ্যমকর্মী ও গোয়েন্দা সংস্থার জেরার মুখে পড়েছেন ওই ছাত্রী। তদন্ত শেষ হলে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।

ওই ছাত্রী বলেন, ‘এলাকার কথা শুনে আমি অবাক! এ রকম কথা কবে হলো! আমার নামে এমন একটা বদনাম উঠেছে। আমি প্রশ্নের জবাব দিতে দিতে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি। আমি ও আমার ফ্যামিলি আমরা সবাই অশান্তিতে আছি। জিতুর সাথে সম্পর্ক, আমরা বলতেছি মিথ্যা। তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষ হোক। তারপর আমি যদি দোষী সাব্যস্ত হই, প্রশাসন আমাকে যে শাস্তি দিবে আমি সেটাই মেনে নিব। আমার সাথে জিতুর কোনো সম্পর্ক নেই। যদি এমন কিছু হতো তাহলে তো টিচার আমার ও আমার ফ্যামিলিকে বলত। আমার বড় ভাইয়ের সাথে জিতুর বাবার বন্ধুত্ব। ফলে জিতুর বাবাকে আমি ভাই বলে ডাকি। জিতু সম্পর্কে আমার ভাইস্তা।’

ঘটনার দিন কলেজেই যাননি বলে বলে দাবি করে তিনি বলেন, ‘জিতু ছাত্র হয়ে শিক্ষক হত্যা করছে। তার অবশ্যই শাস্তি হওয়া উচিত। আমাকে নিয়ে ওর সাথে কেউ সন্দেহ করলে আমার ও আমার ফ্যামিলিকে বলতে পারত। কিন্তু কেউ তো কখনো কিছু বলেনি। আমি ২০১০ সাল নার্সারি থেকে এই স্কুলে থেকে এখন কলেজে পড়ি। ও এই কাজ করছে ২৫ জুন, শনিবার। আমি তার আগে ২১ জুন, মঙ্গলবার থেকে ভোটারের কাগজের কাজের জন্য স্কুলে যাই না। আমার ক্লাস টিচারকেও জানানো হইছে। যাচাই করতে চাইলে আমার হাজিরা খাতাও দেখতে পারেন। সেই মঙ্গলবার থেকে এখন পর্যন্ত স্কুলে যাওয়া হয় নাই।’

ছাত্রী বলেন, ‘আমরা বাসায় গোয়েন্দা পুলিশও আসছে, তারা যাচাই করে গেছে। স্কুল থেকে এমন কোন অভিযোগও তারা পায়নি। আমি বলতে চাই, এই ঘটনায় তদন্তে যদি আমার নাম আসে পুলিশ যে পদক্ষেপ নিবে আমি রাজি আছি। কিন্তু যেটা সত্যি সেটাই বের হয়ে আসবে। কলেজ যেহেতু একটা বদনাম দিছে, তাদের তো এটা একটা প্রমাণ থাকা দরকার। তারা দেখাক, আমার ফ্যামিলিকে ডাকছে বা আমাকে কখনো জিজ্ঞেস করছে। ওর সাথে কিসের কথা বলো বা ও তোমার কী হয়? কখনো জিজ্ঞেস করে নাই। কোনো টিচারই না। প্রত্যকটা টিচার আমাকে চেনে। অযথা আমাকে বদনাম করছে। তদন্ত শেষ হোক, তখন দেখা যাবে।’

অভিযুক্ত জিতু। ফাইল ছবি এ ব্যাপারে কথা  হয় ছাত্রীর বোন হাজী ইউনুছ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষিকার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি সাত বছর ধরে এখানে চাকরি করি। আমি এই স্কুল অ্যান্ড কলেজেরই শিক্ষার্থী ছিলাম। আমি অসুস্থতার জন্য দীর্ঘদিন ধরে ছুটিতে আছি। খুবই কষ্টের কথা, এই ঘটনার মধ্যে আমার বোনটাকে কীভাবে জড়িয়ে ফেলল! আমি তিন মাস ধরে কলেজে যাই না। এখন শুনছি আমার বোনের নামটা চলে আসছে। কিন্তু কে বা কারা করলেও, এ বিষয়টার আমরা কিছুই জানি না। আমার বোন ২১ জুন থেকে কলেজে যায় না। ঘটনা ঘটেছে ২৫ জুন। তাহলে ওর সাথে কীভাবে সম্পৃক্ততা থাকতে পারে? আর হিরোগিরিটা দেখাবে কাকে? আমরা শিক্ষক মারা যাওয়ার পর থেকে এসব কথা শুনছি। প্রথমে মিডিয়া থেকে, পরে এলাকা থেকে শুনছি। এই ব্যাপারে কখনো আমাকে বা আমার ফ্যামিলিকে কখনো ডাকা হয়নি। আমি তো সেখানকার টিচার, কলিগ হিসেবেও তো জানার একটা অধিকার রাখি।’

