Alexa
বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারি ২০২২

সেকশন

epaper
 

ঘর দেওয়ার নামে প্রতারণা

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২২, ১১:৩১

ঘর দেওয়ার নামে প্রতারণা খুলনার কয়রায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দেওয়ার নামে একটি প্রতারক চক্র সাধারণ মানুষের কাছে থেকে টাকা আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ চক্রের সদস্যরা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ইউএনওর প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে টাকা নিচ্ছেন বলে অভিযোগে জানা গেছে।

নিজেদেরকে মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য মোবাইল ফোনে কথিত ইউএনওর নম্বরে কল করে কথা বলিয়েও দিচ্ছেন তাঁরা। সরাসরি ইউএনওর সঙ্গে কথা বলে বিশ্বাস করে তাঁদের হাতে টাকা তুলে দিচ্ছেন মানুষ। এভাবে গত দুই মাসে চক্রটি প্রায় ৫০০ মানুষের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে ভুক্তোভুগীরা জানিয়েছেন।

ঘটনা জানাজানির পর সম্প্রতি আব্দুস সাত্তার সরদার নামে এক প্রতারককে আটক করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায় ভুক্তভোগীরা। পরে তাঁকে থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। আব্দুস সাত্তার কালনা গ্রামের মৃত গহর আলীর ছেলে।

মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, আব্দুস সাত্তার ও তাঁর কয়েক সহযোগী মিলে সরকারি ঘরের তালিকায় নাম তোলার কথা বলে টাকা আদায় করছিলেন। তাঁরা ওপর মহলে ঘুষ দিয়ে ঘর পাইয়ে দেওয়া হবে জানিয়ে কারও কাছ থেকে ৪ হাজার কারও থেকে ৫ হাজার টাকা করে নিয়েছেন। তাঁদের প্রতারণার কৌশল জানতে পেরে গ্রামবাসী আব্দুস সাত্তারকে আটক করে। তার দেওয়া তথ্য মতে গত দুই মাসে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ৫০০ মানুষকে প্রলুব্ধ করে টাকা নিয়েছেন। তার অন্য সহযোগীদের ধরার চেষ্টা চলছে।

এদিকে প্রতারণার খবর জানাজানি হওয়ার পর শত শত মানুষ টাকা ফেরতের আশায় ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ভিড় করছেন।

সেখানে উপস্থিত শ্রীরামপুর গ্রামের রহিমা খাতুন বলেন, ‘আমার তিন ভাইয়ের জন্য পাকা ঘরের আশায় সাত্তারের কাছে ১৫ হাজার টাকা দিয়েছি। এখন শুনছি সে ঘর দেওয়ার কেউ না।’

কালনা গ্রামের আনোয়ারা খাতুন বলেন, ‘ঝড়ে মেয়ের ঘর ভেঙে যাওয়ায় নাতি-নাতিনদের নিয়ে খুব কষ্টে আছে। এ কারণে পাকা ঘর পাওয়ার আশায় ছাগল বিক্রি করে সাত্তারের কাছে ৫ হাজার টাকা দিয়েছি। টাকা নেওয়ার সময় সে ইউএনও সাহেবের সঙ্গে কথা বলিয়ে দিয়েছিল।’

একই গ্রামের সিরাজুল মোল্লা বলেন, ‘ছেলের চাকরি পাইয়ে দিতে সাত্তারের কাছে ৩০ হাজার টাকা দিয়েছি। সে টাকা নেওয়ার সময় মোবাইলে ইউএনও স্যারের সঙ্গে কথা বলিয়ে দিয়েছিল।’

কালনা বাজারের ব্যবসায়ী মহসীন মোল্লা জানান, তাঁর এক আত্মীয়ের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার সময় বিষয়টি সন্দেহ হয়। তখন তিনি ইউএনওর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে মোবাইলে তাঁকে (কথিত ইউএনও) ধরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি কৌশলে ওই নম্বরটি দেখে নেন।

পরে ওই নম্বরে ফোন দিয়ে জানতে পারেন সাকিব নামে এক ব্যক্তি অপর প্রান্ত থেকে কথা বলছেন। ঘটনাটি সবাইকে জানিয়ে দিলে গ্রামের লোকজন সাত্তারকে ধরে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায়। এ চক্রে সাত থেকে আটজন রয়েছে বলে জানান তিনি।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, ‘সাকিব নামে এক ব্যক্তি ইউএনও সেজে মোবাইল ফোনে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। প্রতারক চক্রের একজন আটক হওয়ায় অন্যরা গা ঢাকা দিয়েছেন। তাঁদের আটকের চেষ্টা চলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এভাবে আর কেউ যাতে প্রতারণার স্বীকার না হয় সে জন্য এলাকায় মাইকিং করে সকলকে সতর্ক করা হয়েছে।’

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    দোয়া সফলতার হাতিয়ার

    ফ্যাশনেবল ফিউশন

    নিরাপদ অভিবাসন নিয়ে কর্মশালা

    ঘাটাইলে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ৩ অবৈধ ইটভাটা

    জরাজীর্ণ টিনের ঘরে ৩৮ বছর পাঠদান

    ৫ ইউপিতে আওয়ামী লীগের ৭ বিদ্রোহী

    গ্রাহক সেবা বাড়াতে আমাজনের সঙ্গে চুক্তি করছে টেলিনর

    রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ক্যাম্প চালু করল হোপ’ ৮৭ 

    কিংবদন্তিদের মেলায় যাওয়া হচ্ছে না রফিক সুমনদের

    দুর্নীতি রোধে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে ডিসিদের সহযোগিতা চায় দুদক

    ৪ জেলায় বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, তিন বিভাগে বৃষ্টির আভাস

    ৭০০ এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট চালুর মাইলফলক অর্জন করল ব্র্যাক ব্যাংক