Alexa
মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২২

সেকশন

epaper
 

পাটিশিল্পে করোনার থাবা

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২২, ১২:৩১

রাজাপুরের হাইলাকাঠি গ্রামে শীতলপাটি তৈরি করছেন নারী-পুরুষ। গতকাল তোলা ছবি। আজকের পত্রিকা ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় হাইলাকাঠি গ্রাম পাটি গ্রাম নামে পরিচিত। শীতলপাটির জন্য এই গ্রামের নাম পাটি গ্রাম। প্রায় ১০০ পরিবার পাটি তৈরি এবং বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় হারাতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পটি। পুঁজিসংকট, আধুনিকতার ছোঁয়া ও অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে বিলুপ্তির পথে জাতিসংঘের ইউনেস্কের তালিকাভুক্ত এই শিল্প।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এই শিল্পে। ফলে বেচাবিক্রিতে ভাটা পড়েছে। এতে শীতলপাটির কারিগরেরা পড়েছেন বিপাকে। প্রত্যেক পরিবার দেড় থেকে ২ লাখ টাকা করে ক্ষতির মুখে পড়েছে। সব মিলিয়ে ওই গ্রামের পাটিকরেরা প্রায় ২ কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়েছেন দাবি শীতলপাটি তৈরির কারিগর পাটিকর ও সমিতির নেতাদের।

প্রতিবছর পাটি তৈরির কাঁচামাল প্রস্তুত ও বুননের মৌসুমে এনজিও থেকে ঋণ নেন কারিগরেরা। মূলত কাঁচামাল সংগ্রহ করতেই তাঁরা ঋণ নেন। কাঁচামাল সংগ্রহ করে শুরু করেন শীতলপাটি বোনা। লক্ষ্য চৈত্র-বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাস। এই সময়ে পাটির চাহিদা থাকে বেশ। কিন্তু গত বছর করোনা মহামারির কারণে তৈরি করা অনেক পাটি এখনো অবিক্রীত রয়েছে। এতে ১ হাজার টাকা দামের একটি শীতলপাটি বিক্রি করতে হচ্ছে ৪শ থেকে ৫শ টাকায়। এতে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারেননি কারিগরেরা।

জানা গেছে, ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার হাইলাকাঠি ও ডহরশংকর গ্রামে রয়েছে দুই শতাধিক পরিবার। পরিবারগুলো পাটি বুনে জীবিকা নির্বাহ করে। এ গ্রামের শত শত হেক্টর জমিজুড়ে রয়েছে পাটিগাছের বাগান। পাইত্রা চাষ ও কেনার জন্য প্রচুর মূলধন প্রয়োজন হয়। এ জন্য শিল্পীরা মহাজন ও এনজিও থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হন। একটি পাটি বুনতে ৩-৪ জনের দুই থেকে তিন দিন সময় লাগে। যা বিক্রি করে পাঁচশ থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। মহাজনেরা প্রতি পাটিতে এক শ থেকে পাঁচ শ টাকা লাভ করেন।

হাইলাকাঠি গ্রামের বাবুল পাটিকর বলেন, ‘শীতে পাটিগাছ কেটে বেতি তৈরি (কাঁচামাল প্রস্তুত) করা হয়। এ সময়ে বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিই। তা দিয়ে সংসার চালাই। গত বছর ঋণ নিয়ে ১২০টি শীতল পাটি বুনেছিলাম। কিন্তু করোনার কারণে কোথাও কোনো মেলা, মাহফিল বা অনুষ্ঠান না থাকায় পাটি বিক্রি হয়নি। প্রতিটি পাটি ১ হাজারের বেশি টাকায় বিক্রি হতো। কিন্তু সেই পাটি এখন আদামে (অনেক কম দামে) বিক্রি করতে হচ্ছে।’

নির্মল পাটিকর বলেন, ‘যে পাটি ১২শ টাকায় বিক্রি করি, গত মৌসুমে তা ৪শ থেকে ৫শ টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে। এতে ব্যবসায় ক্ষতি হয়েছে।’

পাটিকর সমিতির সাবেক সভাপতি বলাই পাটিকর বলেন, ‘করোনার কারণে পাটি বিক্রি কমে গেছে। এতে কারিগরেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) থেকে ঋণ নিয়ে বিপাকে রয়েছে। এ ছাড়া প্লাস্টিকের পাটি স্বল্পদামে গ্রামাঞ্চলে বিক্রির ফলে শীতল পাটির বিক্রি কমে গেছে, যা এই ব্যবসাকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।’

এই শিল্প টিকিয়ে রাখতে সহজে ঋণ পেতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক জোহর আলী। তিনি বলেন, ‘সহজ শর্তে ঋণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    সন্ত্রাস-নাশকতা বড় গুনাহের কাজ

    প্রশাসনের দিকে অভিযোগের তির নৌকার ১০ প্রার্থীর

    আইভীতেই আস্থা অটুট

    সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে ফসলের ক্ষতি

    হুইলচেয়ারে এসে দিলেন ভোট

    শক্তিবর্ধক পানীয়ের দেদার বিক্রি

    মেসিকে টপকে টানা দ্বিতীয়বার ফিফার বর্ষসেরা খেলোয়াড় হলেন লেভানডফস্কি

    করোনার সঙ্গে ইনফ্লুয়েঞ্জা ইউরোপে ‘টুইন্ডেমিক’

    অভিনয়শিল্পী শিমুর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার

    চীনের নজর মধ্যপ্রাচ্যে বড় চ্যালেঞ্জ যুক্তরাষ্ট্র

    নীলফামারীতে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, যুবক আটক

    আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিল শাবিপ্রবি প্রশাসন