তিনি বলেন, ‘এর প্রতিকার হওয়া দরকার। নির্দোষ মানুষ যদি এরকমভাবে জড়িয়ে পড়ে মানসম্মান কতটা হানি হয় বুঝতেই পারছেন। তার ওপর আমি একজন টিচার। কথা কিন্তু এসেও পড়েছে একজন টিচারের বোন। ওই ছেলে সাথে বোনের সম্পর্কে প্রশ্নই আসে না। সম্পর্কে ওতো ভাতিজা হয়।’

স্কুল থেকে বোনকে সাময়িক বহিষ্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা গতকাল নোটিশ পেয়েছি। যেহেতু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ সেহেতু জবাব চাইতেও যেতে পারছি না। প্রতিষ্ঠান খোলার পর অবশ্যই এ বিষয়ে জবাব চাইব।’ 

শিক্ষক হত্যার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষক হত্যার মতো ঘটনা কোনোভাবেই মেনে যায় না। উৎপল কুমার স্যার তিনি আমার গুরুজন। জিতু পৃথিবীর জঘন্যতম অপরাধ করেছে। জিতুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

গত ৩০ জুন হাজী ইউনুছ আলী কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুল হাসানের স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়, শিক্ষক উৎপল কুমার হত্যার ঘটনায় পুলিশি তদন্ত ও আসামির জবানবন্দিতে এই ছাত্রীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এ মুহূর্তে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে ওই ছাত্রীকে সাময়িক বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। 

ওই ছাত্রী ও তাঁর বোনের অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ সাইফুল হাসান বলেন, ‘আমরা সরাসরি তো জানতে পারিনি। তবে আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক তদন্তে বিষয়টা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। তার বড় বোন, যে আমাদের এখানে শিক্ষকতা করেন, তাঁকে উৎপল স্যার জানিয়েছিল। উৎপল স্যার আমাকে বলেছিল। তবে পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বলা যাবে না। আর সবচেয়ে বড় বিষয়, সেই ছাত্রী এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসলে তার নিরাপত্তার একটা বড় ঝুঁকি থাকে। তাই তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। তদন্তে তার সম্পৃক্ততা না থাকলে সে আবার কলেজে আসতে পারবে।’

এ বিষয়ে এখনই কোনো কথা বলতে চায়নি আশুলিয়া থানা পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার এসআই এমদাদুল হক বলেন, ‘এখনো তদন্ত চলমান। আসামিদের রিমান্ড চলছে। রিমান্ড শেষ হোক, তার আগে এখনই কিছু বলতে চাচ্ছি না। তবে তদন্তের অগ্রগতি অবশ্যই আপনাদের জানানো হবে।’

গত ২৫ জুন দুপুরে আশুলিয়ার চিত্রশাইল এলাকায় হাজী ইউনুস আলী কলেজের মাঠে প্রকাশ্যে শিক্ষক উৎপলকে ক্রিকেট স্ট্যাম্প দিয়ে আঘাত করেন দশম শ্রেণির ছাত্র জিতু। হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন মারা যান তিনি। সেদিন থেকে ক্লাস বর্জন করে আন্দোলনে নেমেছিলেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় নিহত শিক্ষকের ভাই বাদী হয়ে মামলা করলে ২৮ জুন রাতে কুষ্টিয়া থেকে জিতুর বাবা উজ্জ্বল হাজী ও ২৯ জুন গাজীপুর থেকে জিতুকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    পঠিতসর্বশেষ

    এলাকার খবর

     
     

    ঢামেকে চলছে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, শনাক্ত হয়নি কেউ

    একজন শিক্ষক সবসময় মাথা উঁচু করে চলবেন: খুবি উপাচার্য 

    রাজধানীর বনানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১, আহত ২ 

    ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়ানোর বিষয়ে ভাবা হচ্ছে’

    শোক দিবস উপলক্ষে এতিমদের খাবার বিতরণ করল র‍্যাব

    পরিবারের অমতে বিয়ে, জন্মদিন উদ্‌যাপনের আশ্বাসে এনে খুন

    ধর্ষণের অভিযোগে খুবি শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

    প্রথম দক্ষিণ এশীয় হিসেবে ‘মিলেনিয়াম লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন স্থপতি মেরিনা

    মাদারগঞ্জে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতা

    আর্জেন্টিনায় উগ্র সমর্থকদের ক্ষোভের আগুনে পুড়ে ছাই ফুটবলারদের গাড়ি

    দেশে-বিদেশে সর্বত্রই ধিক্কৃত হচ্ছে সরকার: মির্জা ফখরুল

    ভেড়ামারায় ফিলিং স্টেশনে অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২