Alexa
সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২

সেকশন

epaper
 

মুখোমুখি ট্রাকশ্রমিকদের দুই গ্রুপ, অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি

আপডেট : ২২ মে ২০২২, ১৭:৪৫

অবরোধের চলাকালীন সময়ে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের তর্ক হয়। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাঁদের উঠিয়ে দেয়। ছবি: আজকের পত্রিকা দখল নিয়ে সংঘর্ষে শ্রমিকনেতাসহ তিনজন আহত হওয়ার ঘটনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করছেন বরগুনার ট্রাকশ্রমিকেরা। আজ রোববার সকাল থেকে তাঁরা কর্মবিরতি পালন করছেন। এর আগে গতকাল শনিবার দুপুরে বরগুনার টাউন হল এলাকায় বেসিক ট্রেড ইউনিয়ন ও আন্তজেলা ট্রাকশ্রমিকদের দুটি গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। 

এ সময় বেসিক ট্রেড ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুলহাস মিয়াসহ তিন শ্রমিক আহত হন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন হয়েছে।
  
বরগুনা জেলা ট্রাক, ট্যংক লরি কাভার্ড ভ্যান ইউনিয়নে সাংগঠনিক সম্পাদক আল মামুন জানান, শনিবার বেলা ১১টার দিকে ট্রাকশ্রমিকদের নেতা আতিকুর রহমান জুলহাস টাউন হল এলাকায় তাঁর ব্যক্তিগত ট্রান্সপোর্ট অফিসে বসে কাজ করছিলেন। এ সময় বরগুনা আন্তজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম জনের নেতৃত্বে মো. বশির উদ্দীন, আবদুল হালিম মোল্লা, রুহুল আমিনসহ ২০/২৫ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জুলহাসের অফিসে ঢুকে হামলা চালিয়ে তাঁকে আহত করেন। এ সময় তাঁরা জসীম উদ্দীন, মো. মাহফুজ, মিলন ও আবদুর রহমানকেও মারধর করে। হামলায় আহত জুলহাসকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। 

আজ রোববার বেলা ১টার দিকে টাউন হল এলাকায় ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, উভয় পক্ষের শ্রমিকেরা সড়ক ছেড়ে দিয়ে সড়কের পাশে মুখোমুখি অবস্থান নেন। বেলা ২টার দিকে ফের উভয় পক্ষের শ্রমিকেরা সংঘর্ষের জড়িয়ে গেলে ফের পুলিশ লাঠিচার্জ করে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

ট্রাকশ্রমিকনেতা জসীম উদ্দীন বলেন, ‘জুলহাসকে মারধরের প্রতিবাদে রোববার সকাল থেকে আমরা অনিদৃষ্ট কর্মবিরতি পালন করছি। কর্মসূচির অংশ হিসেবে টাউন হল এলাকায় সড়কে অবস্থান নিয়েছিলাম। দুপুরের দিকে বরগুনা আন্তজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম জনের সমর্থক শ্রমিকেরা আমাদের এখানে এসে আবারও হামলা চালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আমাদের শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। এ নিয়ে শ্রমিক পুলিশের সঙ্গে আমাদের তর্ক হয় এবং একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করে আমাদের উঠিয়ে দেয়।’

বরগুনা আন্তজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরী সদস্য আবদুল হালিম মোল্লা বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে আন্তজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন নামে ট্রাকশ্রমিকদের একটি সংগঠনটির নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বরিশাল থেকে বেসিক ট্রেড ইউনিয়ন বরগুনা জেলা শাখার নামে একটি সংগঠন নিয়ে আসেন। ওই সংগঠনের সভাপতি হিসেবে তিনি আন্তজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন অফিস দখলে নেন। গত ১৪ এপ্রিল বুধবার গভীর রাতে বরগুনা সদর উপজেলার চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত টাউন হল মোড়ে আন্তজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের অফিস ভাঙচুর করে ভেতরের আসবাব লুট করে। পরের দিন ১৫ এপ্রিল দুপুরে সাংগঠনিক সম্পাদক মনজুরুল আলম জনের নেতৃত্বে শতাধিক শ্রমিক টাউন হলে অবস্থান নিয়ে আন্তজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউয়িনের কার্যালয়টি নিজেরা নিয়ন্ত্রণ নেন।

