Alexa
রোববার, ০৩ জুলাই ২০২২

সেকশন

epaper
 

তবু সড়কই ধান শুকানোর জায়গা

আপডেট : ২৪ মে ২০২২, ১৭:০৭

 ধান কেটে শুকানোর জন্য গ্রামীণ পাকা রাস্তাগুলো ব্যবহার করেন কৃষকেরা। ছবি: আজকের পত্রিকা যতই নিষেধ করা হোক না কেন, ধান কেটে শুকানোর জন্য গ্রামীণ পাকা রাস্তাগুলো ব্যবহার করেন কৃষকেরা। বিপত্তি তখনই বাধে, ব্যস্ততম সড়কগুলো যখন কেউ কেউ ধান শুকানোর কাজে ব্যবহার করেন। ফলে রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশা, বাস ও ট্রাক চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হয়, শঙ্কা বাড়ে সড়ক দুর্ঘটনার।

গত কয়েক দিনে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন সড়কে ধান ও খড়ের কারণে দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সড়কে ধান ও খড়ের কারণে গত এক সপ্তাহে উপজেলার অন্তত ৩০টি স্থানে দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে দেড় শতাধিক মানুষ। দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই মোটরসাইকেল ও রিকশা-ভ্যান আরোহী। এ ছাড়া সড়কে ধান ও খড় থাকার কারণে হাঁটতে সমস্যায় পড়ছেন পথচারীরাও।

সবশেষ গত বুধবার সড়কে খড়ের কারণে ভ্যান উল্টে প্রাণ হারান উপজেলার চৈত্রকোল ইউনিয়নের হাজিপুর গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল (৩২)। শহিদুলের দুই সন্তান।

উপজেলার চৈত্রকোল, বড়দরগাহ্, কুমেদপুর, শানেরহাট, মদনখালী, বড় আলমপুর, রায়পুর, চতরা ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে খড় শুকাতে দিতে দেখা যায়।

কথা হয় গোপালপুর-রংপুর সড়কের বাসচালক রতন মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন এই রাস্তায় আমাদের গাড়ি নিয়ে চলাচল করতে হয়। গাড়িভর্তি যাত্রী থাকেন। আমন ও ইরি ধানের সময় এলে এই রাস্তায় খড় ও ধান শুকানোর হিড়িক পড়ে। খড় ও ধান শুকাতে দেওয়ায় যানবাহন নিয়ে চলাচল করতে চরম সমস্যা হচ্ছে।’

ভ্যানচালক বিধান চন্দ্র বলেন, ‘ভ্যানটায় হামার সম্বল, এটা না চলালে প্যাটোত ভাত যায় না।’ রাস্তায় খড় দেখিয়ে তিনি বলেন, তোরায় কওতো! ওসমার (কৃষকদের) এ্যানাও কি বিবেক নাই? গোটা ঘাটাত (রাস্তায়) কত পুরু করি খেড় নাড়ি (শুকাতে) দিছে! পেসেঞ্জার নিয়ে ভ্যান লোডে নেওছেনা। এরা হামার প্যাটোত নাত্তি (লাথি) মারোছে।’

মোটরসাইকেলচালক জাহিদ বলেন, ‘সড়কের প্রায় সব স্থানে ধান ও খড়। রাস্তাগুলোর কোনো কোনো স্থান খানাখন্দে ভরা, তা ছাড়া স্পিড ব্রেকারগুলোও খড়ে ঢেকে থাকায় কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তার খড়গুলো পিচ্ছিল হয়ে ভয়ংকর রূপ নেয়। মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকবার স্লিপ কেটেছে।’

চৈত্রকোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান শাহ বলেন, ‘এই খড়ের কারণে মোটরসাইকেলের আরোহীরা প্রতিদিনই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। ইউএনও স্যার আমাদের এ বিষয়ে বলেছেন। মানুষকে সচেতন করছি। কিন্তু তাঁরা কথা শোনেন না।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিরোদা রানী রায় বলেন, ‘আমিও রাস্তায় খড় শুকাতে দেখেছি। ইতিমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গণসচেতনতা বাড়াতে কাজ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের তাঁদের নিজ নিজ এলাকার সড়কগুলো থেকে খড় বা ধান সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সড়ক থেকে ধান ও খড় সরানো না হলে নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাবেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।’

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    রাস্তা বন্ধ করায় ৪ পরিবার বিপাকে

    ২২ দিনের মধ্যে পরিবারের তিনজনের মৃত্যু

    জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবিতে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ

    আগাম আমন রোপণের ধুম

    গিনেস বুকে নাফিস

    কাউনিয়ার ৩৭ মণের সুলতান দাম ১২ লাখ টাকা

    ত্রাণ বিতরণের নামে নাটক করেছে বিএনপি: কাদের

    বিরলে নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু 

    বেনাপোল নিয়ে যা বলছে ভারতের হাইকমিশন

    বড়লেখায় নৌকা ডুবে নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার  

    অন্যের পক্ষে কোরবানি করার বিধান

    ঈদের আগে পদ্মা সেতুতে চলছে না মোটরসাইকেল