Alexa
শনিবার, ১৩ আগস্ট ২০২২

সেকশন

epaper
 

মানিকগঞ্জের ঘিওর

ভাঙনঝুঁকিতে বসতবাড়ি, স্কুল

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২২, ১১:০৯

ঘিওর উপজেলার সিংজুড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ নাটুয়াবাড়ি এলাকায় পুরোনো ধলেশ্বরী নদির ভাঙনকবলিত বসতবাড়ি। ছবিটি সম্প্রতি তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানিকগঞ্জের ঘিওরে নদীভাঙনের তীব্রতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পুরোনো ধলেশ্বরী ও ইছামতী নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে শত শত একর ফসলি জমি, বসতবাড়িসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। নিঃস্ব হয়ে পড়ছে অনেক পরিবার।  

গতকাল শনিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, ইছামতীর ভাঙনে উপজেলার সদর ইউনিয়নের রছুলপুর এলাকার ১০টি পরিবারের বসতবাড়ি এবার বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়া পাশের কুঠিবাড়ী, রামকান্তপুর ও কুস্তার আরও ১৫টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। কুস্তা কফিল উদ্দিন দরজি উচ্চবিদ্যালয় এবং শতবছরের ঐতিহ্যবাহী ঘিওর গরুর হাট অর্ধেক বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে কুস্তা ব্রিজ, ঘিওর-গোলাপনগরের রাস্তা, ব্যাপারীপাড়া কবরস্থান, রসুলপুর কবরস্থান, কুস্তা কবরস্থান, ঘিওর কেন্দ্রীয় শ্মশানঘাট, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি উচ্চবিদ্যালয়, মসজিদ, মন্দির, ব্রিজ, বাজার, হাট, সরকারি খাদ্যগুদামসহ বেশ কিছু স্থাপনা। ভাঙনরোধে স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে ভাঙনকবলিত এলাকা রসুলপুরের বাসিন্দা ঘিওর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবছরই নদীভাঙন শুরু হয়। আমার বাড়ি ভাঙন এলাকায়, রাতে ঘুমানোর সময় হঠাৎ আঁতকে উঠি। গত বছর বর্ষায় রসুলপুর এলাকার কয়েকটি বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে যায়। এসব বাড়ির বাসিন্দারা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গিয়ে আশ্রয় নেয়।’

নদীভাঙনের সংবাদে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ৬ টন টিআর প্রকল্পে চাল বরাদ্দ দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গতকাল শনিবার বিকেলে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তাঁর উদ্যোগে রসুলপুর এলাকায় ভাঙনরোধে অস্থায়ী প্রতিরোধক নির্মাণ করা হয়।

এদিকে ইছামতী নদীর ভাঙনরোধে অস্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ভাঙনের আশঙ্কায় রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা, বাজার, রাস্তাঘাটসহ শত শত বাড়িঘর।

গত বছর বর্ষার আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড পুরোনো ধলেশ্বরীর কুস্তা ও নারচী পাড়ে ভাঙনরোধে প্রতিরক্ষামূলক বাঁধ নির্মাণ করেছিল। তবে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তীব্র স্রোতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে প্রতিরক্ষামূলক বাঁধের জিও ব্যাগ। চলতি বছর বাঁধ কিংবা প্রতিরক্ষামূলক জিও ব্যাগ স্থাপনের কোনো কাজ না করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এবার শ্রীধরনগর, মাইলাগী, ঘিওর পূর্বপাড়া, ঘিওর নদীর উত্তর পাড়ের বাজার এলাকার দুটি স্থাপনা, কমপক্ষে ২০টি বসতবাড়ি ধলেশ্বরীর ভাঙনের শিকার হয়েছে। বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, ব্রিজসহ ৫টি প্রতিষ্ঠান ঝুঁকিতে রয়েছে।

নারচী এলাকার মো. সিরাজ বলেন, ‘সবসময় আতঙ্কে থাকি। আমরা ত্রাণসহায়তা চাই না। নদীভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ চাই।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হামিদুর রহমান বলেন, ‘ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। রসুলপুরসহ উপজেলার ১৪-১৫টি ভাঙন এলাকার ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি।’

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে রুট পারমিট ছাড়া চলছে বাস, বাড়ছে দুর্ঘটনা

    ভরা বর্ষায়ও সেচ দিয়ে আমন চাষ

    কাদেরের বক্তব্যে দ্বিমত শরিক দলের নেতাদের

    বিপিসির হিসাবে বড় গরমিল

    জলাধার বন্ধ করে প্রাচীর পানির নিচে খেতের ধান

    বাইক বিক্রি অর্ধেকে নেমেছে

    ভেন্টিলেশনে সালমান রুশদি, কথা বলতে পারছেন না

    আষাঢ়ে নয়

    তুইও মরবি, আমাদেরও মারবি

    নতুন পরিচয়ে সোহানা সাবা

    তারেক মাসুদ ছিলেন স্বপ্নের নায়ক

    বোনদের নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা অক্ষয়ের