বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১

সেকশন

 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন খাত

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২১, ১৪:২১

ফাঁকা পড়ে আছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেয়ার্টারগুলোর অনেক বাসা। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক–কর্মকর্তা–কর্মচারী থাকছেন ক্যাম্পাসের বাইরে। ছবি: আজকের পত্রিকা দেশের একমাত্র আবাসিক উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি)। যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবার আবাসন ব্যবস্থা থাকার কথা। তবে শিক্ষার্থীদের আবাসনসংকট প্রকট হলেও খালি পড়ে থাকছে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসা। এতে করে বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষতি হচ্ছে প্রায় আড়াই কোটি টাকা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (টিচিং) মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংখ্যা ৭০১ জন। এর মধ্যে শিক্ষা ছুটিতে আছেন প্রায় ১০০ জন শিক্ষক। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (এস্টেট) আবদুর রহমান জানান, শিক্ষা ছুটি ছাড়া প্রায় ৬০০ জন শিক্ষক রয়েছেন। তবে এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ার্টারে মাত্র দুই শ’র মতো শিক্ষক অবস্থান করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পট্রোলার অফিসের তথ্য মতে, শিক্ষক ও কর্মকর্তারা মোট বেতনের সঙ্গে অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া পেয়ে থাকেন। তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীরা বেতনের সঙ্গে ৫৫ শতাংশ এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা ৬৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া পান। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ার্টার থাকলে তাঁদের বাড়ি ভাড়ার টাকা দেওয়া হয় না।

এ টাকা কেটে রাখা হয়। সে হিসেবে এতগুলো বাসা খালি থাকায় বছরে বিশাল অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকদের আবাসনের জন্য ‘এ’ টাইপ ২৪টি ও ‘বি’ টাইপ ৬২টি বাসা আছে। এর মধ্যে ২৩টি বাসা এখন খালি। অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের জন্য ‘সি’ টাইপ বাসা রয়েছে ৭৪টি।

এর মধ্যে ২৪টি খালি পড়ে আছে। সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক ও প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের ‘ডি’ টাইপ ১০০টি বাসার ২০টি বাসা খালি রয়েছে। এ ছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য ‘ই’ এবং ‘এফ’ টাইপের ২১৪টি বাসার মধ্যে ৯২টি খালি। এদিকে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অভিযোগ, অধিক ভাড়া ও কোয়ার্টারের অবস্থা অনুন্নত হওয়ায় তাঁরা বাইরে থাকছেন।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী অরুণাপল্লী এলাকায় জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিমিটেডে থাকেন। অপর একটি অংশ সাভারের ভাটপাড়া এলাকায় ‘জাহাঙ্গীরনগর কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিমিটেড’ নামের দুটি সমিতি করে থাকছেন। যেখানে স্থায়ী এবং অস্থায়ী (ভাড়া) হিসেবে প্রায় দেড় শ জনের মতো শিক্ষক থাকছেন। এ ছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংলগ্ন এলাকাগুলোতেও শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি বড় অংশ বসবাস করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, দুই উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার, হল প্রাধ্যক্ষদের জন্য বরাদ্দকৃত কোয়ার্টার থাকে। তাঁদের সবাইকে বরাদ্দকৃত বাসায় থাকা বাধ্যতামূলক বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) তাঁর বরাদ্দকৃত (ইয়ার মার্ক) বাসায় থাকেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬টি হলের মধ্যে নয়টি হলের প্রাধ্যক্ষদের জন্য বাসা নেই। আবার বাকি সাতটি হলের কেউ কেউ তাঁদের বরাদ্দকৃত বাসায় থাকছেন না।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বড় একটি অংশ আবাসিক বাসায় থাকছেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ এ মামুন বলেন, অনেক শিক্ষক বাইরে বাড়ি তৈরি করে থাকছেন। আবার বাইরে তুলনামূলক কম বাড়ি ভাড়া দিয়ে অনেকে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক আগে তৈরি এই বাসাগুলো জীবনযাত্রার মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বাসাগুলোর আধুনিকায়ন দরকার। কোয়ার্টারে ভাড়া থাকছেন শিক্ষার্থীরা: করোনায় বন্ধ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল।

এই সুযোগে কর্মচারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশমাইল এলাকার কোয়ার্টারগুলো শিক্ষার্থীসহ চাকরিজীবী ও বাইরের মানুষের কাছে ভাড়া দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিনে কয়েকটি কোয়ার্টারে শিক্ষার্থীসহ বাইরের মানুষকে বসবাস করতে দেখা যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও টিউশনির জন্য এখানে থাকা লাগছে।

বাইরে বাসা ভাড়া না পেয়ে এক বন্ধুর মাধ্যমে জানতে পারি কর্মচারীদের ব্যাচেলর কোয়ার্টারে ভাড়া থাকা যাচ্ছে। পরে এক বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করে এখানে উঠেছি।’ কর্মচারী সমিতির সভাপতি মনির হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘কোনো কর্মচারী বাসা ভাড়া দিচ্ছেন বলে জানতে পারিনি। তবে খোঁজ নিয়ে দেখব।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ বলেন, ‘কোয়ার্টারগুলো যখন তৈরি হয় তখন পুরোনো মডেলে তৈরি হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায় উন্নতমানের বিল্ডিং তৈরি হওয়াতে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আশপাশের এলাকাতেই থাকেন বেশি। আবার অনেকে নিজস্ব বাসা তৈরি করেছেন। এদিক থেকে ক্ষতি তো কিছু আছেই।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, আমাদের পুরোনো বাসাগুলোর অবস্থা ভালো না। নতুনগুলো ভালো।

পুরোনোগুলোর ভাড়া বেশি আর আর নতুনগুলোর কম। তাই অনেকেই থাকছেন না। আবার অনেকেই নিজেদের বাসা তৈরি করেছেন। আমরা সরকারকে জানিয়েছি। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। আমরা এর জন্য একটি কমিটি করেছি। বাসাগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি জেনে পরবর্তী চিন্তা করব।’

বাসা ফাঁকা সত্ত্বেও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন কোয়ার্টার নির্মাণের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘তাঁদের জন্য অল্প কয়েকটি বাসা নির্মাণের কথা রয়েছে। এগুলো ভালো মানের বাসা হবে। তখন তাঁরা সেখানে ভাড়া দিয়ে থাকবেন।’

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

    কবুতরের সঙ্গে দিন কাটছে ইব্রাহীমের

    সেতু পুনর্নির্মাণের দাবি

    পোকার আক্রমণে বিবর্ণ ধান

    ধনু নদীর রুদ্র রূপ

    শেরপুরে ১৭ জামায়াত নেতা-কর্মী আটক

    ইসলামপুরে টিকা নিতে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত

    উসকানিমূলক ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে বদরুন্নেসার শিক্ষক রুমা আটক 

    বিদ্যুতের খুঁটি থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

    গোমস্তাপুরে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের হামলায় দুধ বিক্রেতা নিহত

    আশুগঞ্জে সৎ মায়ের বিরুদ্ধে শিশু হত্যার অভিযোগ

    ওবায়দুল কাদের মিথ্যুক: কাদের মির্জা

    আওয়ামী লীগ দেশের প্রভু হয়ে থাকতে চায়: মির্জা ফখরুল