Alexa
শুক্রবার, ১২ আগস্ট ২০২২

সেকশন

epaper
 

জীবন অগাধ

পদ্মা

আপডেট : ৩০ জুন ২০২২, ১০:১০

জসীমউদ্‌দীন দূরের পদ্মা এসে হাজির হলো গ্রামের কাছে। দূর থেকে যে পদ্মাকে দেখে আসতে হতো, তা আশপাশের চর ভাঙতে ভাঙতে ফুঁসতে লাগল। গোল গোল ঘূর্ণিগুলো প্রথমে এসে মাটিকে আঘাত করে। তারপর পাড়ের নিচের মাটি ধুয়ে ফেলে। এরপর বিকট শব্দে গাছগাছালিসহ অনেকখানি জমি পানিতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে।

পদ্মা কারও কথা শোনে না। কিন্তু অসহায় মানুষদের পাশে তো দাঁড়াতে হবে। জসীমউদ্‌দীন আলাপে বসেন মনাদার সঙ্গে। স্কুলের বড় ছেলেরা তো ঘরহীন মানুষের ভাঙা ঘরগুলো নিয়ে বন্যার ভয়হীন জায়গায় রেখে আসতে পারে। ছোট ছেলেরা তাদের হাঁড়ি-পাতিল, আসবাব নিরাপদ জায়গায় রেখে আসতে পারে। মনাদা একটা আবেদন করলেন স্কুলের হেডমাস্টার বরাবর। হেডমাস্টার সাহেব খুব খুশি হলেন। ক্লাসে ক্লাসে প্রচার করার হুকুম দিলেন তিনি। স্কুলের ছেলেরা দলে দলে সাহায্য করতে ছুটল।

ফরিদপুরের দুই প্রসিদ্ধ উকিল বাবু পূর্ণচন্দ্র মৈত্র আর মথারানাথ মৈত্রের চোখে তা ভালো লাগল না। তাঁরা দুজন চিঠি লিখলেন হেডমাস্টার বরাবর, বললেন, ‘নদীভাঙনের লোকদিগকে ছেলেরা যে সাহায্য করিতে যাইতেছে, তাহারা যদি জলে ডুবিয়া মরে, সে জন্য কে দায়ী হইবে?’ হেডমাস্টার পরদিন থেকে ছাত্রদের আর সাহায্যে যেতে অনুমতি দিলেন না।

তখন মনাদা উকিল দুজনের নামে অনামী পত্র লিখলেন। এই দুই উকিল এসেছিলেন পশ্চিমবঙ্গ থেকে। তাই চিঠিতে মনাদা লিখলেন, ‘তাঁরা দুজন কোন অধিকারে পূর্ববঙ্গের ছেলেদের অভিভাবক হইয়া বসিলেন? অসহায় গ্রামবাসীদের দুঃখে পূর্ববঙ্গের ছেলেদের সেবাকার্যে যদি তাহারা সত্য সত্যই বাধা হইয়া দাঁড়ান, তবে ইহার প্রতিকার পূর্ববঙ্গের ছেলেরাই করিবে।’

এটি লাইব্রেরির নোটিশ বোর্ডে টাঙিয়ে দিলেন মনাদা আর জসীম। নোটিশখানি পড়ে অন্য সব উকিল ওই দুই উকিলের নামে ছি ছি করতে লাগলেন। আর মৈত্রদ্বয় ভয়ে কাঁপতে লাগলেন। তাঁরা ভাবলেন এ বিপ্লবীদের কাজ। তাঁরা নিজেদের চিঠি প্রত্যাহার করে নিলেন। ছেলেরা আবার অসহায় মানুষের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করতে শুরু করল।

সূত্র: জসীমউদ্‌দীন, জীবনকথা, পৃষ্ঠা ২৩০-২৩২

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    পঠিতসর্বশেষ

    এলাকার খবর

     
     

    ভরা বর্ষায়ও সেচ দিয়ে আমন চাষ

    বন্ধ হয়ে যাচ্ছে মুরগির খামার

    আমন চাষের শুরুতেই বাড়তি খরচের বোঝা

    তিন দিনে আ.লীগ নেতার ৩ ঘেরে বিষ দিল দুর্বৃত্তরা

    পাঁচ দিনে চিনির দাম বাড়ল ৭ টাকা

    তরুণের মৃত্যুদণ্ড ও কিছু কথা

    কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলোর পক্ষপাতের অভিযোগে বিক্ষোভ তৃণমূলের

    একজন শিক্ষক সবসময় মাথা উঁচু করে চলবেন: খুবি উপাচার্য 

    আগামীকাল ‘খ’ ইউনিটের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা

    অভিযুক্ত চিকিৎসকের নিবন্ধন বাতিলের দাবি বিএইচআরএফের 

    পুরোনো প্রেম নিয়ে পন্ত-উর্বশীর কাদা ছোড়াছুড়ি

    ছেলের জন্য ওষুধ কিনতে বের হয়ে ৩ দিনেও ফেরেননি ব্যবসায়ী