Alexa
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২

সেকশন

epaper
 

দোকানে দখল আশ্রয়ণের জমি

আপডেট : ২৪ মে ২০২২, ০৯:৪১

দোকানে দখল আশ্রয়ণের জমি নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার অতিথপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের জমিতে ছোট-বড় প্রায় ৭০টি দোকান তোলা হয়েছে। এক জায়গায় এত দোকানঘর তুলতে গিয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের বের হওয়ার রাস্তাও বন্ধ করার অভিযোগ রয়েছে দখলদারদের বিরুদ্ধে।

এসব দোকান থেকে প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন দখলদারেরা। কোনো কোনো দোকানের পেছনের দেয়াল পেছাতে পেছাতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পর্যন্ত নিয়ে আসা হয়েছে। এ যেন আশ্রয়ণ প্রকল্পের জমি দখলের হিড়িক।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য এক একর জমিতে গড়ে তোলা হয় ৪০টি ঘর। বর্তমানে আশ্রয়ণ প্রকল্পের জমি অতিথপুর বাজারের দোকানদারদের দখল ও কংশ নদের ভাঙনের কারণে হুমকির মুখে রয়েছে। জমি দখলমুক্ত করার জন্য ২০০৭ সালে আদালতে মামলা করা হয়। ২০১২ সালে মামলার রায় সরকারের পক্ষে আসলেও অজানা কারণে প্রকল্পের খাসজমি থেকে দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়নি। বারবার প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েও কোনো সুরাহা পাননি বলে দাবি প্রকল্পের বাসিন্দাদের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আশ্রয়ণ প্রকল্পের কয়েকজন বাসিন্দারা বলেন, প্রকল্পটি নেত্রকোনা জেলার প্রথম আশ্রয়ণ প্রকল্প। আমরা আমাদের প্রাপ্য অধিকার চাই। আমাদের সরকার প্রথমে যে এক একর জমি দলিল করে দিয়েছিল সেই জমির হিসাব চাই। আমাদের বেশি জমির দরকার নেই। আমরা শুরুর এক একর জমি বুঝে নিতে চাই। কিন্তু গত ১৫ বছর ধরে এই দাবি জানিয়ে আসলেও কোনো প্রশাসনই আমাদের ওই এক একর জমি বুঝিয়ে দিতে আসেননি। এমনকি মামলার রায় সরকারের পক্ষে আসার পরও প্রশাসন খোঁজ নিতে আসেনি। আমরা বারবার তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। কিন্তু কোনো ফল হয়নি।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রথম সভাপতি মোর্শেদ আলী ফয়েজ বলেন, ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় সেনাবাহিনী এসে অথিতপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পটি তৈরি করে দিয়েছিল। শুরুর থেকেই এখানে আমরা ৪০টি পরিবার বসবাস করছি। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির নেতা–কর্মীরা আমাদের চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন মামলা দিয়ে হয়রানি শুরু করে। আর তখন থেকেই শুরু হয় দখলদারি। বর্তমানে আমাদের আশ্রয়ণ প্রকল্পের এক একর জমির বেশির ভাগই দখল হয়ে গেছে। আর দুই চার বছর পরে বাকি জমিটুকুও দখল হয়ে যাবে। আর তখন আশ্রয়ণ প্রকল্প বলতে আর কিছুই থাকবে না।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বর্তমান সভাপতি মো. কাচালি মিয়া বলেন, ‘আমরা আমাদের এক একর জমি বুঝে নিতে চাই। প্রশাসন আমাদের এই দাবি কেন মানছে না ঠিক বুঝতে পারছি না। আর আশ্রয়ণ প্রকল্পে থাকা কেউ ভয়ে কথা বলতে চায় না। কারণ যারা আশ্রয়ণ প্রকল্পের জমি অবৈধভাবে দখল করেছে তাঁরা প্রকল্পের বাসিন্দাদের মামলা দিয়ে হয়রানি করে।

আশ্রয়ণের জমি দখলের বিষয়ে সোহেল নামের এক দোকানদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যারা দোকান করেছেন তাঁদের সবার কাছেই বৈধ কাগজপত্র আছে। আপনাদের কাছে কী কাগজ আছে এই প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, দোকানের জমি তাঁরা কিনে নিয়েছেন। তবে আশ্রয়ণ প্রকল্পের সরকারি খাসজমি আপনাদের কাছে বিক্রি করল কে—এমন প্রশ্নে কোনো সঠিক উত্তর দিতে পারেননি তিনি।

এ বিষয়ে বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মাজহারুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের বাসিন্দারা তাঁদের মামলার রায়ের কপিসহ লিখিত অভিযোগ করলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নিব। কারণ আশ্রয়ণ প্রকল্পের জায়গা অন্যায়ভাবে কেউ দখল করতে পারে না, আর পারবেও না।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    তদন্ত প্রতিবেদন আটকে সিআইডির প্রতিবেদনে

    ধানের লক্ষ্য অর্জন নিয়ে শঙ্কা

    ভোগান্তির চার কিলোমিটার

    টেকসই কৃষির জন্য নতুন প্রকল্প

    টেস্টে উন্নতি না করেও টাকার পাহাড়ে বিসিবি

    অস্কার কমিটিতে ভারতীয় তারকা

    কলম্বো বন্দরের সরকারি টার্মিনালে অগ্রাধিকার পাবে বাংলাদেশি জাহাজ

    খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার আভাস

    এই সরকার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে: আব্দুল আউয়াল মিন্টু

    কোম্পানীগঞ্জে বেপরোয়া গতির বাস ঢুকে পড়ল দোকানে, আহত ১০

    নির্বাচনে দায়িত্ব পেতে টাকা দিতে হয়েছে ভিডিপি সদস্যদের

    ‘স্নেক আইল্যান্ড’ থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করেছে রাশিয়া