Alexa
মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২২

সেকশন

epaper
 

শিক্ষার্থীদের টিকাদান

স্বাস্থ্যবিধি মানা নিয়ে উদ্বেগ

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২২, ১২:২৮

নান্দাইলে করোনার টিকা নিতে আসা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের ভিড়। ছবি: আজকের পত্রিকা করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত রাখতে সারা দেশের মতো নান্দাইলেও শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। গত ৬ জানুয়ারি নান্দাইলের সাংসদ আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহিন টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। তবে এই টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত না করা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকেরা। সড়ক দুর্ঘটনায় এক ছাত্রীর মৃত্যুর পর সন্তানকে এভাবে ছেড়ে দিতে অনেক অভিভাবক অনীহা প্রকাশ করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ডাক বাংলোতে টিকাদান চলছে। এই টিকা নিতে এসে দুর্ঘটনা কবলে পড়ে নান্দাইল রোড উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী রাজিয়া সুলতানা (১৪) মারা যায়।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে টিকাদান কার্যক্রম নিয়ে গাফিলতি ও ত্রুটির অভিযোগ করেছেন অনেকে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের জন্য নিজস্ব পরিবহনের ব্যবস্থা করেনি। ফলে দূর থেকে আলাদা আলাদাভাবে উপজেলায় এসে টিকা নেওয়া কষ্টসাধ্য। এর পরিবর্তে স্ব-স্ব স্কুলে টিকাদানের দাবি তাঁদের।

অভিভাবক আব্দুল মালেক বলেন, গ্রাম থেকে এক শিক্ষার্থীর উপজেলা সদরে যেতে অনেক গাড়ি পরিবর্তন করতে হয়। রাস্তাঘাটে যাতায়াতেও সমস্যা। তা ছাড়া যে কোনো সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারে। এ জন্য কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে টিকা দেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ডাক বাংলো ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ঘেঁষাঘেঁষি করে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। নেই সামাজিক দূরত্ব, কারও কারও মুখে ছিল না মাস্ক। মাঝে মাঝে ধাক্কায় হুমড়ি খেয়ে পড়ছে অনেকেই। শিক্ষকের আদেশও মানছে না অনেকে। দুটি কেন্দ্রে এত শিক্ষার্থীদের চাপে অনেকটা অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মাধ্যমিক ও মাদ্রাসার ১২-১৭ বছর শিক্ষার্থীদের ফাইজারের টিকা দেওয়া হচ্ছে। এই টিকা এসি রুমে ১৫-২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখতে হয়। অন্যথায় টিকা কার্যকর থাকে না। তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ডাক বাংলোর এসি রুমে টিকার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

গত ৬ জানুয়ারি থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৫ হাজার ৪০০ শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া হয়েছে। উপজেলার মোট ৪২ হাজার শিক্ষার্থীকে টিকার আওতায় আনা হবে। আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে শিক্ষার্থীদের টিকাদান কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

শামছুল হক স্মৃতি আইডিয়াল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক নুরুল হক বলেন, শিক্ষার্থীরা অনেক ঝুঁকি নিয়ে গ্রাম থেকে নান্দাইলে টিকা নিতে যাওয়া অভিভাবকেরা একটু ভয়ে থাকে। টিকা যদি স্ব-স্ব স্কুলে দেওয়ার ব্যবস্থা হতো, তাহলে ভালো হতো।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহমুদুর রশিদ জানান, ফাইজারের টিকা নির্দিষ্ট তাপমাত্রার মধ্যে রাখতে হয়। এখন অভিভাবক ও শিক্ষার্থী যে দাবির কথা বলছেন সেটা মানতে হলে স্কুলে স্কুলে এসির ব্যবস্থা থাকতে হবে।

মাহমুদুর রশিদ আরও বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে এসির ব্যবস্থা থাকলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনা করবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জোর তৎপরতাও চালানো হচ্ছে।

সিভিল সার্জন মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের ফাইজারের টিকা দেওয়া হচ্ছে। এটি একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় রেখে পুশ করতে হয়। স্কুলে স্কুলে টিকা দেওয়া হলে ফ্রিজিং সিস্টেম থাকতে হবে। তা না হলে দেওয়া সম্ভব না।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    সন্ত্রাস-নাশকতা বড় গুনাহের কাজ

    প্রশাসনের দিকে অভিযোগের তির নৌকার ১০ প্রার্থীর

    আইভীতেই আস্থা অটুট

    সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে ফসলের ক্ষতি

    করোনার সঙ্গে ইনফ্লুয়েঞ্জা ইউরোপে ‘টুইন্ডেমিক’

    অভিনয়শিল্পী শিমুর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার

    চীনের নজর মধ্যপ্রাচ্যে বড় চ্যালেঞ্জ যুক্তরাষ্ট্র

    নীলফামারীতে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, যুবক আটক

    আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিল শাবিপ্রবি প্রশাসন

    সৌদি আরবে পাওয়া গেল ৪৫০০ বছর আগের মহাসড়ক