Alexa
রোববার, ০৩ জুলাই ২০২২

সেকশন

epaper
 

‘মাদক বিক্রি করতে হবে নইলে চাঁদা দিতে হবে’

আপডেট : ২৪ মে ২০২২, ০৮:৫৮

‘মাদক বিক্রি করতে হবে নইলে চাঁদা দিতে হবে’ ‘হয় মাদক বিক্রি করতে হবে, নয়তো মাসে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হবে।’ এই নিয়ম চালু করেছে সাভারের ফুলবাড়িয়া এলাকার মাদক কারবারিরা। মাদক ছেড়ে কেউ সুস্থ জীবনে ফিরতে চাইলে তাকে এই নিয়ম মেনে চলতে হবে। অন্যথায় টর্চার সেলে নিয়ে তার ওপর চালানো হবে নির্যাতন।

মাদক কারবারিদের কাছে ফুলবাড়িয়া থানা হিসেবে পরিচিত ওই টর্চার সেলে রয়েছে কথিত ওসি ও দারোগা। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে।

ফুলবাড়িয়ার চান মিয়া একসময় ট্রাক চালাতেন। কয়েক বছর আগে ডাকাতের কবলে পড়ে ভয়ে ট্রাক থেকে লাফিয়ে পড়েন তিনি। এতে তাঁর কোমরের হাড় ভেঙে যায়। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হলেও কর্মজীবনে ফিরতে পারছিলেন না তিনি। কাজ করতে না পারার হতাশা থেকে একসময় মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন তিনি। এই সুযোগে স্থানীয় প্রভাবশালী মাদক কারবারিরা তাঁকে মাদক বিক্রিতে বাধ্য করেন। এখন তিনি মাদক ছেড়ে সুস্থ জীবনে ফিরতে চাচ্ছেন। কিন্তু মাদক কারবারিদের ভয়ে তাঁর অন্ধকার জীবন থেকে ফেরা হচ্ছে না।

চান মিয়া বলেন, ফুলবাড়িয়া এলাকার একটি পরিত্যক্ত ইটভাটাকে মাদক কেনাবেচার নিরাপদ স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছে মাদক কারবারিরা। চারদিকে ঘেরা ওই স্থানের একটি ছোট্ট ছাপরা ঘর মাদক বিক্রেতাদের কাছে টর্চার সেল হিসেবে পরিচিত। অনেকে আবার ওই ছাপরা ঘরকে ফুলবাড়িয়া থানা হিসেবেও জানেন। মাদক কারবারি মাসুদ রানা কথিত ওই থানার দারোগা হিসেবে মাদক বিক্রেতাদের কাছে পরিচিত। তাঁর কাছের এক বড় ভাই তাঁর ওসি। কেউ মাদক বিক্রি করতে অপারগতা প্রকাশ করলে কথিত ওই ওসির নির্দেশে টর্চার সেলে নিয়ে গিয়ে তাঁকে মারধর করা হয়। এরপর হয় তিনি মাদক বিক্রি করবেন অথবা মাসে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দেবেন, এই শর্তে ছেড়ে দেওয়া হয়।

চান মিয়া বলেন, গাঁজা সেবনের সুবাদে বছর দুয়েক আগে মাসুদ রানার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। মাসুদ রানা এলাকার প্রভাবশালী বিপ্লব সরকার পেমার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। পরিচয়ের সূত্র ধরে মাসুদ তাঁকে গাঁজা বিক্রিতে উদ্বুদ্ধ করেন। বিনিময়ে প্রতিদিন সেবনের জন্য গাঁজা দেওয়ার আশ্বাস দেন। টাকা ছাড়া গাঁজা পাওয়ার লোভে তিনি গাঁজা বিক্রিতে সম্মত হন। মাসখানেক আগে তিনি গাঁজা সেবন ও বিক্রি বন্ধ করে দেন। এ কারণে মাসুদ তাঁকে টর্চার সেল বা কথিত থানায় নিয়ে আটকে রেখে মারধর করেন। এরপর গাঁজা বিক্রি বা মাসে তাঁকে (মাসুদ) ১০ হাজার টাকা চাঁদা দেওয়ার শর্তে ছেড়ে দেন। ছাড়া পাওয়ার পর থেকে তিনি কিছুটা গা ঢাকা দিয়ে চলছেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাসুদ তাঁকে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন।

বিপ্লব সরকার পেমা বলেন, ‘টর্চার সেল বা কথিত থানা বলতে কিছু নেই। একটি মহল আমাকে জড়িয়ে এসব অপপ্রচার চালায়। তবে ফুলবাড়িয়ায় মাদক কারবার চলে। শত চেষ্টা করেও তা বন্ধ করা যাচ্ছে না।’

মাসুদ রানা সম্পর্কে পেমা বলেন, ‘ও একসময় মাদক সেবন ও কারবার করত। এখন আর মাদক কারবার করে না। মানুষ শুধু শুধু এসব বলে বেড়ায়।’

মাসুদ রানা বলেন, ‘একসময় আমি মাদক সেবন ও কারবার করতাম। সব ছেড়ে দিয়ে আমি এখন মুরগির ব্যবসা করি। চান মিয়া আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছেন, তা সত্য নয়।’

চামড়াশিল্প নগর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক রাসেল মোল্লা বলেন, ‘এলাকার মাদকসেবী ও কারবারিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছি। তথ্য অনুযায়ী এসব ব্যক্তি মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    পঠিতসর্বশেষ

    এলাকার খবর

     
     

    কোরবানির পশুর হাট কাঁপাবে রং বাহাদুর

    রাস্তা বন্ধ করায় ৪ পরিবার বিপাকে

    চাহিদার বেশি কোরবানির পশু

    দুই দফায় অগ্নিকাণ্ডে পুড়ল ১০টি দোকান

    অর্ধেক খালি রেখে ছাড়ছে ফেরি

    সেতুর প্রবেশমুখ ভেঙে খালে, ভোগান্তি চরমে

    রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে জাতীয় পার্টির ঈদ শুভেচ্ছা

    কোরবানির পশুর হাট কাঁপাবে রং বাহাদুর

    রাস্তা বন্ধ করায় ৪ পরিবার বিপাকে

    বন্যায় পানিবন্দী ১০ হাজার মানুষ, শহর রক্ষা বাঁধের দাবি

    আজকের পত্রিকার বর্ষপূর্তিতে বন্যার্তদের খাবার ও ওষুধ বিতরণ

    ‘এবারের বন্যায় আমগো সবকিছু শেষ কইরা দিল’