Alexa
মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২২

সেকশন

epaper
 

নানিয়ারচর সেতু

পর্যটন ও ব্যবসার সম্ভাবনা সহজ হবে যাতায়াত

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২২, ১০:০৮

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বুধবার রাঙামাটির নানিয়ারচর সেতু উদ্বোধন করেন। ছবি: আজকের পত্রিকা  উদ্বোধন করা হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত রাঙামাটির নানিয়ারচর সেতু। এতে ছয় দশকের ‘দুঃখ’ ঘুচেছে নানিয়ারচরসহ তিন উপজেলাবাসীর। গত বুধবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে সেতুটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জানা গেছে, পার্বত্যাঞ্চলের সবচেয়ে দীর্ঘ এই সেতুর মাধ্যমে অল্প সময়ে রাঙামাটির লংগদু, খাগড়াছড়ির দীঘিনালা হয়ে বাঘাইছড়ির সাজেকে পৌঁছানো যাবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উদ্বোধনের পর পরই রাঙামাটি ছাড়াও বিভিন্ন জেলা থেকে পর্যটকেরা সেতুর পাশের অপরূপ দৃশ্য দেখতে ভিড় করছে। এটি ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টির ৬০ বছর পর নির্মিত নানিয়ারচর সেতুতেই স্বপ্ন বুনেছেন রাঙামাটির দুর্গম তিন উপজেলার মানুষ। চেঙ্গী নদীর ওপর ৫০০ মিটার দীর্ঘ এই সেতু দিয়ে শুধু নানিয়ারচর উপজেলায় নয়, সহজেই যাওয়া যাবে লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলায়।

গত বুধবার সেতু উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের নানিয়ারচর সেতুর বাস্তবায়নের মাধ্যমে শান্তিচুক্তিতে আমরা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলাম।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুর রহমান বলেন, ‘স্বপ্নের সেতুটি উদ্বোধন হওয়ায় আমাদের অনেক দিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হলো। এই সেতু উদ্বোধনের ফলে পাহাড়ের যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব পরিবর্তন ঘটবে। পর্যটনশিল্পের বিকাশের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।’ সেতু উদ্বোধনের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘ হায়াত কামনা করেন।

জানতে চাইলে রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহে আরেফিন বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের সবচেয়ে দীর্ঘ নানিয়ারচর সেতুটি উদ্বোধনের ফলে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘ বছরের কষ্ট লাঘব হলো।’

৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশনের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মুহম্মদ সাইফুর রহমান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নানিয়ারচর সেতুর মাধ্যমে এ অঞ্চলের চারটি উপজেলাসহ জেলার সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে। সেতুটি পর্যটন ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সাংসদ দীপংকর তালুকদার সেতুটির জন্য প্রধানমন্ত্রী ও সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

নানিয়ারচর সেতু প্রকল্প অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে সেতুর নির্মাণের দায়িত্বে ছিলেন সেনাবাহিনীর ৩৪ ইসি ব্রিগেডের ২০ ইঞ্জিনিয়ার্স কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (ইসিবি)। ৫০০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৯ দশমিক ৮ মিটার প্রস্থের সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২২৭ কোটি ৬১ লাখ টাকা। ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়।

উল্লেখ্য, রাঙামাটি থেকে বাঘাইছড়িতে সড়কপথে যেতে পারি দিতে হতো প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পথ। লংগদু যেতেও প্রায় ১৪০ কিলোমিটার পথ পারি দিতে হয়। এই উপজেলাগুলোর সঙ্গে রাঙামাটি সদরের কোনো বাস সার্ভিস চালু নেই। নৌপথেই একমাত্র ভরসা ছিল। কিন্তু নানিয়ারচর সেতুর মাধ্যমে সেই দুর্গম পরিস্থিতি অনেকটাই লাঘব হবে। এখন রাঙামাটি থেকে নানিয়ারচরের হয়ে লংগদু সদরে যাওয়া যাবে। একইভাবে রাঙামাটি থেকে নানিয়ারচরের হয়ে বাঘাইছড়িতে যাওয়া যাবে। নানিয়ারচর সেতু হওয়ায় এখন এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে সরাসরি লংগদু বা বাঘাইছড়ি যাওয়া সম্ভব হবে।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    সন্ত্রাস-নাশকতা বড় গুনাহের কাজ

    প্রশাসনের দিকে অভিযোগের তির নৌকার ১০ প্রার্থীর

    আইভীতেই আস্থা অটুট

    করোনার সঙ্গে ইনফ্লুয়েঞ্জা ইউরোপে ‘টুইন্ডেমিক’

    অভিনয়শিল্পী শিমুর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার

    চীনের নজর মধ্যপ্রাচ্যে বড় চ্যালেঞ্জ যুক্তরাষ্ট্র

    নীলফামারীতে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, যুবক আটক

    আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিল শাবিপ্রবি প্রশাসন

    সৌদি আরবে পাওয়া গেল ৪৫০০ বছর আগের মহাসড়ক