Alexa
শনিবার, ০২ জুলাই ২০২২

সেকশন

epaper
 

বললেন ভর্তি পরীক্ষায় দেশসেরা ডুমুরিয়ার মিম

আম্মুর জন্য ডাক্তারি পড়ছি

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২২, ১১:০৯

মা-বাবার সঙ্গে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় দেশসেরা মিম। ছবি: আজকের পত্রিকা সুমাইয়া মোসলেম মিম ছোটবেলা থেকেই ছিলেন ভালো ছাত্রী। পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এসএসসি ও এইচএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পেয়েছেন জিপিএ-৫। স্বপ্ন ছিল ইঞ্জিনিয়ার হবেন। তবে মায়ের স্বপ্ন ছিল তাঁর মেয়ে একজন ভালো চিকিৎসক হবেন। মিমও বলছেন, শুধু আম্মুর জন্য ডাক্তারি পড়তে যাচ্ছি।

মায়ের স্বপ্নকে প্রাধান্য দিয়ে তিন মাস অক্লান্ত পরিশ্রম করে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন মিম। নিজের প্রচেষ্টা, মা-বাবার দোয়া ও শিক্ষকদের সহযোগিতায় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় দেশসেরা হয়েছেন তিনি। মিম ডুমুরিয়া উপজেলার কলেজশিক্ষক মোসলেম উদ্দিনের মেয়ে।

গত মঙ্গলবার প্রকাশিত ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন তিনি। খুলনা মেডিকেল কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়েছিলেন মিম। লিখিত পরীক্ষায় ৯২ দশমিক ৫ নম্বর পেয়েছেন। সব মিলিয়ে তার মোট প্রাপ্ত নম্বর ২৯২ দশমিক ৫।

জানা গেছে, দুই বোনের মধ্যে মিম ছোট। তার বাবা মোসলেম উদ্দিন সরদার ডুমুরিয়া কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং মা খাদেজা খাতুন যশোরের কেশবপুর পাজিয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট পদে কর্মরত। বড় বোন সাবিহা মোসলেম বৃষ্টি। মিমের লেখাপড়ার জন্য দুই বছর তারা খুলনা মহানগরীর মৌলভীপাড়া এলাকায় বসবাস করছেন।

সুমাইয়া মোসলেম মিম বলেন, আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ তায়ালার রহমতে আজ আমার এই অবস্থান। অবশ্য এত বেশি প্রত্যাশা আমার ছিল না। তারপরও আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন। এই সফলতার পেছনে আমার আব্বু-আম্মুর অবদান সবচেয়ে বেশি। খুলনা শহরে এসে থাকি। আব্বু-আম্মু দুজনই চাকরি করেন। এখান থেকে গিয়ে কাজ করতে হয়েছে। আমার জন্য দুইটা বছর প্রচুর কষ্ট করতে হয়েছে তাদের। বিশেষ করে আমার আম্মুর কথা বলব। তাকে অনেক কষ্ট করে যশোরের কেশবপুরে যেতে হয় চাকরি করতে।

আমার জন্য আম্মু হাসিমুখে সব কষ্ট সহ্য করেছেন। যাতে আমি একটু ভালো করি। আজ তাদের মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছি। এটা আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। নিজের স্বপ্নের বিষয়ে মিম বলেন, ‘ডাক্তার হব’—এমন কোনো আশা আমার ছিল না। শুধু আম্মুর জন্য ডাক্তারি পড়তে যাচ্ছি। যেহেতু এত ভালোভাবে এই জায়গায় আসতে পেরেছি। সেটা অনেক বেশি ভালো লাগার একটা বিষয়। আমার সাফল্যের জন্য আম্মুর অবদান সবচেয়ে বেশি। পরীক্ষার পর থেকে এখন পর্যন্ত টেনশনে তার মুখে আমি হাসি দেখিনি।

মেডিকেল ভর্তি–ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মিম বলেন, বুঝে পড়তে হবে। যেটাই পড়ি, কনসেপ্টটা ক্লিয়ার করে পড়তে হবে। যেটা আমি করেছি। মেডিকেলে সবাই ভাবে যে, মুখস্থ করতে হবে। কিন্তু মুখস্থ করার চেয়ে জরুরি বুঝে পড়া। আজ মুখস্থ করছি, কাল আর মনে থাকছে না। এমন হতে পারে। কিন্তু বুঝে পড়লে সফলতা পাওয়া যায়। আমার অনুজদের প্রতি পরামর্শ থাকবে তোমরা যেটুকু পড়বা বুঝে পড়বা, কেন পড়ছো, কী পড়ছো সেটা বুঝতে হবে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিষয়ে তিনি বলেন, একজন ভালো ডাক্তার হওয়া, সবার আগে ভালো মানুষ হওয়া। যাতে মানুষের সেবা করতে পারি। যেহেতু সেবামূলক পেশায় যাচ্ছি। সেই সেবাটা যেন করতে পারি ভালোভাবে।

মিমের বাবা মোসলেম উদ্দিন সরদার বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে আমার মেয়ে আজ দেশসেরা হয়েছে। ডুমুরিয়া থেকে নগরীতে এসে কোচিং করিয়েছি। এটা আল্লাহর অশেষ রহমত। এই সফলতার পেছনে তার মায়ের অবদান সবচেয়ে বেশি।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    গরুর চর্মরোগ, দুশ্চিন্তা খামারির

    রেলক্রসের ওভারপাসে বরাদ্দ বাড়ল ১৫০ কোটি টাকা

    বয়সে ছোট আঁচলের মানবতার দৃষ্টান্ত

    মসলা চাষে ১২০ কোটির প্রকল্প

    মেঘনার ভাঙনের ঝুঁকিতে বিদ্যুতের টাওয়ার

    ফোনের সংযোগ নেই তবুও আসছে বিল

    দুই বন্ধু ঘুরতে গিয়ে একজনের মৃত্যু, গুরুত্বর আহত অপরজন

    পদ্মা সেতু দেখতে এসে বাসের ধাক্কায় নিহত ১, আহত ১৩ 

    করোনা: শনাক্তের হার কমলেও এক দিনে মৃত্যু ৬

    ডাকাতির প্রস্তুতির সময় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ৩: পুলিশ

    চমেকের পাশে নির্মিত হবে বার্ন হাসপাতাল, নথিপত্র গেছে চীনে

    দোরাইস্বামীর স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন সুধাকর ডালেলা