Alexa
শনিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২২

সেকশন

epaper
 

ফুলবাড়িয়ায় ঐতিহ্যবাহী হুম গুটি খেলা

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২২, ১২:৩১

ফুলবাড়িয়া উপজেলার বড়ই আটা গ্রামে ‘হুম গুটি’ খেলা দেখতে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। ছবি: আজকের পত্রিকা জমিদার আমলে ময়মনসিংহে ‘পরগনা’ আর ‘তালুক’ দ্বন্দ্বের মীমাংসা হয়েছিল ‘হুম গুটি’ খেলা দিয়ে। মুক্তাগাছার জমিদার শশীকান্ত আচার্য চৌধুরী ও বৈলরের জমিদার হেম চন্দ্র রায়ের মধ্যে জমির পরিমাপ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। তালুক ও পরগনার জমির পরিমাপ নিয়ে দুই জমিদারের এই বিরোধের মীমাংসা হয়েছিল ৪০ কেজি ওজনের পিতল বল (হুম গুটি) দিয়ে।

প্রতিযোগিতা হয়েছিল এখনকার ফুলবাড়িয়া উপজেলার বড়ই আটা গ্রামে। শক্তির লড়াইয়ে জিতে যায় মুক্তাগাছার জমিদার শশীকান্ত আচার্য চৌধুরীর প্রজারা। সেই থেকে বড়ই আটা গ্রামের পৌষ মাসের শেষ দিনে এই খেলার আয়োজন হয়ে আসছে। এখনো ‘হুম গুটি’ খেলাটি ময়মনসিংহ অঞ্চলে তুমুল জনপ্রিয় একটি খেলা।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে ঢাকঢোল ও বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে ফুলবাড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে দল বেঁধে ‘হুম গুটি’ খেলতে খেলোয়াড়েরা আসেন। সঙ্গে যোগ দেন আশপাশের কয়েক গ্রামের দর্শনার্থী। বিকেল গড়িয়ে রাত পর্যন্ত চলা খেলা ঘিরে হাজারো মানুষের ঢল নামে।

খেলা ঘিরে বড়ই আটা গ্রামে বসে পৌষ মেলা। এই গ্রাম ছাড়াও আশপাশের দেওখোলা, লক্ষ্মীপুর, তেলিগ্রাম, ভাটিপাড়া, বালাশ্বর, শুভরিয়া, কালিবাজাইল, দশমাইল, কুকরাইল, কাটাখালি, মোহাম্মদনগরসহ বিভিন্ন গ্রামে উৎসবের আমেজ বিরাজ করেছে। প্রতিটি বাড়িতেই বেড়াতে আসেন আত্মীয়স্বজন।

গতকাল স্থানীয় হুম গুটি পরিষদের সভাপতি মো. আবু বক্কর সিদ্দিকের সভাপতিত্বে, দেওখোলা ইউপি চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম বাবলু ও বালিয়ান ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান পলাশ আনুষ্ঠানিকভাবে গুটি খেলোয়াড়ের মাঝে ছেড়ে দেন। ৪০ কেজি ওজনের পিতলের তৈরি বল (হুম গুটি) তাঁরা খেলা শুরু করেন।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানায়, হুম গুটি খেলার শর্ত ছিল নির্দিষ্ট ওজনের পিতলের গুটি (বল আকৃতির) যে জমিদারের প্রজারা নিতে পারবে তাঁরাই বিজয়ী হবে। সেই এলাকা হবে পরগনা আর পরাজিত অংশের নাম হবে তালুক। মুক্তাগাছা জমিদার শশীকান্তের প্রজারা গুটি খেলায় বিজয়ী হয়। সেই থেকে পরগনা এলাকার জমির পরিমাপ সাড়ে ৬ শতাংশে এক কাঠা এবং তালুক এলাকার জমির পরিমাপ ১০ শতাংশে এক কাঠা।

প্রতিযোগিতার বর্ণনা দিয়ে আবু বক্কর বলেন, খেলা শুরুর পর পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণ-চার ভাগে ভাগ হয়ে যান খেলোয়াড়েরা। খেলায় কোনো রেফারি নেই, নির্দিষ্ট কোনো সময় ও খেলোয়াড়ের সংখ্যা নেই। খেলাটিতে কোনো মারামারি কাটাকাটি হয়নি কখনো। খেলাটি এক দিনেরও বেশি চলছে একাধিকবার। একটানা পাঁচ দিনও খেলাটি চলার রেকর্ড রয়েছে।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    এগারো বছরেও শেষ হয়নি খুলনা-মোংলা রেললাইনের কাজ

    তিন বছরেও নিজস্ব ভবন হয়নি শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের

    রাকিবুলদের বাঁচা মরার লড়াই

    নতুন ধারাবাহিক ‘ভাড়াবাড়ি বাড়াবাড়ি’

    ভিয়েতনামের ‘মননশীলতার পিতা’ হ্যন আর নেই

    রামেকে করোনা উপসর্গে দুজনের মৃত্যু

    আইপিএলের নিলামে সাকিব-মোস্তাফিজের ভিত্তিমূল্য ২ কোটি রুপি