Alexa
শনিবার, ১৩ আগস্ট ২০২২

সেকশন

epaper
 

জমিতেই পচছে বাদাম

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২২, ১৪:৪৮

আগাম পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিতে হাওরে তলিয়ে যাওয়া খেত থেকে বাদাম তুলতে ব্যস্ত কৃষকেরা। গতকাল সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়নের বেরবেরিয়া হাওরে। ছবি: আজকের পত্রিকা সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের নজরখালী ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় তাহিরপুর উপজেলার পাশাপাশি মধ্যনগর উপজেলার বেশ কয়েকটি হাওরের বোরো ফসল তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাদামখেত। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বাদামখেত তলিয়ে যাওয়ায় জমিতেই পচে নষ্ট হচ্ছে বাদাম।

উপজেলার বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, পানিতে তলিয়ে গেছে বাদামখেত। অনেক জমিতেই বাদাম পচে নষ্ট হচ্ছে। ডুবে থাকা ফসল বাঁচানোর চেষ্টায় খেত থেকে বাদাম তুলছেন কৃষকেরা।

বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়নের কৃষকেরা জানান, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢোকায় বাদাম চাষে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ইউনিয়নের বেরবেরিয়া হাওরের উঁচু অংশে প্রতিবছর কৃষকেরা বাদাম চাষ করেন। বেশি দামে বাদামের বীজ কিনে চাষ করেছিলেন কৃষকেরা কিন্তু হাওরে পানি ঢোকায় তাঁদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

বাদামচাষি মোস্তফা মিয়া বলেন, ‘৮ হাজার টাকা মণ বীজ কিনে জমিতে বাদামের চাষ করি। সব এখন পানির নিচে। ধারদেনা করে চাষাবাদ করেছি, এখন মহাজনের টাকা কীভাবে দেব এই চিন্তায় আছি।’

তাঁরা আরও জানান, ধারদেনা করে তাঁরা বাদামের চাষ করেন। এখন বাদাম নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পথে বসার মতো অবস্থা হয়েছে তাঁদের। ৮ হাজার টাকা দরে এক মণ বাদামবীজ কিনতে হয়েছে। ধানের পাশাপাশি বাদামও নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন সংসার চালানোই দায় হয়ে পড়েছে তাঁদের।

কৃষক নূরজাহান বেগম বলেন, ‘বাদাম তলাইয়া কোমরপানি হইয়া গেছে। কত টেহা-পয়সা খরচ কইরা বাদাম করছি। দেড় কেয়ার জমির বাদাম পানির নিচে তলাইয়া গেছে। যেটুকু উঠাইছি, তাও রইদের (রোদ) অভাবে নষ্ট হইতাছে।’

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় পাঁচ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ করেন কৃষকেরা। পাহাড়ি ঢলে প্রাথমিকভাবে দুই উপজেলায় আধা হেক্টর বাদামখেত নষ্ট হয়ে গেছে।

বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নূর নবী তালুকদার বলেন, ‘কৃষকেরা ধান চাষের পাশাপাশি বাদামও চাষ করেছিলেন। পাহাড়ি ঢলে টাঙ্গুয়ার হাওরের তাহিরপুর অংশের নজরখালী বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় টাঙ্গুয়ার হাওরের মধ্যনগর অংশে ধানের পাশাপাশি বাদামের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমরা চাই টাঙ্গুয়ার হাওরের নজরখালী অংশটি মধ্যনগর ও তাহিরপুর উপজেলা সমন্বয় করে এখানে একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হোক। তাহলে ক্ষয়ক্ষতি থেকে এই এলাকার জনগণ বেঁচে যাবে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, ‘ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরা পুঞ্জিতে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢলে উপজেলায় বেশ কয়েকটি বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বাদামচাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করছি। সরকারিভাবে ভুক্তভোগীদের জন্য প্রণোদনা এলে তা যথা সময়ে পৌঁছে দেওয়া হবে।’

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    জগদ্ধাত্রী একাই এক শ

    বোনদের নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা অক্ষয়ের

    তারেক মাসুদ ছিলেন স্বপ্নের নায়ক

    নতুন পরিচয়ে সোহানা সাবা

    বস্তাপ্রতি ২৫০ টাকা বাড়ল চালের দাম

    ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে রুট পারমিট ছাড়া চলছে বাস, বাড়ছে দুর্ঘটনা

    ভেন্টিলেশনে সালমান রুশদি, কথা বলতে পারছেন না

    আষাঢ়ে নয়

    তুইও মরবি, আমাদেরও মারবি

    নতুন পরিচয়ে সোহানা সাবা

    তারেক মাসুদ ছিলেন স্বপ্নের নায়ক

    বোনদের নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা অক্ষয়ের