Alexa
শনিবার, ১৩ আগস্ট ২০২২

সেকশন

epaper
 

আজকের বই

উত্তরবঙ্গের ভুলে যাওয়া ইতিহাস

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২২, ১৭:০৩

উত্তরবঙ্গের ভুলে যাওয়া ইতিহাস প্রায় ১৪ বছর আগে মিরপুর বিহারি কলোনিতে আবু সুফিয়ান নামে প্রায় ৭০ বছর বয়সী একজনের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল। ঢাকায় বসবাসকারী উর্দুভাষী মানুষদের নিয়ে একটি গবেষণাকর্মে সহযোগিতার কাজ করছিলাম তখন। আবু সুফিয়ানের বাড়ি ছিল পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনায়। তিনি ছিলেন বাংলাভাষী। কিন্তু ১৯৪৭ সালের উত্তাল তরঙ্গে ভাসতে ভাসতে তাঁর ঠাঁই হয়েছিল মিরপুর বিহারি কলোনিতে। ভগ্নস্বাস্থ্য, প্রৌঢ়ত্ব, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ইত্যাদি যে তাঁর প্রায় ৭০ বছর বয়সী মনটিকে কুরে কুরে খাচ্ছিল, চোখ দেখে তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল। আবু সুফিয়ান কি এত দিনে বেঁচে আছেন? সে খবর আমি জানি না।

‘মননরেখা’র দশম সংখ্যা হাতে পাওয়ার পর প্রথমেই আবু সুফিয়ানের কথা মনে পড়েছিল। মনে পড়েছিল তাঁর প্রায় নিভে যাওয়া চোখের দৃষ্টিতে লেখা না বলা অনেক কথা। মনে পড়েছিল, পাসপোর্ট-ভিসা নিয়ে নিজের রক্ত-সম্পর্কিত আত্মীয়দের দেখতে যাওয়া আমার এক লেখক বন্ধুর কথা। সীমান্ত পার হয়ে তার পিসতুতো ভাইকে জড়িয়ে ধরে আমার বন্ধুটি যে তার ভাইয়ের ধমনিতে রক্তপ্রবাহের শব্দ শুনেছিল, সে গল্প মনে পড়ে গেল ‘মননরেখা’য় প্রকাশিত মো. আশরাফ হোসেনের সাক্ষাৎকার পড়তে পড়তে। কে এই মো. আশরাফ হোসেন? ব্রিটিশ ভারতের আলিপুর দুয়ার জেলার মজিদখানা গ্রামে জন্ম নেওয়া মো. আশরাফ হোসেন নামের এই মানুষটি স্বাধীন বাংলাদেশের রংপুর শহরে বড়দা নামে পরিচিত। কেন? কারণ ১৯৪৭ সালে দেশভাগ নামে একটি রাজনৈতিক ঘটনা ঘটেছিল এ ভূখণ্ডে।

মননরেখার এবারের সংখ্যাটি দেশভাগ নিয়ে। তবে কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় যে, সংখ্যাটি করা হয়েছে ‘উত্তরবঙ্গে দেশভাগ’ নামে। বাংলাদেশের পুরোনো রাজশাহী বিভাগ এবং ভারতের পুর্ণিয়া, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, ডুয়ার্স, কোচবিহার এবং আসামের নিচের অংশ নিয়ে যে বিস্তীর্ণ অঞ্চল, সেটিই মূল উত্তরবঙ্গ। তবে এখনকার রংপুর বিভাগ আর ভারতের শিলিগুড়ি থেকে লোয়ার আসাম হলো ক্ল্যাসিক উত্তরবঙ্গ। অবিভক্ত ভারতবর্ষের এই অঞ্চলটি দেশভাগের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর এক অংশ চলে গেছে বিহারে, এক অংশ পশ্চিমবঙ্গে, এক অংশ আসামে আরেক অংশ বাংলাদেশে। অথচ দেশভাগের আলোচনায় এই অঞ্চলটি সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। কারণ কী?

এর একটি বড় কারণ সম্ভবত উত্তরবঙ্গে দেশভাগের ‘সাইড এফেক্ট’ হিসেবে ধর্মীয় বা জাতিগত দাঙ্গা হয়নি বা হলেও সেটা খুবই সামান্য, যার প্রভাব পড়েনি লিখিত ইতিহাসে। কিন্তু লিখিত প্রভাব না পড়লেও এর ব্যবহারিক প্রভাব পড়েছে এ অঞ্চলের ওপর। বিশেষ করে বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের ওপর। এ বিভাগের যে আটটি জেলা, সেগুলোর সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ ছিল মূলত নেপাল, ভুটান, আসাম কিংবা দিল্লির সঙ্গে। সে কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে গেছে উত্তরবঙ্গের মাঝামাঝি কাঁটাতার বসার পরে। কাঁটাতারের দুই পারে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সচল থাকলেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে উত্তরবঙ্গের আটটি জেলা হয়ে গেছে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রান্তীয় জনপদ। এ গল্প গত ৭৫ বছরে কোথাও আলোচিত হয়নি।

এই অনালোচিত বিষয়টি আলোচনায় এনেছে মননরেখা। মফিদুল হক, মাহবুব সিদ্দিকী, ড. আনন্দগোপাল ঘোষ, ড. মোহাম্মদ আজিজুর রহমানসহ দুই বাংলার প্রায় ৫০জন লেখক লিখেছেন এ সংখ্যায়। লেখকতালিকা যথেষ্ট সমৃদ্ধ। এ সংখ্যার জন্য প্রচ্ছদ করেছেন প্রখ্যাত শিল্পী গণেশ হালুই।

মননরেখা
ষাণ্মাসিক সাহিত্যপত্র

সম্পাদক 
ড. মিজানুর রহমান নাসিম

পৃষ্ঠাসংখ্যা
৫৫৯

দাম
৫০০ টাকা

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    পঠিতসর্বশেষ

    এলাকার খবর

     
     

    জাকির তালুকদারের উপন্যাসে চলনবিলের দীর্ঘশ্বাস

    আবুল হাসানের অনন্য আলেখ্য

    মহাদেব সাহা: কবিতা ছাড়া যাঁর আর কোনো সম্বল নেই

    সাম্প্রতিক কালে রবীন্দ্রসাহিত্য কতখানি প্রাসঙ্গিক? 

    কাম্যুর ‘দ্য মিথ অব সিসিফাস’

    বিলুপ্ত জনপদের পথে প্রান্তরে

    ধর্ষণের অভিযোগে খুবি শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

    প্রথম দক্ষিণ এশীয় হিসেবে ‘মিলেনিয়াম লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন স্থপতি মেরিনা

    মাদারগঞ্জে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতা

    আর্জেন্টিনায় উগ্র সমর্থকদের ক্ষোভের আগুনে পুড়ে ছাই ফুটবলারদের গাড়ি

    দেশে-বিদেশে সর্বত্রই ধিক্কৃত হচ্ছে সরকার: মির্জা ফখরুল

    ভেড়ামারায় ফিলিং স্টেশনে অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২