Alexa
রোববার, ০৩ জুলাই ২০২২

সেকশন

epaper
 

দেশে কালোটাকা ৮৮ লাখ কোটি

আপডেট : ২৩ মে ২০২২, ১১:০৯

সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত বক্তব্য দেন দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির পাশাপাশি কালোটাকা এবং মুদ্রা পাচারও থেমে নেই। ১৯৭২-৭৩ থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছর পর্যন্ত দেশে কালোটাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৮ লাখ ৬১ হাজার কোটিতে। এই সময়ে বিদেশে অর্থ পাচার হয়েছে ৮ লাখ কোটি টাকা।

গতকাল রোববার ‘বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনা ২০২২-২৩: একটি জনগণতান্ত্রিক বাজেট প্রস্তাব’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত এ তথ্যটি সামনে আনেন। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. আইনুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে আয়ের উৎস হিসেবে কালো ও পাচার হওয়া অর্থ ব্যবহারসহ মোট ২৭টি নতুন উৎসের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনায় সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ লাখ ৫০ হাজার ৩৬ কোটি টাকা।

বিগত ৪৬ বছরে পুঞ্জীভূত কালোটাকার মাত্র ২ শতাংশ উদ্ধার করে তা বাজেটে আয় হিসাবে ব্যবহার করতে পারলে তার পরিমাণ হবে ১ লাখ ৭৭ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা। একই সময়ে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থের ১০ শতাংশ উদ্ধার করে বাজেটে আয় খাতে ব্যবহার সম্ভব হলে সেখান থেকে ৭৯ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা আয়ে যুক্ত হবে। আর দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও কালোটাকা উদ্ধারে একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ১৮ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। যেখানে প্রত্যক্ষ করের ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি কালোটাকা উদ্ধার ও পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে বাজেট ঘাটতি পূরণের কথা বলা হয়েছে। বিকল্প বাজেটে বৈদেশিক ঋণ ও ব্যাংকঋণকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

আবুল বারকাত বলেন, নতুন এই বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এতে মূল্যস্ফীতি ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।

আবুল বারকাত আরও বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ৩৩৮টি সুপারিশ রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো আয়বৈষম্য, সম্পদবৈষম্য, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাবৈষম্য ক্রমাগত হ্রাস করে তা দীর্ঘ সময়ে নির্মূল করা। এ লক্ষ্যে আয় ও ব্যয় খাতে মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে হবে। বাজেটে অর্থায়নের প্রান্তিক, দরিদ্র, নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তের ওপর কর দাসত্ব আরোপ করা যাবে না। এরপর রয়েছে সামাজিক সুরক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের সুপারিশ।

মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ৫ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে রাখতে হবে। শর্ত হলো, কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। সরকার মূল্যস্ফীতির যে হিসাব দিচ্ছে, তা বাস্তবসম্মত নয়। খাদ্য মূল্যস্ফীতি কোনো অবস্থাতে বাড়ানো যাবে না।

সরকারের চলমান মেগা প্রকল্প প্রসঙ্গে বারকাত বলেন, ‘আমরা অন্তত ৪-৫টি মেগা প্রকল্পের সুদ পরিশোধ শুরু করলে ঋণের ক্ষেত্রে সরাসরি রেড জোনে চলে যাব, যা আনুমানিক হিসাবে ২০২৭-২৮ সালে শুরু হওয়ার কথা। আর ২০৩২ সালে যখন ১২টি মেগা প্রকল্পের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ দিতে যাব, তখন বিপদ আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

বাজেটে আয়ের নতুন উৎস হলো: কালোটাকা উদ্ধার থেকে প্রাপ্তি, অর্থ পাচার উদ্ধার থেকে প্রাপ্তি, সম্পদ কর, অতিরিক্ত মুনাফার ওপর কর, (অনলাইন বাণিজ্যসহ) বিলাসী পণ্যের ওপর কর, সংসদ সদস্যসহ অনুরূপ ব্যক্তির গাড়ির শুল্ক মওকুফ বাতিল করে কর আহরণ, বিদেশি নাগরিকদের ওপর কর, সেবা থেকে প্রাপ্ত কর, বিমান পরিবহন ও ভ্রমণ কর, রয়্যালটি ও সম্পদ থেকে আয়, প্রতিরক্ষা বাবদ প্রাপ্তি, রেলপথ, ডাক বিভাগ, সরকারের সম্পদ বিক্রয়, সেচ বাবদ প্রাপ্তি, তার ও টেলিফোন বোর্ড।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    পঠিতসর্বশেষ

    এলাকার খবর

     
     

    গরুর চর্মরোগ, দুশ্চিন্তা খামারির

    রেলক্রসের ওভারপাসে বরাদ্দ বাড়ল ১৫০ কোটি টাকা

    বয়সে ছোট আঁচলের মানবতার দৃষ্টান্ত

    মসলা চাষে ১২০ কোটির প্রকল্প

    মেঘনার ভাঙনের ঝুঁকিতে বিদ্যুতের টাওয়ার

    ফোনের সংযোগ নেই তবুও আসছে বিল

    রাস্তা বন্ধ করায় ৪ পরিবার বিপাকে

    বন্যায় পানিবন্দী ১০ হাজার মানুষ, শহর রক্ষা বাঁধের দাবি

    আজকের পত্রিকার বর্ষপূর্তিতে বন্যার্তদের খাবার ও ওষুধ বিতরণ

    ‘এবারের বন্যায় আমগো সবকিছু শেষ কইরা দিল’

    গ্রেপ্তার এড়াতে কোনো ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠানে যেতেন না রজব আলী

    বন্যায় ম্লান ঈদের প্রস্তুতি