Alexa
বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২

সেকশন

epaper
 

ফিলিস্তিনি মেয়ের ক্রিকেটার হয়ে ওঠার গল্প

আপডেট : ১০ মে ২০২২, ১০:৪২

মরিয়ম ওমর যুদ্ধ ও আগ্রাসনের ভেতর হারিয়ে যেতে পারতেন তিনি। এমন অনেকেই স্বপ্ন দেখতে দেখতে হারিয়ে গেছেন। তাঁর পিতৃভূমিতে বেঁচে থাকাটাই যে অলৌকিক কোনো গল্প। তবে সেই দুর্ভাগ্য সঙ্গী হয়নি মরিয়ম ওমরের। ফিলিস্তিন তাঁর দেশ হলেও জন্ম ও বেড়ে ওঠা কুয়েতে। বর্তমানে মেলবোর্নে বাস করলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মরিয়ম প্রতিনিধিত্বও করছেন কুয়েতকে। তবে এই পথচলাটুকুও মোটেই সহজ ছিল না তাঁর।

এই মুহূর্তে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ফেয়ারব্রেকে খেলতে দুবাইয়ে আছেন মরিয়ম। যেখানে সাউথ কোস্ট সাপফায়ার্‌সের হয়ে খেলছেন ২৯ বছর বয়সী নারী ক্রিকেটার। এই টুর্নামেন্টে আছেন বাংলাদেশের দুই প্রতিনিধি রুমানা আহমেদ ও জাহানারা আলম। রুমানা-জাহানারাদের মতো পরিচিত মুখের পাশাপাশি আছেন মরিয়মের মতো অপরিচিত সম্ভাবনাময় মুখও।

ক্রিকেটের পথে মরিয়মের যাত্রা অন্য দশ নারী ক্রিকেটারের মতো নয়। তাঁর পরিবার ক্রিকেট নিয়ে মোটেই আগ্রহী ছিল না। মেয়েদের ক্রিকেট খেলা নিয়ে সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তো আছেই। যেখানে ধর্মীয় ও সামাজিক বিধিনিষেধের সঙ্গেও বোঝাপড়া করে নিতে হয়েছে তাঁকে। এর মধ্যে ছিল হিজাব পরে ক্রিকেট খেলা।

হিজাব পরে ক্রিকেট খেলাটা মোটেই সহজ ছিল না। হিজাবকে কীভাবে ক্রিকেটের উপযোগী করে তোলেন, সেটি জানাতে গিয়ে মরিয়ম আরব আমিরাতের দ্য ন্যাশনালকে বলেছেন, ‘খেলার জন্য আমি এটাকে কিছুটা শক্ত করে বেঁধে রাখি। যেন আমি দৌড়াতে পারি এবং ডাইভ দিতে পারি। এতে অন্য কাজগুলোও ঠিকঠাক করতে পারি। শ্বাস-প্রশ্বাস ভালোভাবে নেওয়া যায়, এটি অনেক বেশি গরমও হয় না।’ তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘হিজাবের ভিত্তি ধর্ম। কোনো কোনো মেয়ে এটাকে নিজেরাই বেছে নেয়। ১৫ বছর বয়সে আমি এটি পরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এবং আমার বাবা-মা বেশ সমর্থন দিয়েছিল।’

কুয়েতের যে আবহাওয়া, তাতে হিজাব পরে ক্রিকেট খেলাটা মোটেই সহজ না। মরিয়ম বলছিলেন, ‘আমাকে আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়েছে। কুয়েতে বেশ গরম এবং আমাদের মাঠে খেলতে হয়। এখনো ইনডোর অনুশীলনের কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। আমি এই তাপমাত্রায় খেলার অভ্যাস গড়ে তুলছি। আমার শক্তি ও শরীরে তরলের মাত্রা ঠিক রাখার কাজ করছি।’ হিজাব পরে খেলার অবশ্য সুবিধাও আছে। ‘একটি ইতিবাচক ব্যাপার হলো হিজাবে আমি রোদে পুড়ে যাওয়া থেকে বাঁচতে পারি’—যোগ করেন মরিয়ম।

২০১০ সালে ১৭ বছর বয়সে প্রথম ক্রিকেটে আসেন মরিয়ম। সে সময় কুয়েতের জাতীয় ক্রিকেট বোর্ড স্কুলে গিয়ে মেয়েদের ক্রিকেটে আনার চেষ্টা চালাচ্ছিল। ক্রিকেটার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার স্মৃতি মনে করে মরিয়ম বলেন, ‘যখন আমাদের স্কুলের ক্রীড়াশিক্ষক আমার কাছে এসে বলেন, ‘‘কুয়েত ক্রিকেট অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ খেলতে মেয়ে ক্রিকেটার খুঁজছে।” তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ক্রিকেট কী জিনিস?’

ক্রিকেট সম্পর্কে কোনো ধারণা না থাকলেও অন্য খেলাগুলো অবশ্য ভালোই খেলতেন মরিয়ম। খেলতেন—বাস্কেটবল, সাঁতার ও মার্শাল আর্টস। ক্রিকেট সম্পর্কে জানার পর তাঁর মা উৎসাহ দিয়ে বলেন, ‘কেন নয়? হয়তো একদিন তুমি জাতীয় দলেও খেলতে পার।’

এভাবেই খেলাটাকে ভালোবাসতে শুরু করলেন এবং আর পেছনে ফিরে তাকাননি মরিয়ম। এখনই থামতে চান না মরিয়ম। খেলতে চান বিগ ব্যাশের মতো বড় টুর্নামেন্টে। পরিশ্রম ও একাগ্রতা থাকলে অসম্ভবও যে সম্ভব, সেটির প্রমাণ তো তিনি নিজেই।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    রোবট জানাবে চাঁদের খবর

    যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা: বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অ্যাপ্লিকেশন প্রসেস

    ঈদের ছুটিতে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা

    বৃদ্ধের পায়ুপথ এবং যুবলীগ নেতার টর্চ

    রিটায়ার্ড জীবন ও ফিউজ বাল্ব

    বিষের বাঁশী

    পদত্যাগ করেছেন ব্রিটিশ সরকারের দুই মন্ত্রী, চাপে বরিস জনসন 

    শেষ দিনে হল ছাড়ছেন খুবি শিক্ষার্থীরা

    রোবট জানাবে চাঁদের খবর

    যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা: বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অ্যাপ্লিকেশন প্রসেস

    ঈদের ছুটিতে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা