Alexa
শনিবার, ১৩ আগস্ট ২০২২

সেকশন

epaper
 

তবু কারও চোখে পড়ে না

আপডেট : ১৭ জুন ২০২২, ১২:২৮

খাগড়াছড়ির রামগড়ের অলি-গলিতে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার। গতকাল রামগড় বাজার থেকে তোলা ছবি। আজকের পত্রিকা খাগড়াছড়ির রামগড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো অলিগলিতে গড়ে উঠেছে এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান। লাইসেন্সবিহীন এসব দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির ফলে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে সাধারণ মানুষ। যেকোনো সময় বিস্ফোরণে ঘটতে পারে প্রাণহানি। এ বিষয়ে প্রশাসনের কোনো নজরদারি দেখা যাচ্ছে না।

সরেজমিন দেখা গেছে, পুরো রামগড়ে বিস্ফোরকদ্রব্য বিক্রির লাইসেন্স রয়েছে ৩টি। এর মধ্যে সাবেক জেলা পরিষদের সদস্য আবু বকর এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম ফরহাদের লাইসেন্স থাকলেও তাঁরা এখন আর ব্যবসা করেন না। শুধু একজন ব্যবসায়ী লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করছেন।

রামগড় সদর, বাজারের ভেতরে গলি, সিনেমা হল, কালাডেবা এবং সোনাইপুল এলাকায় ৫০-৬০টি দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। সরকারি নীতিমালা না মেনে সারের, মুদি, চা ও কসমেটিকসের দোকান এবং প্রকাশ্যে রাস্তার পাশে এসব গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। বেশির ভাগের নেই এসব বিস্ফোরকদ্রব্য বিক্রির লাইসেন্স এবং অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার। আইনের তোয়াক্কা না করে প্রকাশ্যে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।

বিস্ফোরক পরিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করতে হলে ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স, জ্বালানি অধিদপ্তরের লাইসেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, পৌরসভা কিংবা ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স এবং অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার অবশ্যই থাকতে হবে। আলো-বাতাসপূর্ণ ঘরে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি এবং সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এসব শর্ত পূরণ করলেই কেবল বিস্ফোরকদ্রব্য বিক্রির অনুমতি মিলবে।

২০০৩ সালের দাহ্য পদার্থ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি যদি লাইসেন্স না নিয়ে বিস্ফোরকদ্রব্যের ব্যবসা করে, তবে তার তিন বছরের কারাদণ্ড ও অতিরিক্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে। প্রয়োজনে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সব মালামাল বাজেয়াপ্ত করা যাবে।

মেসার্স একেবি এন্টারপ্রাইজের ব্যবসায়ী পারেসুল ইসলাম বলেন, তাঁরনহ তিনজনের বিস্ফোরকদ্রব্য বিক্রির পরিপূর্ণ লাইসেন্স রয়েছে। এর মাঝে দুজন এখন ব্যবসা করেন না। লাইসেন্স করে ব্যবসা করছি। অথচ যত্রতত্র রাস্তার পাশে এসব সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রির দোকান গড়ে উঠেছে। অবৈধ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন থেকে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এ ব্যবসার প্রসার ঘটছে। দোকানিরা বেশির ভাগই বিস্ফোরক পরিদপ্তরের লাইসেন্স নেয়নি।

জনসমাগমপূর্ণ সারের (কীটনাশক) দোকানে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছিলেন বেলাল হোসেন। তাঁকে অবৈধভাবে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি তাঁর কাছে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের লাইসেন্স রয়েছে বলে দাবি করেন। অথচ তাঁকে লাইসেন্স দেখাতে বললে তিনি তা দেখাতে পারেননি।

রামগড় বাজারের বাসিন্দা হুমায়ন শরীফ জানান, প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। রাস্তার পাশে, চা-দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি ঝুঁকিপূর্ণ।

রামগড় ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর মো. ইফতেখার উদ্দীন বলেন, বেশির ভাগ দোকানেই অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার এবং ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদনপত্র নেই। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছাড়া এ ব্যবসা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

রামগড় উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মোহাম্মদ ইফতেখার উদ্দীন আরাফাত বলেন, যত্রতত্র সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি খুবই ভয়াবহ। দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    জগদ্ধাত্রী একাই এক শ

    বোনদের নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা অক্ষয়ের

    তারেক মাসুদ ছিলেন স্বপ্নের নায়ক

    নতুন পরিচয়ে সোহানা সাবা

    বস্তাপ্রতি ২৫০ টাকা বাড়ল চালের দাম

    ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে রুট পারমিট ছাড়া চলছে বাস, বাড়ছে দুর্ঘটনা

    আষাঢ়ে নয়

    তুইও মরবি, আমাদেরও মারবি

    নতুন পরিচয়ে সোহানা সাবা

    তারেক মাসুদ ছিলেন স্বপ্নের নায়ক

    বোনদের নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা অক্ষয়ের

    জগদ্ধাত্রী একাই এক শ

    ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে রুট পারমিট ছাড়া চলছে বাস, বাড়ছে দুর্ঘটনা