Alexa
মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট ২০২২

সেকশন

epaper
 

গরুর চর্মরোগ, দুশ্চিন্তা খামারির

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২২, ১২:৫৫

গরুর চর্মরোগ, দুশ্চিন্তা খামারির টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ করেই দেখা দিয়েছে গরুর লাম্পি স্কিন ডিজিজ (চর্মরোগ)। ইতিমধ্যে ভাইরাসজনিত এই রোগ গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে গরুর চামড়া ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, ভেঙে পড়ছে স্বাস্থ্য। এতে কোরবানির ঈদ সামনে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন খামারি ও ব্যবসায়ীরা। তবে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা বলছেন, এ নিয়ে উৎকণ্ঠিত হওয়ার মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়নি।

প্রাণিসম্পদ সার্জন, খামারি ও সংশ্লিষ্টরা জানান, এ রোগ সাধারণত গ্রীষ্মের শেষ ও বর্ষার শুরুতে মশা-মাছির বিস্তারের সময় দেখা দেয়। মশা-মাছি এবং খাবারের মাধ্যমে এক গরু থেকে অন্য গরুতে ভাইরাসজনিত এ রোগ ছড়ায়। টিকার মাধ্যমে এর সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে আক্রান্ত গরুটি আলাদা করে মশারির ভেতর রাখা জরুরি। এসব গরু নিয়ে প্রতিদিনই প্রাণিসম্পদ দপ্তর, ভেটেরিনারি হাসপাতাল ও গ্রাম্য ডাক্তারের কাছে ভিড় করছেন খামারি ও প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকেরা।

এ রোগের লক্ষণগুলো হলো আক্রান্ত গরুর গা হঠাৎ গরম হয়ে যায়। শরীরজুড়ে ছোট ছোট মাংসপিণ্ডের মতো ফুলে ওঠে। অনেকটা আঁচিলের মতো। পা, ঘাড় ও মাথায় এসব বেশি উঠতে দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে চামড়া উঠে ক্ষতে পরিণত হয়। এ রোগে আক্রান্ত গরু খাওয়া ছেড়ে দেয়। এমনকি আক্রান্ত পশুর চোখ দিয়ে পানি ঝরে চোখ অন্ধ হয়েও যেতে পারে। তবে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার হার ১ থেকে ৩ শতাংশ। ষাঁড়ের ক্ষেত্রে ইনফার্টিলিটি এবং গর্ভবতী প্রাণীতে গর্ভপাত ঘটে। ক্ষুরা রোগের চেয়েও এটি বেশি ভয়ংকর রূপ ধারণ করতে পারে। জেলায় প্রায় ১০ লাখ ৭৫ হাজার গরু রয়েছে।

সদর উপজেলার ছোট বাসালিয়া গ্রামের শাহাদৎ হোসেন বলেন, ‘তিন দিন ধরে ১৭ দিনের বাছুরটি এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। গ্রামের অনেকের গরুই এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তাই বাছুরের চিকিৎসা করাতে সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে এসেছি।’

বেতর গ্রামের ভোলানাথ মণ্ডল বলেন, ‘আমার ষাঁড়সহ পাঁচটি গরুর মধ্যে তিনটি গরু এ রোগে আক্রান্ত। এ পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গরু নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় পড়েছি।’

আলোকদিয়া গ্রামের খামারি রাকিবুল ইসলাম স্বপন বলেন, ‘আমার দুটি গরু দেড় মাস আগে এ রোগে আক্রান্ত হয়। মোটামুটি সুস্থ হলেও পায়ে ও বুকে ক্ষত রয়েছে। আক্রান্ত গরুগুলো এখন শুধু ঝিমায়, খাবার কম খায় এবং ক্ষতস্থান দিয়ে রক্ত ও পুঁজ বের হয়।’

এ বিষয়ে সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালের ভেটেরিনারি সার্জন আবু সাইম আল সালাউদ্দিন বলেন, এ রোগ প্রতিরোধে সরকারি কোনো ভ্যাকসিন না থাকলেও বেসরকারিভাবে টিকা দেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রতিদিনই হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রান্তিক পর্যায়ে কাজ করা হচ্ছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রানা মিয়া বলেন, এ রোগে আক্রান্ত হলে গরুর চামড়া বেশি ক্ষতি হয়। স্বাস্থ্য নষ্ট হয়ে যায়। এতে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে খামারি, ব্যবসায়ী ও কৃষককে। কোরবানির জন্য কোনো ক্রেতাই ক্ষত গরু কিনতে চায় না। টাঙ্গাইলে এ রোগ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    পঠিতসর্বশেষ

    এলাকার খবর

     
     

    সময়টা অনুধাবন করে সহনশীল হতে হবে

    কারাগারে না পাঠিয়ে সংশোধনের সুযোগ অপরাধীদের

    বাসে বাড়তি ভাড়ায় বিপাকে যাত্রী, বাধছে তর্কবিতর্ক

    ভোগান্তির আরেক নাম ফতেপুর বেইলি সেতু

    এখনো বই পায়নি সুনামগঞ্জে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীরা

    শিশুর চুল থাকুক খুশকিমুক্ত

    ভরা বর্ষায় মরা মাতামুহুরি

    পার্বত্য চট্টগ্রামে সামরিক শাসন চলছে: সন্তু লারমা

    মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন বিবাহিতরাও

    অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড হাতিয়ে উপবৃত্তির টাকা হাপিস

    ঢামেক হাসপাতালে অন্তঃসত্ত্বার মৃতদেহ রেখে পালিয়েছে ২ নারী