Alexa
রোববার, ০৩ জুলাই ২০২২

সেকশন

epaper
 

বৃষ্টি

কারও সর্বনাশ কারও পৌষ মাস

আপডেট : ১৪ মে ২০২২, ১১:০৭

বৃষ্টির কারণে ভোগান্তিতে পড়েন খেটে খাওয়া মানুষেরা। গতকাল শাহজাহানপুরে। ছবি: আজকের পত্রিকা ইটপাথরের অবকাঠামোয় ছেয়ে গেছে যে শহরের আকাশ, সেখানে বৃষ্টি হচ্ছে প্রতিদিন। বারান্দায় দাঁড়িয়ে বাইরে হাত বাড়ালেই ছুঁয়ে দেওয়া যাচ্ছে বৃষ্টির ফোঁটা। বৃষ্টির স্পর্শ শিহরণ জাগায় মন, প্রাণ ও সারা শরীরে। ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্টে বসে এগুলো বৃষ্টিবিলাস মনে হলেও, ঘর ছেড়ে বাইরে এলেই বদলে যায় পরিবেশ-পরিস্থিতি। কখনো থেমে থেমে, কখনো ঝুমবৃষ্টি দুর্ভোগে ফেলছে নিম্ন আয়ের মানুষকে। রাস্তাই যাদের উপার্জনের একমাত্র ক্ষেত্র, তাদের জন্য এই বৃষ্টি শরীরে শীতলতা দিলেও, মনে জাগায় শঙ্কা।

সারা দেশের মতো গতকাল রাজধানীর বেশ কিছু জায়গায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি নিয়ে মিশ্র অনুভূতি জানিয়েছে নগরবাসী। আপনার চোখে ঢাকা শহরের বৃষ্টি কেমন? এমন প্রশ্নের জবাবে বৃষ্টিভেজা ঠোঁটে শুষ্ক হাসি দিলেন রিকশাচালক মো. বাবুল মিয়া। সত্তর ছুঁই ছুঁই বাবুল আট বছর ধরে এখানে রিকশা চালান। তিনি বলেন, ‘আমার উপার্জনের টাকায় সংসার চলে। সারা সপ্তাহে বৃষ্টির জন্য তেমন আয়-উপার্জন হয় নাই। আজ (শুক্রবার) বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৩৪০ টাকা আয় হয়েছে। সকাল থেকে তিনবার বৃষ্টিতে ভিজছি, এই শরীরে বেশি পরিশ্রম কুলায় না। তাই কামাইও কম।’ নিজের উপার্জন কমলেও বৃষ্টি নিয়ে তাঁর কোনো অভিযোগ নেই। কারণ, এই বৃষ্টি গ্রামের কৃষকের জন্য প্রয়োজন বলে জানালেন তিনি।

মোহাম্মদপুরে থাকেন বেসরকারি চাকরিজীবী রিজভান শিহাব। করপোরেট চাকুরে হওয়ায় ঝড়-বৃষ্টি যা-ই হোক, তাঁকে কাজে পৌঁছাতে হয় ঠিক সময়ে। ব্যক্তিগতভাবে বৃষ্টি পছন্দ হলেও চলাচলের ক্ষেত্রে বৃষ্টি তাঁর জন্য ভোগান্তির কারণ। তিনি বলেন, ‘বৃষ্টি মানেই গরমে শান্তি, এই বিষয়টা আমরা যারা গণপরিবহন ব্যবহার করি, তাদের কাছে মিথ্যে। বৃষ্টির মাঝে অধিকাংশ সময়ই বাস পাওয়া যায় না, আর বাস পেলেও অধিক যাত্রীর জন্য বাসের ভেতর থাকে ভ্যাপসা গরম ৷ তবুও সব মেনেই অফিস ছুটতে হয়।’

ধানমন্ডি ১৫ নম্বর বাসস্ট্যান্ডে কথা হয় মিডলাইন বাসের চালক তৌহিদ মিয়ার সঙ্গে। বৃষ্টির সময়টা তাঁর জন্য বাড়তি চাপের বলে মনে করেন এই চালক। তিনি বলেন, ‘বৃষ্টির সময় যাত্রী কম থাকে। যাত্রীর লাইগা স্ট্যান্ডে স্ট্যান্ডে বইয়া থাকন লাগে। রোডে বাইর অইলে সময়মতো পৌঁছান যায় না। বাস ছাড়তে লেট হইলে যাত্রীরা গালাগালি করে। আবার যাত্রী বেশি উঠাইলেও যাত্রীরা গালাগালি করে।’

ধানমন্ডি রবীন্দ্রসরোবরে ঝালমুড়ি বিক্রি করেন জাহাঙ্গীর হোসেন। বৃষ্টি হলে এই এলাকায় মানুষ কমে যায়, ভাটা পড়ে তাঁর বিক্রিতে। ঈদের পরে পুরো সপ্তাহে বৃষ্টির কারণে তাঁকে ক্রেতাসংকটে ভুগতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বৃষ্টি হইল বড়লোকের জন্য আনন্দের। আমাগো জন্যে কষ্টের। আমাগো বিপদ সব জায়গায়।’

সরোবরেই কথা হয় বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে আসা সানজিদ হোসেনের সঙ্গে। সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করা এই তরুণ বলেন, বৃষ্টি ভালো লাগে। আলাদা করে কবিতার ভাষায় ব্যক্ত করার অনুভূতি নেই। সুস্থ থাকলে বৃষ্টিতে ভিজতে ভালো লাগে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, শুক্রবার ঢাকায় বৃষ্টিপাত হয়েছে মাত্র এক মিলিমিটার, যা গত কয়েক দিনের তুলনায় অনেক কম। তবুও এই বৃষ্টি কারও কারও সর্বনাশ, কারও পৌষ মাস।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    কোরবানির পশুর হাট কাঁপাবে রং বাহাদুর

    রাস্তা বন্ধ করায় ৪ পরিবার বিপাকে

    অব্যবস্থাপনায় নষ্ট হচ্ছে হাতিরঝিলের পরিবেশ

    চাহিদার বেশি কোরবানির পশু

    দুই দফায় অগ্নিকাণ্ডে পুড়ল ১০টি দোকান

    অর্ধেক খালি রেখে ছাড়ছে ফেরি

    ত্রাণ বিতরণের নামে নাটক করেছে বিএনপি: কাদের

    বিরলে নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু 

    বেনাপোল নিয়ে যা বলছে ভারতের হাইকমিশন

    বড়লেখায় নৌকা ডুবে নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার  

    অন্যের পক্ষে কোরবানি করার বিধান

    ঈদের আগে পদ্মা সেতুতে চলছে না মোটরসাইকেল