Alexa
বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২

সেকশন

epaper
 

বিজ্ঞান

রহস্যময় ‘হাভানা সিনড্রোম’

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২২, ০৯:১৭

হাভানা সিনড্রমে আক্রান্তদের অনেকেই মার্কিন কূটনীতিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা। ছবি: হেলথ চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যাকে জয় করে চলেছে। এই যেমন টিকা আবিষ্কারের পর বসন্ত-হাম-পোলিওর প্রকোপ অনেকাংশেই কমে গেছে। তবে কিছু রোগ আজও জয় করা সম্ভব হয়নি। কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা এখনো রহস্য হয়ে রয়ে গেছে চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের কাছে। এমনই একটি সমস্যা হাভানা সিনড্রোম।

২০১৬ সালের একটি ঘটনা মনে করা যাক। কিউবার রাজধানী হাভানায় মার্কিন দূতাবাসের কয়েকজন কর্মকর্তার শরীরে হঠাৎ করেই অস্বাভাবিক কিছু লক্ষণ দেখা দেয়। এ লক্ষণ কেবল কর্মকর্তাদের মধ্যেই আটকে থাকে না। ক্রমেই আক্রান্ত হতে থাকেন মার্কিন গুপ্তচর ও অন্য কূটনীতিকেরা। সবার মধ্যে একই লক্ষণ বমিভাব, কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ হওয়া, শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া, মাথা ঝিমঝিম, স্মৃতিশক্তি লোপ ইত্যাদি।

হাভানায় এ রোগ প্রথম শনাক্ত হওয়ায় এর নাম দেওয়া হয় ‘হাভানা সিনড্রোম’। তবে এটি কেবল কিউবাতেই সীমাবদ্ধ ছিল, এমন নয়। চীনেও বেশ কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা একই সমস্যায় পড়েছেন। বিজ্ঞানভিত্তিক সাময়িকী সায়েন্স নিউজের এক প্রতিবেদন বলছে, চীন ও কিউবাতে ২০০ জনের বেশি ওই সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে এ সিনড্রোম ছড়িয়ে যায় জার্মানি, অস্ট্রিয়া, রাশিয়া ও সার্বিয়ায়। গত বছরের মাঝামাঝি খোদ যুক্তরাষ্ট্রেও এ সমস্যায় আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে।

গত ডিসেম্বরে মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (এফবিআই) সাবেক এক কর্মকর্তা মামলা করার পর ফের আলোচনায় আসে হাভানা সিনড্রোম। মামলায় ওই ব্যক্তি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে হাভানা সিনড্রোম নিয়ে অবহেলার অভিযোগ আনেন। এফবিআইয়ের হয়ে কাজ করার সময় তাঁর কর্মস্থল ছিল চীনের গুয়াংজুতে। কয়েক বছর আগে গুয়াংজুতে থাকাকালীন এ ধরনের লক্ষণ দেখা দেয় তাঁর এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। কিন্তু মার্কিন প্রশাসন তা আমলে নেয়নি।

হাভানা সিনড্রোমের কারণ হিসেবে কোনো শব্দতরঙ্গের আঘাত কিংবা মাইক্রোওয়েভকে দায়ী করছেন বিজ্ঞানীরা। একে মানসিক রোগ বলেও উল্লেখ করা হচ্ছে। কিন্তু কেবল কূটনীতিক এবং গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারাই কেন আক্রান্ত হচ্ছেন? আবার আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বেশির ভাগ মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তা ও তাঁদের স্বজনেরা কেন? এসব প্রশ্নের সঠিক উত্তর আজও পাওয়া যায়নি। আরও বড় রহস্য, খোদ মার্কিন প্রশাসন এ সিনড্রোম নিয়ে উদাসীন। ২০২০ সালে প্রকাশিত মার্কিন বিজ্ঞান, প্রকৌশলী ও মেডিকেল একাডেমির প্রতিবেদন বলছে, বেতার তরঙ্গের কারণে এমনটি হতে পারে। দীর্ঘদিন সমালোচনার পর গত বছরের নভেম্বরে কর্মকর্তাদের সতর্ক করে এফবিআই।

হাভানা সিনড্রোমেও পাওয়া গেছে রুশ-মার্কিন দ্বন্দ্বের গন্ধ। কয়েকজন মার্কিন বিশ্লেষক জানিয়েছেন, রাশিয়ার তৈরি কোনো মাইক্রোওয়েভভিত্তিক অস্ত্রের কারণে এমন হতে পারে। তবে অভিযোগ ওঠার পর থেকেই তা নাকচ করে আসছে রাশিয়া। অবশ্য সায়েন্স ফোকাসের প্রতিবেদনটিতে ব্রিটিশ স্নায়ুতাত্ত্বিক ক্রিশ্চিয়ান জ্যারেট জানান অন্য কথা। তাঁর মতে, এ রোগ মানুষের ভাবনার ওপর নির্ভর করে। ধরা যাক, একজন এজেন্ট অন্য আরেকজনকে বললেন, তাঁর এসব লক্ষণ দেখা দিয়েছে। তখন অন্যজনের মধ্যেও তা দেখা দিতে পারে। যত দিন পরিষ্কার ধারণা না দেওয়া হবে, তত দিন হাভানা সিনড্রোম বিলীন হবে না।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    বেড়েছে তালশাঁসের কদর

    নোয়াখালীর বাতাসে ভাসছে বিষ

    হত্যা মামলার চার আসামি কাউন্সিলর প্রার্থী

    বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর, বিক্ষোভ

    হিজলের কোমল রেশমি পরশ

    গার্দিওলা-ক্লপের বৈপরীত্যই ফুটবলের সৌন্দর্য

    টিভিতে আজকের খেলা (২৬ মে ২০২২, বৃহস্পতিবার)

    সিরাজগঞ্জে ইজিবাইকচালকের হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার

    রাঙামাটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ইনস্যুরেন্স কর্মকর্তার মৃত্যু

    জীবনে ভোগ নাকি উপভোগ

    সিরাজগঞ্জে ট্রাক-লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৪