Alexa
রোববার, ০৩ জুলাই ২০২২

সেকশন

epaper
 

যশোরের সবজি যাচ্ছে ১৪ দেশে

আপডেট : ২৪ মে ২০২২, ১৫:২৫

মনিরামপুরের রোহিতায় গতকাল সোমবার পটোল রপ্তানির উদ্বোধন করা হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা যশোরের মনিরামপুরে কৃষকদের উৎপাদিত নিরাপদ সবজি যাচ্ছে বিদেশে। জৈব কীটনাশক ব্যবহার করে উৎপাদিত এ অঞ্চলের ৩০০ কৃষকের খেতের সবজি সৌদি আরব, লন্ডন, জার্মান, ফ্রান্স, ইতালিসহ বিশ্বের উন্নত ১৪টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন কৃষকেরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন, তেমনি সমৃদ্ধ হচ্ছে দেশের অর্থনীতি।

মনিরামপুরের মশ্মিমনগর, চালুয়াহাটি, হরিহরনগর ও রোহিতা ইউনিয়নের কৃষকেরা বহু বছর ধরে সবজি উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে এসব অঞ্চলের ৩ হাজার কৃষক ২০১৪ সাল থেকে নিরাপদ সবজি চাষ শুরু করেন। এখন কৃষকেরা রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করে জৈব রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করে নিরাপদ স্বাস্থ্য সম্মত সবজি উৎপাদন করে আসছেন।

বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে এসব কৃষকদের কারিগরি সহযোগিতা দিচ্ছে সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া ও জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের বাস্তবায়িত ‘সফল’ প্রকল্প। এ প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকের উৎপাদিত সবজি ৩৩ জন রপ্তানিকারকের মাধ্যমে সরাসরি বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।সফল প্রকল্পের কর্মকর্তারা বলছেন, ২০১৮ সাল থেকে মনিরামপুরের রোহিতা, হরিহরনগর, চালুয়াহাটি ও মশ্মিমনগরের ৩০০ কৃষকের উৎপাদিত সবজি পটোল, পেঁপে, লাউ, শিম, ঝিঙে ও ধুন্দুল বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। মনিরামপুরের পাঁচটি বিক্রয়কেন্দ্র থেকে এসব পণ্য সৌদি আরব, লন্ডন, জার্মান, ফ্রান্স, ইতালি, সুইডেন, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান ও ব্রুনেই যাচ্ছে। ২০২১ সাল পর্যন্ত এ অঞ্চল থেকে ২৫৩ টন গ্রীষ্মকালীন সবজি ও ১ হাজার ৭২ টন শীতকালীন সবজি বিদেশে রপ্তানি হয়েছে।

এ দিকে গত মার্চ থেকে মনিরামপুরে উৎপাদিত নিরাপদ পটোল বিদেশে রপ্তানি শুরু হয়। গতকাল সোমবার রোহিতার পলাশী মোড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পটোল রপ্তানির উদ্বোধন করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর অঞ্চলের উপপরিচালক মোহাম্মদ নূরুজ্জামান।

এ সময় জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা দীপঙ্কর দাস, অতিরিক্ত উপপরিচালক সৌমিত্র সরকার, মনিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবুল হাসান, রোহিতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন, সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার জ্যেষ্ঠ প্রোগ্রাম ব্যবস্থাপক ইন্দু ভূষণ রায়, সংস্থাটির পণ্য ব্যবস্থাপক ড. নাজমুন নাহার, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের ‘সফল’ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক তৌহিদুল ইসলাম, সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার প্রোগ্রাম কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কৃষক মাহাবুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে পটোল চাষ করি। সফল প্রকল্পের মাধ্যমে নিরাপদ পটোল চাষ করছি ২-৩ বছর ধরে। কেঁচো সার, মেহগনির তেল ও খৈল এবং নিমের তেল কীটনাশক হিসেবে ব্যবহার করে আমরা সবজি উৎপাদন করছি।’

এ কৃষক বলেন, ‘পটোল নিয়ে আমাদের বাজারে ছুটতে হয় না। বাজারের দামের চেয়ে ২-৩ টাকা বেশি কেজিতে খেত থেকে পটোল কিনে নেন স্থানীয় ক্রেতা বিকাশ মণ্ডল।’

জলকর রোহিতা গ্রামের বজলুর রহমান বলেন, ‘আগে খেতের সবজি নিয়ে বাজারের আড়তে নিয়ে দেওয়া লাগত। সেখানে ছোট-বড় বাছাই করা লাগত। এখন কোনো বাছাবাছি নেই। যে অবস্থায় পটোল তুলি, সে অবস্থায় ১-২ টাকা কেজিতে বেশি দামে বিক্রি করতে পারছি।’

পাইকারি ক্রেতা বিকাশ মণ্ডল বলেন, ‘কৃষকের খেত থেকে পটোল কিনে পলাশী মোড়ে ঘরে রেখে গ্রেডিং করি। পরে সরাসরি ঢাকায় রপ্তানিকারকের কাছে পাঠিয়ে দিই। সেখান থেকে বিমানে করে উন্নত ১৪টি দেশে পটোল সরবরাহ করা হয়। এখন পটোল যাচ্ছে। এরপর পেঁপে, লাউ, ঝিঙে ও কাঁচকলা বিদেশে পাঠানো হবে।’

মনিরামপুরে নিরাপদ সবজি উৎপাদন ও বিদেশে রপ্তানি কাজের দেখভাল করেন সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার প্রোগ্রাম কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম। জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মনিরামপুরের রোহিতা, মশ্মিমনগর, চালুয়াহাটি ও হরিহরনগর ইউনিয়নের পাঁচটি বিপণনকেন্দ্র থেকে গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন সবজি বিদেশে রপ্তানি হয়। এসব অঞ্চলের ৩০০ কৃষক তাঁদের খেতে উৎপাদিত পটোল, পেঁপে, লাউ, শিম, ঝিঙে ও ধুন্দুল নিরাপদ পদ্ধতিতে চাষ করেন।’

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    আগাম আমন রোপণের ধুম

    ৩০ মণ ওজনের ‘সেকেন্দার’

    ২২ মণের ষাঁড় বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

    খাদ্য বিভাগে ধান দিতে অনাগ্রহ কৃষকের

    ৩০ মণের ‘কালো পাহাড়’ বিক্রির আশা ১০ লাখে

    বেড়িবাঁধে অবাধে ঘর নির্মাণ

    ২২ দিনের মধ্যে পরিবারের তিনজনের মৃত্যু

    জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবিতে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ

    আগাম আমন রোপণের ধুম

    গিনেস বুকে নাফিস

    কাউনিয়ার ৩৭ মণের সুলতান দাম ১২ লাখ টাকা

    ব্রহ্মপুত্র গিলে খাচ্ছে বসতভিটা