Alexa
বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারি ২০২২

সেকশন

epaper
 

রপ্তানি বন্ধ, হতাশ পানচাষিরা

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২২, ১১:৫৪

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে বরজে পানের যত্ন নিচ্ছেন এক চাষি। সম্প্রতি তোলা ছবি। আজকের পত্রিকা অনুকূল আবহাওয়া ও বিদেশে মিষ্টি পানের ব্যাপক চাহিদা থাকার কারণে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার পান চাষিরা পান চাষে ঝুঁকেছিলেন। এতে সফলতারও মুখ দেখেছিলেন তাঁরা। কিন্তু করোনার প্রভাবে বিদেশে পান রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দাম কমার কারণে পান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন চাষিরা। এতে অনেক চাষি বরজ ভেঙে অন্য চাষে ঝুঁকছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মিষ্টি পান চাষে উর্বর ভূমি হিসেবে পরিচিত বালিয়াকান্দি উপজেলা। এ অঞ্চলের পানের সুখ্যাতি বহু পুরোনো। এখানে সাধারণত দুই জাতের পান হয়। মিষ্টি পান আর সাচি পান। এখানকার মিষ্টি পান দেশের চাহিদা মিটিয়ে আটটি দেশে রপ্তানি করা হতো।

সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করলে প্রতি বছর এই পান থেকে কোটি টাকা আয় করা সম্ভব বলে মনে করেন স্থানীয় পান ব্যবসায়ীরা। উপজেলায় ৮৮ হেক্টর মিষ্টি পান ও সাচি পানের আবাদ করা হয়েছে। ৬৫৮টি মিষ্টি পানের বরজ, ১৫৬টি সাচি পানের বরজসহ মোট ৮১৪টি বরজ রয়েছে।

পানচাষি গণেশ মিত্র বলেন, উপজেলার আড়কান্দি, বেতেঙ্গা, চরআড়কান্দি, ইলিশকোল, স্বর্প বেতেঙ্গা, খালকুলা, বালিয়াকান্দি, বহরপুর, যদুপুর এলাকায় ব্যাপক পানের আবাদ হয়। তাঁদের পূর্ব পুরুষেরা পান চাষ করেছেন। পূর্ব পুরুষের ঐতিহ্য ধরে রাখতে তাঁরাও চাষ করছেন। তবে এখন পানের দাম একেবারেই কম হওয়ায় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ৮০টি পান আগে ২০-২৫ টাকায় বিক্রি হতো। সেই পানের দাম এখন মাত্র ৪-৫ টাকা। তবে বাজারে একেকটি পান কিনে খেতে গেলে ঠিকই ৫ টাকা দিয়েই কিনতে হয়।

বাবাকে পানের বরজে সাহায্য করতে আসা কলেজছাত্র সুজন মিত্র বলেন, এ অঞ্চলের সাচি ও মিষ্টি পান প্রচুর হয়। মিষ্টি পান রাজবাড়ী জেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলার চাহিদা মিটিয়ে ভারত, পাকিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, সৌদি আরব ও মালয়েশিয়ায় রপ্তানি করা হতো। এতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হতো। করোনার কারণে বিদেশে পান রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেছে। বাজারে পানের দাম নেই। এ কারণে তাঁরা পান চাষ বাদ দিয়ে অন্য চাষে ঝুঁকছেন।

পানচাষি আলোক রাহা বলেন, করোনার প্রভাবে পানে লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ বছর লাভের আশা করেছিলেন। আগে বিদেশে প্রচুর চাহিদা থাকলেও এখন আর পান বিদেশে পাঠাতে পারছেন না। দাম না থাকার কারণে বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, এখানকার মিষ্টি পান এলাকার চাহিদা মিটিয়ে আটটি দেশে রপ্তানি করা হতো। এখন রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। তবে পান রপ্তানি করতে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পান চাষিদের সব সময় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা পরামর্শ দেন।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    পঠিতসর্বশেষ

    এলাকার খবর

     
     

    দোয়া সফলতার হাতিয়ার

    ফ্যাশনেবল ফিউশন

    নিরাপদ অভিবাসন নিয়ে কর্মশালা

    ঘাটাইলে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ৩ অবৈধ ইটভাটা

    জরাজীর্ণ টিনের ঘরে ৩৮ বছর পাঠদান

    ৫ ইউপিতে আওয়ামী লীগের ৭ বিদ্রোহী

    আ.লীগ লবিস্ট নিয়োগ করে জনগণের অর্থ ব্যয় করছে: খন্দকার মোশাররফ

    ভেড়ামারায় পানিতে ডুবে দেড় বছরের শিশুর মৃত্যু

    চট্টগ্রামে শুল্ক আত্মসাতের দায়ে কারাগারে দুই রাজস্ব কর্মকর্তা

    নিখোঁজের ২ দিন পর খাল থেকে শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার

    নান্দাইলে ট্রলি-অটোর সংঘর্ষে নিহত ১

    সিভাসুতে ৭ জনের ওমিক্রন শনাক্ত