Alexa
বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২

সেকশন

epaper
 

সৌন্দর্য বিলাচ্ছে ‘একজ জাগরণের’ কৃষ্ণচূড়া

আপডেট : ২৩ মে ২০২২, ১৬:১৮

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ রেলস্টেশনসংলগ্ন রেললাইনের পাশের শতাধিক গাছে শোভা পাচ্ছে কৃষ্ণচূড়া ফুল। ছবি: আজকের পত্রিকা রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ শহর এখন কৃষ্ণচূড়ার রঙে রঙিন, বিশেষ করে গোয়ালন্দ রেলস্টেশনসংলগ্ন রেললাইনের পাশ দিয়ে প্রায় শতাধিক গাছে শোভা পাচ্ছে কৃষ্ণচূড়া ফুল। আর এ গাছগুলো রোপণ করেছেন স্থানীয় কিছু শিক্ষিত ও সৌন্দর্যপ্রেমী যুবক। তাঁদের রয়েছে একটি সামাজিক সংগঠন, যার নাম ‘একজ জাগরণে’।

পঞ্জিকা অনুসারে প্রকৃতিতে এখন গ্রীষ্মকাল। এ ঋতুতে কখনো কালবৈশাখীর রুদ্র তাণ্ডব, কখনো রোদের খরতাপ। এখন কৃষ্ণচূড়া ফোটার সময়। এখন গাছজুড়ে লাল রঙের ফুলের সমারোহ। এই কৃষ্ণচূড়া ফুল গাছের সবুজ পাতাকে ঢেকে দিয়ে নীরবে সৌন্দর্য বিলাচ্ছে।

জানা গেছে, প্রায় ১১ বছর আগে রেললাইনের দুই পাশসহ উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বাজারে অন্তত এক হাজারেরও বেশি কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ করে একজ জাগরণের সদস্যরা। এখন সেই চারা বড় হয়েছে, শোভা ও সৌন্দর্য বাড়াচ্ছে এলাকার।

সংগঠনটি পাখি সংরক্ষণের জন্যও বিভিন্ন কাজ করে। এর মধ্যে তাদের রোপিত গাছে মাটির হাঁড়ি বেঁধে দেওয়া অন্যতম। এ ছাড়া তারা প্রাণ ও প্রকৃতি নিয়ে কাজ করে।

সংগঠনটির সদস্যরা গাছ রোপণ থেকে শুরু করে পরিচর্যা ও এর রক্ষণাবেক্ষণে উল্লেখযোগ্য কোনো সহযোগিতা নেননি। সংগঠনের সদস্যদের থেকে টাকা তুলে তাঁরা চারাগুলো রোপণসহ পরিচর্যা করেছেন। কয়েক বছর আগে একবার গাছগুলো কেটে ফেলার উদ্যোগ নেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সে সময় একজের সদস্যরা রেললাইনে শুয়ে রেল অবরোধ করেন। পরে রেল কর্মকর্তারা আসে। রক্ষা পায় সারি সারি কৃষ্ণচূড়া গাছ।

সরেজমিনে গোয়ালন্দ রেলস্টেশন ও তার পাশে অবস্থিত সড়কে দেখা যায়, সড়কের পাশে রোপণ করা কৃষ্ণচূড়া গাছে এ বছর ব্যাপক ফুল ফুটেছে। এলাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন এসে গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। অনেককেই পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছেন, অনেকে আবার নিচে পড়া ফুল কুড়াচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, ১০-১১ বছর আগে কিছু যুবককে এই গাছগুলো রোপণ করতে দেখেছেন। তাঁরা ভেবেছিলেন, হয়তো রেলের পাশে বলে গাছগুলো কাটা পড়বে। একবার কাটার চেষ্টা চালালেও তা হয়নি। গাছগুলো যখন ছিল না, তখন রাস্তা দিয়ে দিনের বেলায় প্রচণ্ড রোদে হাঁটায় কষ্ট হতো। এই গাছগুলোর জন্য এখন তাঁদের চলাচল অনেক সহজ হয়েছে। তাঁরা এখন গাছের নিচে বসতে পারেন, বিকেলের দিকে এই গাছের নিচে আড্ডা বসে। এ ছাড়া এলাকার অনেক হাট এই গাছের নিচেই বসে।

একজ জাগরণের সদস্য শামীম আহমেদ বলেন, ‘গাছগুলো যখন আমরা রেললাইনের পাশ দিয়ে রোপণ করি, তখন আমাদের উন্মাদ, পাগলসহ আরও অনেক কিছু বলেছে অনেকেই। কিন্তু আমরা এসবে কান দিইনি, আমরা আমাদের কাজ করে গেছি। ১১ বছর পর যখন গাছগুলো বড় হয়েছে ও তাতে ফুল ফুটছে, তখন কত খুশি লাগে তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। তবে আবার কষ্টও লাগে যখন দেখি, কিছু লোক বিভিন্ন ব্যানার-পোস্টার পেরেক ঠুকে গাছে ঝোলায়।’

একজ জাগরণের আহ্বায়ক সুজন সরওয়ার বলেন, এলাকার সৌন্দর্য ও পরিবেশের কথা বিবেচনা করে আমরা প্রতিবছর গাছ রোপণ করে থাকি। এ পর্যন্ত আমরা কয়েক হাজার গাছ রোপণ করেছি। কৃষ্ণচূড়া ও হাজারখানেক তালগাছ বিভিন্ন স্থানে রোপণ করা হয়েছে। আমরা সব সময় প্রাণ ও প্রকৃতি নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করি, আমরা নিজেদের অর্থায়নে এ ধরনের কর্মকাণ্ডগুলো পরিচালনা করে থাকি।

সুজন সরওয়ার আরও বলেন, গাছ ও ফুল শোভাবর্ধন করলেও এ সৌন্দর্যে ভাটা ফেলছে বিভিন্ন ব্যানার ও পোস্টার। আমাদের অসচেতনতার কারণে প্রাণ ও প্রকৃতির ক্ষতি হচ্ছে, যা আমাদের বোঝা উচিত। এ নিয়ে আমাদের আরও সচেতন হতে হবে।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    ঢাকার খামারগুলোই এখন হাট

    ৮-১০ ঘণ্টাই থাকে না বিদ্যুৎ

    পিয়ন ছাড়া কেউ নেই অপেক্ষায় সেবাপ্রার্থী

    এখন ব্যস্ততা কামারদের

    সড়কের বুকে ভয়ংকর ক্ষত

    ঘন ঘন লোডশেডিং অতিষ্ঠ জনজীবন

    বিএম ডিপো থেকে পণ্যভর্তি অক্ষত কনটেইনার সরানো শুরু

    পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল চালু হচ্ছে এ মাসেই

    কিশোরী নেতৃত্ব এবং কর্মশালাবিষয়ক সেমিনার

    পুলিশের গুলিতে নিহত জেল্যান্ড ওয়াকারের মরদেহে পরানো হয়েছিল হাতকড়া

    পাবনায় স্বামীর বিরুদ্ধে ছুরিকাঘাতে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ

    সিলেটে ব্লগার অনন্ত হত্যা: বেঙ্গালুরুতে গ্রেপ্তার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ফয়সাল