Alexa
শনিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২২

সেকশন

epaper
 

ট্রে-পদ্ধতিতে কমেছে ঝুঁকি

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২২, ১১:৪৯

বাগেরহাটের ফকিরহাটে গত বৃহস্পতিবার অটোরাইস ট্রান্সপ্লান্টার দিয়ে ধানের চারা রোপণের উদ্বোধন করা হয়। ইনসেটে হস্তান্তরযোগ্য ট্রেতে করা বীজতলা। ছবি: আজকের পত্রিকা বাগেরহাটের ফকিরহাটে খরা, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, দাবদাহ ও কোল্ড ইনজুরিসহ নানা বৈরী আবহাওয়াতে টেকসই পদ্ধতিতে কৃষিকাজে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ফসল উৎপাদনে চাষিদের মধ্যে সাড়া জাগিয়েছে কৃষি বিভাগ। বৈরী আবহাওয়া রুখতে পারেনি ফসল উৎপাদনে কৃষকের অগ্রগতি। চলতি বোরো মৌসুমে ফকিরহাটের একঝাঁক প্রশিক্ষিত কৃষক ট্রে-পদ্ধতিতে ধান ও সবজির চারা উৎপাদন করে সফলতা পেয়েছেন। কৃষিকাজে শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় চাষাবাদে যান্ত্রিকীকরণ বাড়াতে উপজেলার লখপুর ও পিলজঙ্গ ইউনিয়নে সমলয় ব্যবস্থাপনায় যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ৫০ একর জমিতে ধানের চারা রোপণের কাজ চলছে।

স্থানীয় চাষি শুকুর আলী বলেন, বৈরী আবহাওয়ায় কয়েক বছর ধরে আমন ও বোরো মৌসুমে ধান বা সবজির চারা উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। তাই কৃষি বিভাগের পরামর্শে তাঁরা ট্রেতে ধানের বীজতলা করে পরিচর্যা করেন। এ পদ্ধতিতে বন্যা, খরা বা অতিরিক্ত শীতে ট্রের বীজতলা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়া যায় সহজে।

এমনকি প্রয়োজনমতো পানি, সেচ ও পলিথিন দিয়ে ঢেকে পরিচর্যা করা হয়। যান্ত্রিক পদ্ধতিতে একরপ্রতি ধান বপন, রোপণ ও কর্তনে খরচ বাঁচে প্রায় ১০ হাজার টাকা।

পিলজঙ্গ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোড়ল জাহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় কৃষিক্ষেত্রে যান্ত্রিকীকরণ বর্তমান সরকারের যুগান্তকারী উদ্যোগ। ফলে স্বল্প খরচে ফসল উৎপাদনে সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হয়েছে। অনেকেই সরকারিভাবে কৃষি যন্ত্রপাতি পেয়েছেন। তবে ধান রোপণ ও কর্তনের যন্ত্রের সহজলভ্যতা না থাকায় এ পদ্ধতিতে চাষাবাদে চাষিদের আগ্রহ থাকলেও তাঁরা ব্যাপকভাবে চাষ করতে পারছেন না।

পিলজঙ্গ ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিপুল পাল জানান, নওয়াপাড়া ব্লকে কয়েক বছর ধরে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পানিসাশ্রয়ী প্রকল্পের মেশিন দিয়ে স্থানীয় চাষিদের চাষাবাদ সম্পর্কে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। এ পদ্ধতি অধিক লাভজনক হওয়ায় স্থানীয় চাষিদের আগ্রহ বেড়েছে। চলতি মৌসুমে এ ব্লকে প্রায় ১৫ একর জমিতে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ট্রেতে উৎপাদিত ধানের চারা লাগানোর কাজ চলছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাছরুল মিল্লাত বলেন, এ উপজেলায় ৮ হাজার ৪০০ হেক্টরে বোরো আবাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশিক্ষিত অনেক চাষি চলতি মৌসুমে ধানের চারার পাশাপাশি ট্রেতে সবজির চারা উৎপাদন করছেন। বৈরী আবহাওয়া মোকাবিলা করে ফসল উৎপাদনে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে চাষিদের আগ্রহ বেড়েছে।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান স্বপন দাশ বলেন, করোনাকালীন সময়ে শ্রমিকস্বল্পতার মধ্যে উৎপাদন সচল রাখতে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের কৃষিযন্ত্র ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ফলে ফকিরহাটে কৃষি উৎপাদন অব্যাহত আছে এবং দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলার কৃষকপর্যায়ে এখন ২৯টি রিপার যন্ত্র, ২টি অটোরাইস ট্রান্সপ্লান্টার, ১০টি থ্রেসার যন্ত্র এবং একটি কম্বাইন্ড হারভেস্টার যন্ত্র রয়েছে। এতে কৃষকেরা কম খরচে ফসল উৎপাদন করে অধিক লাভবান হতে পারছেন।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    তিন বছরের কাজ শেষ হয়নি এগারোতেও

    তিন বছরেও নিজস্ব ভবন হয়নি শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের

    আবারও টালিউডে মোশাররফ

    ছোট্ট ক্যারিয়ারে অনেক প্রাপ্তি

    বর্জ্যে বেহাল পুরান ঢাকার বাংলাদেশ মাঠ

    আইপিএলের নিলামে সাকিব-মোস্তাফিজের ভিত্তিমূল্য ২ কোটি রূপি

    একের সঙ্গে হরেক

    আজকের রাশিফল

    নবজাতকের র‍্যাশ হলে

    বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলবে ইংল্যান্ড, ভনের ভবিষ্যদ্বাণী