Alexa
বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২

সেকশন

epaper
 

স্ত্রীর তালাকের প্রতিশোধ নিতে শিশু সামিউলকে হত্যা করেন সৎবাবা

আপডেট : ১৮ মে ২০২২, ১৫:২৫

বগুড়ায় শিশু সামিউল হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সৎ বাবা ও তাঁর সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: আজকের পত্রিকা দশ বছরের শিশুসন্তান সামিউলকে নিয়ে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন সালেহা। কিন্তু সৎবাবা সামিউলকে সহ্য করতে পারতেন না। যখন-তখন মারধর করে অনাহারে রাখতেন শিশুটিকে। আর স্ত্রীকে বলতেন ছেলেকে নানি বা খালার কাছে রেখে আসতে। কিন্তু ছেলেকে নিজের কাছেই রাখতে চাইতেন সালেহা। একপর্যায়ে তিনি দ্বিতীয় স্বামীকে তালাক দিয়ে ছেলেকে নিয়ে বোনের বাড়িতে গিয়ে ওঠেন। 

এই তালাকের প্রতিশোধ নিতেই শিশু সামিউলকে হত্যা করেন সৎবাবা ফজলুল হক (৩২)। তদন্তে এমন তথ্যই উঠে এসেছে বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার চাঞ্চল্যকর শিশু সামিউল হত্যার। 

এ ঘটনায় সৎবাবাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সালেহার দায়ের করা মামলায় দুপুরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

গ্রেপ্তারকৃত আসামি ফজলুল হক শাজাহানপুর উপজেলার কমলাচাপড় গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে এবং হত্যার কাজে সহযোগী অনিতা রানী (৩৫) একই উপজেলার চেলো গ্রামের খিরদ চন্দ্র দেবনাথের মেয়ে।

হত্যার শিকার শিশু সামিউল ইসলাম সাব্বির উপজেলার সাজাপুর গ্রামের মৃত তালেব আলী প্রামাণিকের মেয়ে ছালেহা বেগম (২৮) এবং তার প্রথম স্বামী মাঝিরা কাগজীপাড়ার জাহাঙ্গীর আলমের (৩০) ছেলে।

বগুড়া পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আজ বেলা ১১টায় নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আসামির জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, মাদক সেবনের কারণে বনিবনা না হওয়ায় প্রায় দেড় মাস আগে প্রথম স্বামী জাহাঙ্গীর আলমকে তালাক দিয়ে ১০ বছরের ছেলে সামিউলকে নিয়েই দিনমজুর ফজলুল হককে বিয়ে করেন ছালেহা। কিন্তু ফজলুল হক শিশুটিকে মেনে নেননি। তিনি সামিউলকে মারধর করে না খাইয়ে রাখতেন। আর ছালেহাকে বলতেন শিশুটিকে নানি অথবা খালার কাছে রেখে আসতে। কিন্তু শিশুকে নিজের কাছেই রাখতে চাওয়া ছালেহা একপর্যায়ে চলতি মাসের ১১ তারিখে ফজলুল হককেই তালাক দিয়ে ছেলেকে নিয়ে বোনের বাড়িতে আশ্রয় নেন। গত ১০ মে ছেলেকে সাজাপুর পূর্ব দক্ষিণপাড়ায় তালিমুল হাফিজিয়া মাদ্রাসায় রেখে আসেন।

এদিকে ছালেহার তালাকের প্রতিশোধ নিতে সামিউলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন ফজলুল। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত সোমবার (১৬ মে) মাদ্রাসায় গিয়ে ছেলেকে সঙ্গে আনতে চান তিনি। কিন্তু মাদ্রাসার নিয়ম অনুযায়ী মায়ের অনুমতি ছাড়া শিশুকে ছাড়া যাবে না বলে জানান মাদ্রাসার শিক্ষক আবু মুসা। তখন কৌশলে পূর্বপরিচিত দিনমজুর অনিতা রানীকে মায়ের পরিচয় দিতে বলে ফোনে অনিতা রানীর সঙ্গে আবু মুসাকে কথা বলতে বলেন ফজলুল। অনিতা রানী নিজেকে সামিউলের মা পরিচয় দিয়ে ছেলেকে ফজলুলের সঙ্গে পাঠিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। এরপর মাদ্রাসাশিক্ষক ফজলুলের সঙ্গে সামিউলকে যেতে দেন। 

ওই দিন সামিউলকে নিয়ে উপজেলার মানিকদিপা গ্রামের একটি লাউখেতে সামিউলের গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ হত্যা করেন। এরপর মরদেহ ফেলে পালিয়ে যান ফজলুল। পরদিন স্থানীয়রা সেখানে মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি দেখে মরদেহ শনাক্ত করেন ছালেহা বেগম।

এ ঘটনার ছয় ঘণ্টা পর আসামি ফজলুল হক ও অনিতা রানীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে তদন্তের স্বার্থে তাঁদের গ্রেপ্তারের স্থান জানায়নি পুলিশ। 

শাহজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হবে।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    পাবনায় স্বামীর বিরুদ্ধে ছুরিকাঘাতে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ

    ছাত্রলীগে মাদকসেবীর কোনো স্থান নেই: খাদ্যমন্ত্রী

    দিনাজপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মা-মেয়ের পর ‍শিশুর মৃত্যু

    শিশুর মরদেহ নিয়ে থানায় হাজির হলেন মা

    এবার পরীমণির বিরুদ্ধে মামলা করলেন নাসির

    গ্রামীণ টেলিকম অফিসে গুজব রটান শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি-সম্পাদক: ডিবি

    বিএম ডিপো থেকে পণ্যভর্তি অক্ষত কনটেইনার সরানো শুরু

    পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল চালু হচ্ছে এ মাসেই

    কিশোরী নেতৃত্ব এবং কর্মশালাবিষয়ক সেমিনার

    পুলিশের গুলিতে নিহত জেল্যান্ড ওয়াকারের মরদেহে পরানো হয়েছিল হাতকড়া

    পাবনায় স্বামীর বিরুদ্ধে ছুরিকাঘাতে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ

    সিলেটে ব্লগার অনন্ত হত্যা: বেঙ্গালুরুতে গ্রেপ্তার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ফয়সাল