Alexa
বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারি ২০২২

সেকশন

epaper
 

জলবায়ু পরিবর্তন

উপকূলে বেঁচে থাকার লড়াই

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২২, ১৩:২২

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের নদী ও খালের পানিতে লবণাক্ততা বাড়ায় এলাকায় সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার কয়েকটি এলাকার মানুষকে নৌকায় করে দূরদূরান্ত থেকে সুপেয় পানি আনতে হয়। সম্প্রতি তোলা ছবি। আজকের পত্রিকা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হুমকির মুখে উপকূলীয় অঞ্চল বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা। বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, খরা, বায়ুদূষণসহ নানাবিধ প্রতিকূলতার কারণে পরিবেশ ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে। হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি, বসতবাড়ি, গাছপালা, রাস্তাঘাট বিলীন হয়ে গেছে নদীগর্ভে। উপকূলীয় এই উপজেলার মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম চলে অবিরত।

জলবায়ু পরিবর্তনের এসব প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে টেকসই বেড়িবাঁধ, লবণাক্ততা দূরীকরণ, সরকারিভাবে পৃথক বাজেট ও জলবায়ু সহনশীল পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ৪৩৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের উপজেলাটি পানগুছি ও বলেশ্বর নদের কোল ঘেঁষে ১৬টি ইউনিয়নসহ একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এখানে জনসংখ্যা চার লাখের বেশি। সুন্দরবন ঘেঁষা এ এলাকার মানুষের জীবন কৃষি ও মাছের ওপর নির্ভরশীল।

প্রায় প্রতি বছরই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়তে হয় এই এলাকার সাধারণ মানুষকে। ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডর, ২০০৯ সালের আইলা, পরবর্তী সময়ে বুলবুল, ফনি, ইয়াসের প্রভাব কাটিয়ে এ জনপদের লাখ লাখ মানুষ এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। অব্যাহত নদীভাঙনে প্রতি বছরই শত শত বিঘা ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে। একই সঙ্গে লবণাক্ততার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সুপেয় পানির উৎস।

স্বাধীনতা পরবর্তী নদীর তীরবর্তী মোরেলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কাঁঠালতলা, গাবতলা, বারইখালীর উত্তর সুতালড়ী, বলইবুনিয়ার দোনা, শ্রেণিখালী, হোগলাবুনিয়ার বদনীভাঙ্গা, পাঠামারা, খাউলিয়ার মধ্যবরিশাল, ফাসিয়াতলা, কুমারখালী, বহরবুনিয়ার ফুলহাতা, উত্তর ফুলহাতার ঘষিয়াখালী, পুটিখালীর সোনাখালী, পঞ্চকরণের দেবরাজ, কুমারিয়াজোলা, তেলীগাতির হেড়মা ও মিস্ত্রীডাঙ্গা গ্রামের বহু মানুষ মাথা গোঁজার ঠাঁইসহ সর্বস্ব হারিয়ে অন্যত্র বসবাস করছেন। কর্মসংস্থানের তাগিদে অনেকেই শহরে চলে গেছেন।

এই উপজেলার ছোটবড় অর্ধশতাধিক খাল অস্তিত্ব হারিয়েছে। আবার অনেকটা জমির সঙ্গে মিশে গিয়ে বেদখল হয়েছে। কিছু কিছু খালের পানি প্রবাহ থাকলেও অধিকাংশ খালে বাঁধ দিয়ে আটকে মাছের ঘের করছেন এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা। ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় পোড়ানো হচ্ছে। যত্রতত্র গড়ে উঠছে করাতকল। যে কারণে বেড়েছে শব্দ দূষণ। কাটা হয়েছে রাস্তার দুই পাশের ঝড় সহনশীল তালগাছ।

