Alexa
বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারি ২০২২

সেকশন

epaper
 

পাহাড়ের ‘ঠান্ডা আলু’ যাচ্ছে বিভিন্ন জেলায়

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২২, ১৩:৩২

জুমচাষে উৎপাদিত ঠান্ডা আলু বান্দরবানের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হয়। সম্প্রতি সদরের মারমা বাজারে। ছবি: আজকের পত্রিকা পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ে জুমে অন্যান্য ফসলের সঙ্গে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘ঠান্ডা আলু’ চাষ। চাহিদা থাকায় পাহাড়ের শীতকালীন ফসল যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।

পাহাড়ে মারমা ভাষায় একে বলে ‘রোয়াই উ’। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পাড়ায় ‘রোয়াই উ’ বলা হলেও শহরে এটি ‘ঠান্ডা আলু’ নামেই পরিচিত। ইংরেজিতে একে ‘ম্যাক্সিকান ইয়াম’ বা ‘ম্যাক্সিকান টার্নিপ’ বলা হয়।

বাদামি রংয়ের ঠান্ডা আলু লম্বা ও গোলাকৃতি হয়। সমতলের মিষ্টি আলুর মতো দেখতে হলেও ঠান্ডা আলুর চামড়া অনেক পুরু হয়। স্বাদে মিষ্টি হওয়ায় এটি পাহাড়ি-বাঙালি সবার বেশ পছন্দের খাবার এটি।

পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর লোকজন জানান, জুমচাষেই কেবল ঠান্ডা আলু চাষ হয়। এ কারণে বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য তিন জেলায় এই ফলের চাষ হয়।

সুয়ালকের বাসিন্দা আকাশ মারমা বলেন, বৈশাখ (এপ্রিল) মাস থেকে জুমে নতুন ধানের বীজ রোপণের সময় ঠান্ডা আলুর বীজও বপন করা হয়। ধান উঠে গেলে আলুর গাছগুলো বাড়তে থাকে। এ জন্য অগ্রহায়ণ থেকে মাঘ-ফাল্গুন (ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত তিন মাস সাধারণত ঠান্ডা আলুর মৌসুম।

সরেজমিনে দেখা যায়, বান্দরবানের ডলুপাড়া, চড়ুইপাড়া, কানাপাড়া, তুমব্রুপাড়া, হেবরনপাড়া এলাকায় পাহাড়ে জুমের জমিতে ঠান্ডা আলু চাষ হয়েছে। জমি থেকে আলু তুলে ধুয়ে পরিষ্কার করে বাজারে নিয়ে আসেন চাষিরা। জেলা সদরের মধ্যমপাড়ায় মারমা বাজার, বালাঘাটা, বান্দরবান বাজার, রেইচা বাজার, সুয়ালক বাজারে ঠান্ডা আলু বিক্রি হতে দেখা যায়।

ঠান্ডা আলু বিক্রেতা আবদুল আলী বলেন, পাহাড়িদের কাছ থেকে পাইকারি দরে ঠান্ডা আলু কিনে বান্দরবান বাজারে এনে বিক্রি করেন তিনি। প্রতি কেজি আলু ৪০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি করেন।

পাইকার মাবুদ সওদাগর বলেন, শহরে চাহিদা থাকায় শীতকালে তিনি ঠান্ডা আলুর ব্যবসা করেন। বান্দরবান বাজার থেকে আলু কিনে ট্রাক ও মাহেন্দ্র করে পটিয়া, সাতকানিয়া, চট্টগ্রামের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করেন।

বালাঘাটা বাজারে নিজে চাষ করা ঠান্ডা আলু বিক্রি করতে আসা পূর্ণিমা তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, তাঁর জমিতে এবার ঠান্ডা আলুর ভালো ফলন হয়েছে। পরিবারের সদস্যসহ ঠান্ডা আলু বাজারে এনে বিক্রি করেন। নিজে বিক্রি করতে পারলে লাভ বেশি পাওয়া যায়।

লেমুঝিরির জুম চাষি লালু তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, জুমের বড় গুণ এখানে চাষে রাসায়নিক সার ব্যবহার হয় না। গাছপালা পুড়িয়ে জৈব সার পাওয়া যায়। কম স্থানে বেশি ফলন ও ওজনে বেশি হওয়ায় অনেকে এখন জুমে ঠান্ডা আলুর চাষ করেন। দাম ভালো পাওয়া যাওয়ায় তাঁর মতো অনেকে এই আলু চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

বান্দরবান সদরের কৃষি কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক বলেন, পাহাড়ে জুমে চাষ করা ধান উঠে যাওয়ার পর ঠান্ডা আলুগাছগুলো বড় হতে থাকে। আলু বড় হলে গাছের গোড়ার মাটি ফেটে যায়। তখন আলু সংগ্রহ করা হয়। মাঝারি ঢালু পাহাড়ি জমিতে ঠান্ডা আলুর ফলন ভালো হয়। জুমের জমিতে ঠান্ডা আলু চাষের জন্য কৃষি বিভাগ হতে সহযোগিতা দেওয়া হয় বলে তিনি জানান।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    দোয়া সফলতার হাতিয়ার

    ফ্যাশনেবল ফিউশন

    নিরাপদ অভিবাসন নিয়ে কর্মশালা

    ঘাটাইলে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ৩ অবৈধ ইটভাটা

    জরাজীর্ণ টিনের ঘরে ৩৮ বছর পাঠদান

    ৫ ইউপিতে আওয়ামী লীগের ৭ বিদ্রোহী

    রাজধানীতে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দিয়ে হত্যার অভিযোগ

    বিআরটিএর অভিযান: স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ২৪ বাসে মামলা

    মানিকগঞ্জে কৃষক শাইজুদ্দিন হত্যা মামলায় ১ জনের ফাঁসির আদেশ

    শার্শায় শাকিব হত্যার ৩ আসামি গ্রেপ্তার

    গ্রাহক সেবা বাড়াতে আমাজনের সঙ্গে চুক্তি করছে টেলিনর

    রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ক্যাম্প চালু করল হোপ’ ৮৭