Alexa
মঙ্গলবার, ১৬ আগস্ট ২০২২

সেকশন

epaper
 

‘এবারের বন্যায় আমগো সবকিছু শেষ কইরা দিল’

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২২, ১৪:৪৪

সিলেটে বন্যায় ভেঙে তছনছ জুলহাস মিয়ার বসতঘর। গত শুক্রবার দুপুরে গোয়াইনঘাটের আসামপাড়া এলাকা থেকে তোলা ছবি স্বামী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে আনোয়ারা বেগমের (৪০) সংসার। অনেক স্বপ্ন ছিল পরিবারটির। সুখে-শান্তিতে বসবাস করে আসছিলেন পরিবার নিয়ে। কিন্তু দুই সপ্তাহ আগে ভয়াবহ বন্যা তাঁর জীবনে কালো মেঘ হয়ে নেমে আসে। নিজের তৈরি সব স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দেয় প্রলয়ংকরী বন্যা। নিজের ঘরবাড়ি ভেঙে যাওয়ায় এখন তিনি অন্যের বসতঘরে বাস করছেন।

সুখের জীবনের স্মৃতিচারণ করে কাঁদতে কাঁদতে আনোয়ারা বলেন, ‘স্বামীডাও বেকার। ঋণ করে পোলাডারে বিদেশ দিছিলাম। তারপর পোলাডা টাকা-পয়সা দিল আর ব্যাংক থাইকা লোন নিয়া ঘরডা করছিলাম। এই বন্যায় আমগো সবকিছু শেষ কইরা দিল। এইবারের মতো বন্যা আর দেখি নাই। অখন যে কিবা করে আমরা বাঁচমু বাজান, আমগো কোনো পথ নাই। খালি বাড়িডাই আমার আছে। আর কিচ্ছু নাই।’

পরিবারের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে আনোয়ারা বেগম আরও বলেন, ‘এখন মাইনসের বাড়িতে গিয়া উঠছি। মাইনসে যেটা দিতাছে, তা-ই খাইতাছি। আর এখন থাকার মতো, চলার মতো অবস্থা নাই। সরকারে যদি কিছু দিত, তাইলে আমরা চলতে পারতাম।’ 
আনোয়ারা বেগমের ছেলে ইমরান আহমদ মালদ্বীপপ্রবাসী। তিনি বন্যার আগেই দেশে এসেছেন। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু তাঁর ঈদের খুশি বানের জলে ভেসে গেছে।

ইমরান বলেন, ‘বিদেশ যাওয়ার সময় লোন করে গিয়েছিলাম। সাত বছর পর দেশে এসেছি পরিবারের সঙ্গে একটা ঈদ করতে। কিন্তু বন্যায় আমাদের বাড়িঘর ভেঙে গেছে। ঘরের সবকিছু পানিতে নিয়ে গেছে। নিজের পাসপোর্ট, কাগজপত্র, পারমিট ভিসাসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু নিয়া গেছে। এখন বিদেশও যাইতে পারব না। ওই দেশের মালিকও যোগাযোগ করছে, তাঁরা বলছে কাগজপাতি ছাড়া যাওয়া যাবে না।’

আসামপাড়া এলাকার জুলহাস মিয়াও তাঁর পাকা বসতঘর হারিয়ে নিঃস্বপ্রায়। পরিবারে বৃদ্ধ মা, চার ছেলে ও স্ত্রী নিয়ে বাস করতেন। বন্যায় সবকিছু হারিয়ে তিনিও দিশেহারা।

শুধু আনোয়ারা বেগম ও জুলহাস মিয়াই নন, বরং গোয়াইনঘাটের নয়াগাঙের পাড় এলাকার আরও আটটি পরিবার এবারের বন্যায় বসতঘর হারিয়েছে। সব হারিয়ে এই মানুষগুলোর জীবনে নেমে এসেছে কালো মেঘ। তাঁদের দুঃখ-দুর্দশার যেন অন্ত নেই। ঘরের মালামাল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কয়েক দিন আগেও সবাই আশা নিয়ে বেঁচে থাকার অবলম্বন করছিলেন। কিন্তু হঠাৎই এই কালো মেঘের আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে তাঁদের স্বপ্ন। এখন স্বপ্ন নয়, বেঁচে থাকার লড়াইটাই যেন তাঁদের কাছে অনেক বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    ‘শোক পরিণত হোক শক্তিতে’

    সংসদ সদস্যের সঙ্গে আন্দোলনরত চা শ্রমিক নেতাদের সাক্ষাৎ

    দুই বাসার ৮ সদস্যকে অচেতন করে লুট

    নিয়োগ পেতে ‘জালিয়াতি’

    কলকাতা থেকে তামাবিল দিয়ে পণ্য গেল মেঘালয়ে

    পানি নিষ্কাশন করে ধান চাষের ব্যবস্থার দাবি

    সিআরবিতে হাসপাতাল না করার অনুরোধ চট্টগ্রামের শীর্ষ নেতাদের

    পানিসহ পেট্রল বিক্রির অপরাধে ৪৮ হাজার টাকা জরিমানা

    টেকনাফে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্রসহ ২ রোহিঙ্গা গ্রেপ্তার

    নাটোরে হত্যাসহ ৪ মামলায় বিএনপি নেতা কারাগারে

    ৮০ রানেই গুটিয়ে গেলেন সৌম্য-সাব্বিররা

    রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে আওয়ামী লীগ নেতাকে ছুরিকাঘাতে খুন