দুর্যোগের সময় আশ্রয় নেওয়ার জন্য এ উপজেলায় ৮৩টি সাইক্লোন শেল্টার থাকলেও আনুপাতিক হারে তা অপ্রতুল। সুপয়ে পানিরও অভাব রয়েছে। সরকারিভাবে কিছু পুকুর পুনর্খনন হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। লবণপানি ঢুকে নষ্ট হচ্ছে ফসল।

এ উপজেলায় কিছু বেসরকারি সংস্থা জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য পানি ও স্যানিটেশন সেবার মানোন্নয়নে কাজ করছে। বেসরকারি সংস্থা ‘ডরপ পানিই জীবন’ প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী মো. শওকত চৌধুরী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে স্থানীয় চাহিদাভিত্তিক বাজেট ও পরিকল্পনা প্রয়োজন। সাধারণ মানুষের জন্য বিকল্প আয়ের উৎস তৈরি করা দরকার। প্রতিটি ঘরে সুপেয় পানি পৌঁছানোর জন্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

ওয়াশ বাজেট মনিটরিং ক্লাবের সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, বিশুদ্ধ পানির পর্যাপ্ততা বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট নীতি নির্ধারকদের প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সিফাত আল মারুফ বলেন, এ উপজেলায় ৩৩ হাজার ১৫০ হেক্টর আবাদি জমি রয়েছে। তবে লবণাক্ততার কারণে বহরবুনিয়া, বারইখালী ও জিউধরা ইউনিয়নে ধানের উৎপাদন কমে গেছে। এসব এলাকায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ হলে ১ হাজার হেক্টর ধান আবাদ বাড়বে।

স্লুইসগেটগুলো রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকি স্থায়ী জনবলের মাধ্যমে করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান বলেন, উপকূলীয় এ উপজেলায় দুর্যোগ সহনীয় ৮৩টি সাইক্লোন শেল্টার রয়েছে। এর সংখ্যা আরও বাড়ানোর জন্য চাহিদা অনুযায়ী অধিদপ্তরে তালিকা পাঠানো হয়েছে। নদীগর্ভে বাস্তুভিটা হারানোদের সরকারিভাবে পুনর্বাসন করার পরিকল্পনা রয়েছে। রাস্তার দুই পাশে চলতি অর্থ বছরে কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের মাধ্যমে তালগাছের চারা রোপণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, সুপেয় পানির জন্য ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৪০টি পুকুর সরকারিভাবে পুনর্খনন করা হয়েছে। জেলা পরিষদের মাধ্যমে নতুন তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য এ উপজেলায় ইতিমধ্যে ৩ হাজার লিটারের ১ হাজার ৫০০টি ট্যাংকি বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলায় আরও ৫ হাজার ট্যাংক পাওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ১০০ বছরের পুরোনো খালগুলোকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে তালিকা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ভরাট হয়ে যাওয়া সুপেয় পানির উৎস খাস জমির পুকুরগুলো পুনর্খননের কাজ চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে জেলা পরিষদ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ও বিএডিসিসহ চারটি দপ্তরই মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    দোয়া সফলতার হাতিয়ার

    শ্রীবরদীতে সারের কৃত্রিম সংকট, বেশি দামে বিক্রি

    ফ্যাশনেবল ফিউশন

    নিরাপদ অভিবাসন নিয়ে কর্মশালা

    ঘাটাইলে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ৩ অবৈধ ইটভাটা

    বিআরটিএর অভিযান: স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ২৪ বাসে মামলা

    মানিকগঞ্জে কৃষক শাইজুদ্দিন হত্যা মামলায় ১ জনের ফাঁসির আদেশ

    শার্শায় শাকিব হত্যার ৩ আসামি গ্রেপ্তার

    গ্রাহক সেবা বাড়াতে আমাজনের সঙ্গে চুক্তি করছে টেলিনর

    রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ক্যাম্প চালু করল হোপ’ ৮৭ 

    কিংবদন্তিদের মেলায় যাওয়া হচ্ছে না রফিক সুমনদের