Alexa
শনিবার, ১৩ আগস্ট ২০২২

সেকশন

epaper
 

তোমার ভোট আমি মারব, এটাই সুষ্ঠু ভোট: ফের নৌকার প্রার্থীর ভিডিও ভাইরাল

আপডেট : ০৩ জুন ২০২২, ২৩:৪৯

আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চৌধুরী। ছবি: আজকের পত্রিকা চট্টগ্রামে বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চৌধুরীর আরেকটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘তোমার ভোট আমি নিজে মারব, এটা হলো সুষ্ঠু ভোট। মুসলমানের কাজ হচ্ছে একজনে নামাজ পড়াবে এর পেছনে আরও পাঁচ হাজার মানুষ নামাজ পড়বে, এত মানুষের ভোট দেওয়ার দরকার নাই!’

মজিবুল হক গত বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচনী প্রচারণার এক সভায় এমন বক্তব্য দেন।

সেই বক্তব্যের ৫৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মুজিবুল হক উপস্থিত লোকজনের সামনে মাইক্রোফোনে কথা বলছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার পূর্ব চাম্বল এলাকায় এক নির্বাচনী সভায় এমন বক্তব্য দিয়েছেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মুজিবুল হক চৌধুরী। 

ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা গেছে, ‘ভোট সুষ্ঠু করি আমরা, অসুষ্ঠু করিও আমরা। আমরা বললে সুষ্ঠু, না বললে অসুষ্ঠু। যেদিকে চাই সেদিকে। পৌরসভার ভোটের সময় আমাকে এক বিএনপি নেতা ফোন দিয়ে বলেছে, আমাকে মারতেছে, এভাবে গালি দিচ্ছে। আমি বললাম, কেন কথা বলতেছ, কথা বলিও না। সে বলে, কেউ কেউ বলতেছে কামরুল (স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী) চেয়ারম্যান হবে, সুষ্ঠু ভোট হবে। আমি বলেছিলাম, সুষ্ঠু ভোট হবে, সরকার লিখিত দিয়েছে নাকি? সে বলতেছে, কেন ইভিএমে ভোট হবে, আমি বলছি, ইভিএমে নিতে (ভোট) পারে না? সে বলে, না। আমি বললাম, তোমার ভোট আমি নিজে মারব। এটা হলো সুষ্ঠু ভোট। মুসলমানের কাজ হচ্ছে একজনে নামাজ পড়াবে, এর পেছনে আরও পাঁচ হাজার মানুষ নামাজ পড়বে, এত মানুষের ভোট দেওয়ার দরকার নাই!’

এর আগে মুজিবুল হকের একই ধরনের বক্তব্য সংবলিত আরেকটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। গত ২৯ মে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে বলতে শোনা গেছে, ‘রিকশায় করে বা যেভাবে পারেন এসে ভোট দিন। কারণ ইভিএমে ভোট। ইভিএম না হলে সব সিল আমিই মেরে দিতাম, কাউকে খুঁজতাম না। কথা বোঝেননি? ইভিএমে আইডি কার্ড না ঢুকালে ভোট হয় না। হলে ভোট আমি রাতেই নিয়ে নিতাম। তাই আপনাদের কষ্ট করে সেটা (জাতীয় পরিচয়পত্র) নিয়ে যেতে হবে। মেশিনে ফিঙ্গার প্রিন্ট দিতে হবে। আপনারা কষ্ট করে কেন্দ্রে যাবেন। আঙুলের ছাপ দিয়ে ভোট দেবেন। ছাপ দিতে না পারলে সেখানে আমি ছাপ দেওয়ার মানুষ রাখব। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন।’ 

ভাইরাল হওয়া ভিডিওর বিষয়ে এই চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর বক্তব্য তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তাঁকে শোকজও করা হয়েছিল। 

পরের ভিডিওর ব্যাপারে জানতে চাইলে মজিবুল হক চৌধুরী বলেন, ‘যারা ২০১৪ সালে বাঁশখালী আদালত ভবন ও হিন্দুদের আগুনে পুড়ে মারছে, তারা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতেছে। তারা উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে আমার বক্তব্যগুলো এডিট করছে, যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করেছে।’ ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি ২০১৭ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় ধারণকৃত ভিডিও বলে দাবি করে তিনি। 

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সাল আলম বলেন, ‘প্রথম ভিডিও ভাইরালের পরে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী মুজিবুল হক চৌধুরীকে শোকজ করা হয়েছিল। তাঁর দ্বিতীয় ভিডিওটি দেখেছি। এ বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জানতে চাইলে বাঁশখালী থানার ওসি মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘চাম্বল ইউনিয়ন চেয়ারম্যানে প্রার্থী মুজিবুল হকের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার খবর শুনেছি। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

 আগামী ১৫ জুন বাঁশখালী উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে হত্যা মামলার ১ আসামি গ্রেপ্তার 

    লক্ষ্মীপুরে বিএনপির সমাবেশ ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ

    পদ্মাসেতু নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার যুবক, স্ত্রীর দাবি প্রতিহিংসা 

    বিএনপির সমাবেশস্থলে ছাত্রলীগের হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ

    ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে মৎস্য খাতে অস্থিরতা

    ৭ দিনের মধ্যে নূরকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে হাজিরের নির্দেশ

    ভেন্টিলেশনে সালমান রুশদি, কথা বলতে পারছেন না

    আষাঢ়ে নয়

    তুইও মরবি, আমাদেরও মারবি

    নতুন পরিচয়ে সোহানা সাবা

    তারেক মাসুদ ছিলেন স্বপ্নের নায়ক

    বোনদের নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা অক্ষয়ের