Alexa
শনিবার, ২০ আগস্ট ২০২২

সেকশন

epaper
 

চাঁদের মাটিতে জন্মাল গাছ

আপডেট : ১৩ মে ২০২২, ২২:০০

চাঁদ থেকে আনা মাটিতে উদ্ভিদ জন্মাতে সফল হয়েছে বিজ্ঞানীরা। ছবি: সংগৃহীত  একটি বাগান তৈরিতে কী কী লাগে? উর্বর মাটি, মৃদু বৃষ্টি, প্রচুর সূর্যালোক, ব্যস্ত মৌমাছি, প্রজাপতি ইত্যাদি। এগুলোর কোনো একটি যদি অনুপস্থিত থাকে তবে সেখানে গাছপালা বেড়ে উঠতে পারে কি না তা নিয়ে বেশ গবেষণা করেছেন বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি কমিউনিকেশনস বায়োলজি জার্নালে প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণা এমন জায়গায় বিশেষ করে চাঁদের পৃষ্ঠে উদ্ভিদ জন্মানোর বিষয়ে বেশ কিছু প্রশ্নের সমাধান দিতে শুরু করেছে। সম্ভব হয়েছে চাঁদ থেকে আনা মাটিতে উদ্ভিদের চাষও। 

অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক গবেষণাকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম দ্য কনভারসেশনের এক নিবন্ধে যুক্তরাজ্যের দ্য ওপেন ইউনিভার্সিটির প্ল্যানেটারি অ্যান্ড স্পেস সায়েন্সের অধ্যাপক মনিকা গ্র্যাডি বলেছেন, গবেষকেরা অ্যাপোলো মহাকাশচারীরা চাঁদের তিনটি ভিন্ন স্থান থেকে যে লুনার রেগোলিথ বা চাঁদের মাটি এনেছিলেন তাতে দ্রুত বর্ধনশীল উদ্ভিদ অ্যারাবিডোপসিস থ্যালিয়ানা চাষ করা হয়েছিল। এর আগে চাঁদের মাটিতে একাধিকবার উদ্ভিদ জন্মানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে কেন চাঁদের মাটিতে উদ্ভিদ জন্মায় না তা নিয়ে এই প্রথম কারণ জানার চেষ্টা করা হলো। 

চাঁদের মাটি পৃথিবীর মাটি থেকে বেশ আলাদা। এতে জৈব বস্তু যেমন বিভিন্ন ধরনের অনুজীব নেই যা পৃথিবীর মাটিতে আছে। এমনকি এই মাটিতে কোনো জলীয় উপাদানও নেই। তবে আশার কথা হলো, এই মাটিও পৃথিবীর মাটির মতো একই খনিজ দিয়ে গঠিত। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, চাঁদের মাটিতে পানি, সূর্যালোক এবং বাতাসের অভাব দূর করা সম্ভব হলে উদ্ভিদ জন্মানোর একটি সম্ভাবনা তৈরি হবে।

পরে বিজ্ঞানীরা এক গবেষণায় দেখতে পান তাঁদের ধারণা সঠিক। অ্যারাবিডোপসিস থ্যালিয়ানার বীজ চাঁদ থেকে আনা মাটিতে যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে পৃথিবীর মাটিতেও একই হারে বৃদ্ধি পায়। তবে পৃথিবীর মাটিতে যে পর্যায়ে গাছের মূল ও কাণ্ড তৈরি হয়, ওই সময় এসে চাঁদের মাটিতে জন্মানো চারাগুলোর বিকাশ থেমে যায়। 

চাঁদের মাটির বিভিন্ন নমুনায় জন্মানো গাছ। ছবি: গবেষণাপত্র গবেষকদের মূল লক্ষ্য ছিল উদ্ভিদের জিনগত পরিবর্তন পরীক্ষা করা। তাঁরা দেখতে চেয়েছিলেন, চাঁদের মাটিতে কোন নির্দিষ্ট পরিবেশগত কারণে সৃষ্ট পীড়নে উদ্ভিদের জিন কীভাবে সাড়া দেয়। তাঁরা দেখেছেন, চাঁদের মাটিতে বোনা বীজগুলোর বেশির ভাগেরই অঙ্কুরোদগম হয়েছে। জিনে চাঁদের মাটিতে থাকা খনিজ এবং অক্সিজেনের প্রভাবও স্পষ্ট পরিলক্ষিত হয়েছে। 

বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর মাটির তুলনায় চাঁদের মাটিতে চারার যথেষ্ট বৃদ্ধি না হওয়ার একটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চাঁদের মাটিতে উপস্থিত অ্যাগ্লুটিনেটগুলোকে দায়ী করেছেন। অ্যাগ্লুটিনেটস চন্দ্র পৃষ্ঠের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য। অ্যাগ্লুটিনেটস হলো—আগ্নেয়গিরির প্রাকৃতিক কাচের মতো। যেখানে গলিত কাচের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের খনিজের সামান্য মিশ্রণ থাকে। চাঁদ থেকে আনা তিন ধরনের মাটির মধ্যে যে দুই নমুনায় অ্যাগ্লুটিনেটসের উপস্থিতি কম ছিল সেই মাটিতে তুলনামূলক উদ্ভিদের বৃদ্ধি বেশি হয়েছে। অ্যাপোলো ১১ মহাকাশ যানে করে আনা মাটিতে থাকা ন্যানোফেজ আয়রনকেও চাঁদের মাটিতে উদ্ভিদের বৃদ্ধির আরেকটি সম্ভাব্য কারণ বলে চিহ্নিত করেছেন বিজ্ঞানীরা। 

গবেষকেরা বলেছেন, চন্দ্র পৃষ্ঠের যে স্থানের মাটির বয়স তুলনামূলক কম সেখানে অধিক পরিমাণে চারা গজানোর জন্য বেশি কার্যকর উপাদান রয়েছে। গবেষকেরা এর ভিত্তিতে বলছেন, এটি প্রমাণ করে যে চাঁদের মাটি ব্যবহার করে উদ্ভিদ জন্মানো যেতে পারে।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    আলঝেইমার রোগের চিকিৎসায় নতুন পদ্ধতি পাওয়ার সম্ভাবনা

    ৪ হাজার বছর আগেও ছিল টাইফয়েড ও প্লেগ, মিলল জিনগত প্রমাণ

    নিয়ান্ডারথালদের থেকে মস্তিষ্ক বিকশিত হতে বেশি সময় নেয় আধুনিক মানুষ

    মঙ্গলে হেলিকপ্টার পাঠানোর নতুন পরিকল্পনা করছে নাসা

    চীনে পাওয়া গেল ১০ কোটি বছরের পুরোনো ডাইনোসরের পায়ের ছাপ

    আসছে সৌরঝড়, বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে পৃথিবীর টেলিযোগাযোগ ও বিদ্যুৎ খাতে

    গুরুদাসপুরে নিখোঁজের ২১ ঘণ্টা পর মরদেহ উদ্ধার

    আগামী সপ্তাহে শ্রীলঙ্কা যাচ্ছেন আইএমএফ কর্মকর্তারা

    অন্তিম গান

    টিভিতে আজকের খেলা (২০ আগস্ট ২০২২, শনিবার)

    প্রাচীন প্রাচীর

    আরও সাড়ে ৭৭ কোটি ডলারের অস্ত্র পাচ্ছে ইউক্রেন