বেসিক ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছরের শুরুর দিকে আন্তজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে আমার কাছে আসে। আমি শ্রমিকদের স্বার্থে বেসিক ট্রেড ইউনিয়নের দায়িত্ব নিয়ে শ্রমিকদের সংগঠিত করে চাঁদা থেকে রক্ষা করেছি। গত এক বছর শ্রমিকেরা স্বস্তিতে ছিল। কিছুদিন আগে মনজুরুল আলম জনের নেতৃত্বে একদল বহিরাগত সন্ত্রাসী আমাদের বেসিক ট্রেড ইউনিয়নের অফিস ভাঙচুর করে দখলে নেয়। শ্রমিকেরা তাঁদের নেতৃত্ব মানতে চাইছে না। কারণ তাঁরা সংগঠন ব্যবহার করে ব্যপক চাঁদাবাজি করে। তাঁদের নেতৃত্ব না মানায় শনিবার আতিকুর রহমান জুলহাসসহ বেশ কয়েকজন শ্রমিককে জন বাহিনী হামলা চালিয়ে আহত করে। এর প্রতিবাদে রোববার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে অবস্থান কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কিন্ত সেখানে জন লোকজন নিয়ে হামলা চালিয়েছে। আমরা এই দন্দের অবসানে স্থানীয় নেতা ও পুলিশ প্রশাসনের নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপ কামনা করি।’

বরগুনা আন্তজেলা ট্রাকশ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মনজুরুল আলম জন বলেন, ‘আমার বাবা রইসুল আলম রিপনের নেতৃত্বে সারা দেশের মতো বরগুনায়ও আন্তজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করছিলেন। হঠাৎ বেসিক ট্রেড ইউনিয়নের নামে একটি সংগঠন আমাদের কার্যালয় দখলে নিয়ে চাঁদাবাজি শুরু করে। আমরা বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানিয়ে শ্রমিকদের নিয়ে আমাদের অফিস দখলে নিই। কিন্তু গত শনিবার আবার মনিরুল ইসলামের সমর্থকেরা আমাদের অফিস দখল নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় শ্রমিকেরা বাধা দিতে গেলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।’ 

বরগুনার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর মল্লিক বলেন, ‘শ্রমিকদের দুটি গ্রুপের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বন্দ্বে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছিল। শ্রমিকদের দুটি গ্রুপে যাতে কোনোভাবে সংঘর্ষে জড়াতে না পারে, সে কারণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    যাত্রী কম হলেও ফের বেড়েছে লঞ্চভাড়া, ক্ষুব্ধ যাত্রীরা 

    ঈদকে ঘিরে ব্যস্ত মাটিরাঙ্গার কামারিরা

    বিমানবন্দরে ফের দুই উড়োজাহাজের সংঘর্ষ

    ‘খাইয়া বাঁচমু, না ঋণের কিস্তি দিমু’

    ‘যারা একটু গরম সহ্য করতে পারে না এমন নেতার প্রয়োজন নেই’

    সম্মেলন শেষে ফেরার পথে প্রতিপক্ষের হামলায় ছাত্রলীগ নেতা নিহত

    মেঘনা নদীতে লঞ্চঘাট থেকে ১৮০০ লিটার চোরাই ডিজেল জব্দ

    বীর মুক্তিযোদ্ধার মেয়ের ৫ কোটি টাকার মানহানি মামলা

    ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ফলাফল মঙ্গলবার

    শ্রমিক নেতার ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা: লাশ নিয়ে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ

    গত বছর ইট মেরে এ বছর পাটকেল খেলেন কোহলি

    মোদির হেলিকপ্টারের কাছে উড়ল কালো বেলুন, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন