Alexa
রোববার, ২৯ মে ২০২২

সেকশন

epaper
 

তিন বছরেও নিজস্ব ভবন হয়নি শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২২, ০৯:২৭

নেত্রকোনার শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস। ছবি: সংগৃহীত প্রতিষ্ঠার পর কেটে গেছে তিন বছর। শিক্ষার্থী-শিক্ষক সবই আছে, নেই শুধু নিজস্ব অবকাঠামো। স্থানীয় টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) ভবনে অস্থায়ীভাবে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম চলছে। আবাসিক ভবন ভাড়া নিয়ে করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের আবাসনের ব্যবস্থা। এমনকি উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও দাঁড়ায়নি নিজস্ব ক্যাম্পাসের অবকাঠামো। এই অবস্থা নেত্রকোনার শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলছে, করোনা পরিস্থিতির কারণে অবকাঠামো উন্নয়নকাজে বিলম্ব হচ্ছে। তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, অবকাঠামো ও বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞ শিক্ষকের ঘাটতির কারণে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান।

নেত্রকোনা শহরেই শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান। ২০১৮ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। ওই বছরের ৭ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ২ হাজার ৬৩৭ কোটি ৪০ লাখ ৯৯ হাজার টাকার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটির জিও জারি করা হয় ২০১৮ সালের ১২ ডিসেম্বর। প্রকল্প বাস্তবায়নকাল ধরা হয় ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও জমি অধিগ্রহণ ছাড়া কিছুই হয়নি।

শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প কমিটি সূত্র জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রথম চারটি টেন্ডার আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে ভূমি উন্নয়ন প্রকল্প ২৩৯ কোটি টাকা, প্রশাসনিক ভবনের জন্য ১০৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং একটি একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য ১১৪ কোটি ৮২ লাখ টাকার টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। উল্লিখিত কাজগুলো ১৮ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। স্কুল অ্যান্ড কলেজের জন্য ৫৬ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বাকি কাজগুলো করতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পের সময় বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, শুধু অবকাঠামো নয়, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিজ্ঞ শিক্ষকের সংকটও রয়েছে। বিষয়ভিত্তিক প্রফেসর নেই, পুরো সেমিস্টার চলে যাচ্ছে। সেভাবে ক্লাসও হচ্ছে না।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) নেত্রকোনা জেলা সভাপতি শ্যামলেন্দু পাল আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন স্থানে উন্নয়নকাজ চললেও শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজ নির্ধারিত সময়ে শুরু হয়নি। এটি দুঃখজনক।’

নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে অধিগ্রহণ করা ভূমির মালিকদের মাঝে পর্যায়ক্রমে অর্থের চেক বিতরণ করা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হবে।’

শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক সেলিম আহমদ বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির জন্য কাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যেও আমরা আনুষঙ্গিক কাজ চলমান রেখেছি। নিয়ম অনুযায়ী চারটি দরপত্র সম্পন্ন হয়েছে। এরই মধ্যে তিনটি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। একটি প্রকল্প সাময়িক স্থগিত রয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুত প্রকল্পের অবকাঠামো দৃশ্যমান হবে।’

শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. রফিক উল্লাহ খান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ভূমি উন্নয়নসহ প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবন নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। দৃশ্যমান এই কাজগুলো হয়ে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম বেগবান হবে।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    বৈরী আবহাওয়ায় পেটের পীড়ায় আক্রান্ত শিশুরা

    ‘স্ত্রীর ওষুধ ও সংসারের খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্চি’

    বন্যা মোকাবিলায় নদীর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ মেরামত

    ৪০ কন্যার বিবাহোত্তর সংবর্ধনা, জমকালো আয়োজন

    প্রতিমন্ত্রী পলকের তোপের মুখে বেরোবি উপাচার্য

    সন্ধ্যার পর চলে স্পিডবোট নেওয়া হয় বাড়তি ভাড়া

    দেখে নিন লিভারপুল-রিয়াল ফাইনালের একাদশ

    বিদেশে প্রশিক্ষণে গিয়ে উধাও কনস্টেবল, উৎকণ্ঠায় বাবা-মা

    ট্র্যাকিং সিস্টেম থেকে একের পর এক উধাও হচ্ছে রুশ প্রমোদতরী

    বিধবা নারীকে বাজারে প্রকাশ্যে লাঠিপেটা, যুবক গ্রেপ্তার

    বোরহানউদ্দিনে ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার-ফার্মেসিতে অভিযান, ৭৭ হাজার টাকা জরিমানা

    ফরিদপুরে অবৈধ ২০ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